ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা তাঁতী লীগের আহবায়ক ও স্থানীয় নিরাময় ক্লিনিকের মালিক বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক চিকিৎসককে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে ক্লিনিকের মালিক ও উপজেলা তাঁতীলীগের নেতা বিপ্লব সরকারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।পুলিশ ক্লিনিকটিকে সিলগালা করে দিয়েছে।
নিহত চিকিৎসকের বাড়ি উপজেলার তারাটির এরাইজতলা গ্রামে। তিনি ঐ ক্লিনিকের নিয়মিত চিকিৎসক ছিলেন। সম্প্রতি ওই চিকিৎসক নিজেই নতুন ক্লিনিক দিতে চাইলে সেই থেকে দ্বন্দ্বে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নিহত চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী সালমা মোস্তাফিজ বলেন, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহরের পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন এলাকার নিরাময় ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে নিয়মিত মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। সে ওই ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় তার বাড়িতে জুনায়েদ ডায়াগনোস্টিক নামে একটি ক্লিনিক খোলার প্রস্তুতি নেয়। এর পর থেকেই নিরাময় ক্লিনিকের মালিক ও উপজেলা তাঁতীলীগের আহবায়ক বিপ্লব সরকারের সাথে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল। ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের ক্রয়কৃত ক্লিনিকের সকল মালামাল নেওয়ারও নানা ফন্দি আঁটে বিপ্লব সরকার। এ ধরণের ঘটনার পর থেকে ডা.মোস্তাফিজুর রহমার ওই ক্লিনিকে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে কৌশলে ওই ক্লিনিকের তৃপ্তি নামে এক নার্স দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে ডেকে নেওয়া হয় নিরাময় ক্লিনিকে। ওইদিন রাতে বাড়ি না ফেরায় মোস্তাফিজের স্ত্রী সালমা মোস্তাফিজ তার মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দেওয়ার পর ক্লিনিকের মলিক বিপ্লব সরকার ফোন রিসিভ করে তাকে জানায় মোস্তাফিজ রোগী নিয়ে ব্যস্ত। ওই রাতে মোবাইল ফোনে তাকে আর পায়নি তার স্ত্রী। পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি প্রাইভেটকার করে তাকে বাড়ি পৌছে দেয় ক্লিনিক মালিক বিপ্লব সরকার। এর পর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওইদিনই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে সে মারা যায়।
স্ত্রী সালমা আরও বলেন, তার স্বামীকে কৌশলে খাদ্যের সাথে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার মুখে বিষের আলামতও পেয়েছে। তার অপরাধ ছিল সে ক্লিনিক খোলার প্রস্তুতি নেওয়া।
এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক বিপ্লব সরকার, আল্টাসনোলিস্ট ডা. মাজহারুল ইসলাম মাসুম ও নার্স সুমি আক্তারকে আসামী করে মুক্তাগাছা থানায় শনিবার রাতে হত্যা মামলা হয়েছে। এদিকে ঐ ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার আড়ালে নারী ঘটিত বিভিন্ন কর্মকান্ডসহ নানা অসামাজিক কাজকর্ম চলতো বলে স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লিনিক মালিক বিপ্লব সরকার আগে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। কিছুদিন আগে ক্ষতাসীন দলের একটি অংশের হাত ধরে তিনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন এবং তাঁতী লীগের নেতা হন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিকসহ তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান





















