০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি হাসনাতের

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও এলাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছা থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।’

তিনি লেখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটার মানে কোনো বিপদ হলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মোবাইল নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবে না।’

এছাড়া ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক তা কোনো কাজে দেবে না মন্তব্য করে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন, অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবেন, তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়ত এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ যাতে করতে না পারে, সেজন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেয়া। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’

হাসনাতের মতো একই দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনিও ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায় বা প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিল—এ প্রশ্ন অনিবার্য। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ মানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তার তথ্য বা ফুটেজ ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। এটি নব্য ফ্যাসিজমের মতো নাগরিকদের তথ্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।’

দেশের তরুণদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আপনাদের আওয়াজ তুলে নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ সেবার জন্য নয়। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করুক।’

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন।

 

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুষ্টিয়া-১ আসনে নিরাপত্তা শঙ্কা: ১৩৫ কেন্দ্রের ৬৬টিই ঝুঁকিপূর্ণ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি হাসনাতের

প্রকাশিত : ০১:৩৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও এলাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছা থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।’

তিনি লেখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটার মানে কোনো বিপদ হলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মোবাইল নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবে না।’

এছাড়া ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক তা কোনো কাজে দেবে না মন্তব্য করে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবেন, অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবেন, তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়ত এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ যাতে করতে না পারে, সেজন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেয়া। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’

হাসনাতের মতো একই দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনিও ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।

পোস্টে সাদিক কায়েম লেখেন, ‘বিএনসিসি প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায় বা প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিল—এ প্রশ্ন অনিবার্য। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ মানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও তার তথ্য বা ফুটেজ ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। এটি নব্য ফ্যাসিজমের মতো নাগরিকদের তথ্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।’

দেশের তরুণদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আপনাদের আওয়াজ তুলে নাগরিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ সেবার জন্য নয়। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করুক।’

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন।

 

ডিএস./