০১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে ঈদের আগে খুলছেনা  কোনো মার্কেট!!

নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ঈদের  আগে কোন মার্কেন না খোলার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এমনকি বন্ধ থাকছে নগরীর কাপড়ের সর্ববৃহৎ পাইকারী মোকাম টেরিবাজারও। মার্কেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমুন্ডি লেইনের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতি।

আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে নগরীর সকল মার্কেটের দোকান মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ বৈঠকে প্রায় ৩০০ মার্কেট ও দোকান মালিক উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঈদের আগে সরকার মার্কেটগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। সাথে সাথে জনস্বার্থ চিন্তা করে স্বাস্থ্যবিধি মানারও নির্দেশনা দিয়েছিল। আজকের (শনিবার) বৈঠকে আমরা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে সরকারের দেওয়া শর্তগুলো দিয়েছি। তারা সার্বিক দিক বিবেচনায় মার্কেট বন্ধ রাখার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আমরা জানিয়ে দিয়েছি, যদি মার্কেট কেউ খুলে তাহলে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে মার্কেট বন্ধসহ সংক্রমণ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণসংযোগ) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বৈঠকে আলোচিত স্বাস্থ্য বিধির মধ্যে ছিল ক্রেতা বিক্রেতা সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়া, পর্যাপ্ত সেনিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা, থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখা, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাটাকা নিশ্চিতসহ করোনা সংক্রমিত না হয় যাবতীয় সুব্যবস্থা রাখা। কোন মার্কেটে যদি স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হয় সাথে সাথে মার্কেট বন্ধ করে সংক্রমনের আইনে মামলাসহ ব্যবস্থা নেওয়া কথাও উল্লেখ করা হয়।’

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা তা মানা সম্ভব নয় বলেই মূলত মার্কেট খোলা না রাখার ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ঈদের বাজারে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন সুযোগ থাকবেনা। তাই ঝুঁকি এড়াতে তারা মার্কেট বন্ধ রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন।

এদিকে মার্কেট খোলা রেখে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি না মানলে প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সংক্রমণ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান।

টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘করোনার এমন পরিস্থিতিতে মার্কেট খোলা নিয়ে আমাদের বৈঠক ছিলো পুলিশ কমিশনারের সাথে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টেরি বাজার, রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমুন্ডি লেইনসহ সকল মার্কেট বন্ধ থাকবে। যদি কেউ মার্কেট খোলা রাখে তাহলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১৩টি শর্ত মেনেই খুলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ঝুঁকি না নিয়ে ব্যবসায়ীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব মার্কেট বন্ধ রাখার।’

প্রসঙ্গত ৮ মার্চ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকায় ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। সেদিন থেকেই মূলত দেশের সকল শপিংমল, মার্কেট বন্ধ রয়েছে। ঈদের বেচাবিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার গতসপ্তাহে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসওে মার্কেট খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভালুকায় বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ

চট্টগ্রামে ঈদের আগে খুলছেনা  কোনো মার্কেট!!

প্রকাশিত : ১০:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২০

নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সার্বিক দিক বিবেচনা করে ঈদের  আগে কোন মার্কেন না খোলার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এমনকি বন্ধ থাকছে নগরীর কাপড়ের সর্ববৃহৎ পাইকারী মোকাম টেরিবাজারও। মার্কেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমুন্ডি লেইনের ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতি।

আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে নগরীর সকল মার্কেটের দোকান মালিক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের যৌথ বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ বৈঠকে প্রায় ৩০০ মার্কেট ও দোকান মালিক উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঈদের আগে সরকার মার্কেটগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। সাথে সাথে জনস্বার্থ চিন্তা করে স্বাস্থ্যবিধি মানারও নির্দেশনা দিয়েছিল। আজকের (শনিবার) বৈঠকে আমরা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে সরকারের দেওয়া শর্তগুলো দিয়েছি। তারা সার্বিক দিক বিবেচনায় মার্কেট বন্ধ রাখার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। আমরা জানিয়ে দিয়েছি, যদি মার্কেট কেউ খুলে তাহলে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে মার্কেট বন্ধসহ সংক্রমণ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণসংযোগ) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘বৈঠকে আলোচিত স্বাস্থ্য বিধির মধ্যে ছিল ক্রেতা বিক্রেতা সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়া, পর্যাপ্ত সেনিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা, থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা রাখা, নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাটাকা নিশ্চিতসহ করোনা সংক্রমিত না হয় যাবতীয় সুব্যবস্থা রাখা। কোন মার্কেটে যদি স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হয় সাথে সাথে মার্কেট বন্ধ করে সংক্রমনের আইনে মামলাসহ ব্যবস্থা নেওয়া কথাও উল্লেখ করা হয়।’

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা তা মানা সম্ভব নয় বলেই মূলত মার্কেট খোলা না রাখার ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ঈদের বাজারে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন সুযোগ থাকবেনা। তাই ঝুঁকি এড়াতে তারা মার্কেট বন্ধ রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন।

এদিকে মার্কেট খোলা রেখে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি না মানলে প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সংক্রমণ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান।

টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘করোনার এমন পরিস্থিতিতে মার্কেট খোলা নিয়ে আমাদের বৈঠক ছিলো পুলিশ কমিশনারের সাথে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টেরি বাজার, রিয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমুন্ডি লেইনসহ সকল মার্কেট বন্ধ থাকবে। যদি কেউ মার্কেট খোলা রাখে তাহলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১৩টি শর্ত মেনেই খুলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ঝুঁকি না নিয়ে ব্যবসায়ীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব মার্কেট বন্ধ রাখার।’

প্রসঙ্গত ৮ মার্চ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকায় ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। সেদিন থেকেই মূলত দেশের সকল শপিংমল, মার্কেট বন্ধ রয়েছে। ঈদের বেচাবিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার গতসপ্তাহে শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসওে মার্কেট খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।