করোনাভাইরাস নিয়ে অসংলগ্ন ও অজ্ঞতাপ্রসূত জেদি কথাবার্তা বলেই যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন তো বটেই খোদ হোয়াইট হাউসও অত্যন্ত বিব্রত। এ পরিস্থিতিতে তাকে দৈনিক ব্রিফিংয়ে হাজির না হওয়ার অনুরোধ করছেন তারা। অবশ্য এর আগেও তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল কিন্তু বলতে গেলে একপ্রকার জোর করেই তিনি এটি চালিয়ে যাচ্ছেন।
করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতির হালনাগাদ নিয়ে দৈনিক ব্রিফিং করলেও ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনগুলো অস্বাভাবিক দীর্ঘ হয়। তিনি যেন মাইক্রোফোন ধরলে আর ছাড়তেই চান না! হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা দেখছেন, এই ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প যা বলেন তাতে বিষয়টি হাতের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে একটি রাজনৈতিক ঘটনায় পর্যবসিত হচ্ছে।
সম্ভবত কর্মকর্তা ও সহচরদের প্রচেষ্টাতেই গতকাল শুক্রবারের ব্রিফিং ছিল করোনা মহামারী শুরুর পর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত। মাত্র ২২ মিনিটে ব্রিফিং শেষ করেন তিনি। এর আগের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংটি ছিল ৩২ মিনিটের।
আগের দিনের ব্রিফিংয়ে জীবাণুনাশক অথবা অতিবেগুনী রশ্মি দিয়ে শরীর থেকে করোনাভাইরাস নিধন করা যায় কিনা তা গবেষকদের ভেবে দেখার পরামর্শ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এসময় তার পাশেই উপবিষ্ট করোনা ট্রাস্কফোর্স সমন্বয়ক ড. ডেবোরা বারক্সকে খুবই বিব্রত বোধ করতে দেখা যায়।
প্রেসিডেন্ট মাইক্রোফোন নেয়ার আগে ড. ডেবোরা করোনাভাইরাস নিয়ে মার্কিন গবেষকদের সর্বশেষ গবেষণা পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে এ ভাইরাস প্রখর সূযালোক, গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশিক্ষণ বাঁচে না। তাছাড়া ব্লিচের মতো জীবাণুনাশকেও দ্রুত মারা যায়।
কিন্তু প্রেসিডেন্টে এ পর্যবেক্ষণের প্রায়োগিক সম্ভাবনা পর্যন্ত এগিয়ে যান। তিনি জীবাণুনাশক অথবা অতিবেগুনী রশ্মি প্রয়োগ করে আক্রান্তকে ভাইরাসমুক্ত করা যায় কিনা পরীক্ষা করে দেখতে বলেন।
এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসংস্থা, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এটি শুধু অজ্ঞতাপ্রসূত নয় সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনকও বটে- এমন সতর্কবার্তা দেন তারা।
প্রেসিডেন্টের এমন লাগামছাড়া বক্তব্য থামাতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন তার সহচার ও সহযোগী শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্যই দিয়েছে সিএনএন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

























