বৈশ্বিক মহামারী করোণা ভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সৌদি আরবে রিয়াদ দূতাবাস ও জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনসুলেট এর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশটি ৩ হাজার ৭১৭ জন বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
যার মধ্যে সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় এই পর্যন্ত ৫৫ জন বাংলাদেশির মারা গেছেন। গত ২ মার্চ থেকে সৌদি আরবে আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা শনাক্ত শুরু হহবার পর থেকে এই আজ পর্যন্ত দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩ জন বিদেশি এবং সৌদি নাগরিকের করোনাভাইরাস টেস্ট করেছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ ৫ই মে ২০২০ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৯৫জন, মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ২ শত ৫১ জন।
এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২০০ জন এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ৫ হাজার ৪ শত ৩১জন। আক্রান্তের মধ্যে ৮৫ শতাংশ বিদেশি এবং ১৫ শতাংশ সৌদি নাগরিক বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য রমজান উপলক্ষে সৌদি সরকার আগামী ১৩ মে পর্যন্ত সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল এবং শপিং মল খুলে দেয়া হয়েছে। শুরুর দিকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও গত কিছুদিন ধরে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা সংক্রমণের পরিক্ষা চালাচ্ছে এতে আক্রান্তের সংখ্যা গত উর্ধ্বমুখি।
প্রতিদিনই এক দেড়শ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও অনেক বেশি। সৌদিতে আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে মক্কা। শহরটিতে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮৪৮ জন, রিয়াদে ৫ হাজার ১৫২ জন, জেদ্দায় ৫ হাজার ৩৩ জন, মদিনায় ৪ হাজার ৬৪৬৮ জন, দাম্মামে ২ হাজার ৪৫ জন, হুফুফে ১ হাজার ৪২০ জন, এছাড়া অন্যান্য শহরেও আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা পাওয়া গেছে।
এদিকে দূতাবাসের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত বিমান চলাচল বন্ধ, স্থানীয় অফিস-আদালত বন্ধ, লাশ সংরক্ষণে হিমঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং অন্যন্য নানা কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ বাংলাদেশে প্রেরণ করা সম্ভব হবে না। তাই সব মরদেহ স্থানীয়ভাবে সৌদি আরবে দাফনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জুবাইল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে নতুন নির্দেশনা মোতাবেক প্রতি এলাকার পুলিশ/ট্রাফিক, হাসপাতাল এবং গভর্নর অফিসের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যারা ৩-৭ দিনের মধ্যে পুরোনো যে কোনো লাশ দাফন করতে পারবে। মৃতের পরিবার দাফনের অনুমতি না দিলে দূতাবাস এনওসি (অনাপত্তি পত্র) ইস্যু করে না। আর এনওসি ইস্যু না হলে মৃত্যু সনদসহ অন্যন্য কাগজপত্র ইস্যু হবে না।
এনওসি ও অন্যন্য কাগজপত্র ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডে জমা দিতে না পারলে পূর্বঘোষিত এককালীন সাহায্য ৩ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে- এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এমতাবস্থায় বিভিন্ন কারণে সৌদিতে মারা যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ স্থানীয়ভাবে দাফন করার অনুমতি দিতে মৃতদের পরিবারের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস ও জেদ্দা কনস্যুলেট ।

























