০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে ত্রাণের দাবীতে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আর্থিক সহযোগিতা ও ত্রাণের দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মনজিল পরিবহনের শ্রমিকরা। রবিবার (১০ মে) দুপুর ২টায় সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় কাঁচপুর পশ্চিম ঢালে মনজিল পরিবহনের দুই শতাধিক চালক-শ্রমিক প্রায় আধা ঘন্টা সড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রাস্তার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাময়িক যানযট সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সড়িয়ে দিলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় দেড় মাস যাবৎ যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের মনজিল পরিবহনের প্রায় দুই আড়াইশ শ্রমিক কর্ম না থাকায় উপার্জনহীন হয়ে মা-বা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সরকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে ত্রাণ সামগ্রীসহ আর্থিক সহযোগিতা করছে কিন্তু আমরা কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের মনজিল পরিবহনের মালিকসহ শ্রমিক নেতাদের দ্বারস্থ হলেও তারা কোন সাড়া দিচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবী যেন আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ায়। বাসায় অভুক্ত স্ত্রী ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকালে খুব কষ্ট লাগে। সবাই আমাদের রক্ত চুষে খায় কিন্তু আমাদের দ:সময়ে কেউ পাশে নেই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানায়, লকডাউন হওয়ার পর থেকে মালিকরা শ্রমিকদের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না তাই শ্রমিকরা গতকালও কিছু সময়ের জন্য রাস্তা ব্যারিকেড দিয়েছিল।

পরে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছিল যে আজ সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে একটা রেজাল্ট দিবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন যোগাযোগ না করায় শ্রমিকরা বেতন-ভাতাসহ ত্রাণের দাবীতে সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছিল। খবর পেয়ে আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে তাদের সাথে কথা বলে আশ^াস দিয়েছি যে আপনারা মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেন।

আমি চেষ্টা করব আপনারা যাতে বেতনটা পান। এরআগেও আমি কিছু শ্রমিকদেরকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছিলাম, দেখি তাদের জন্য কিছু করতে পারি কিনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

টানা ৮ মাস কমার পর এপ্রিলে বেড়েছে রপ্তানি আয়

সিদ্ধিরগঞ্জে ত্রাণের দাবীতে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত : ০৫:০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২০

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আর্থিক সহযোগিতা ও ত্রাণের দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মনজিল পরিবহনের শ্রমিকরা। রবিবার (১০ মে) দুপুর ২টায় সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় কাঁচপুর পশ্চিম ঢালে মনজিল পরিবহনের দুই শতাধিক চালক-শ্রমিক প্রায় আধা ঘন্টা সড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। রাস্তার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাময়িক যানযট সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফ্ফর হোসেন ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শ্রমিকদেরকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সড়িয়ে দিলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষুব্দ শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় দেড় মাস যাবৎ যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের মনজিল পরিবহনের প্রায় দুই আড়াইশ শ্রমিক কর্ম না থাকায় উপার্জনহীন হয়ে মা-বা, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সরকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে ত্রাণ সামগ্রীসহ আর্থিক সহযোগিতা করছে কিন্তু আমরা কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের মনজিল পরিবহনের মালিকসহ শ্রমিক নেতাদের দ্বারস্থ হলেও তারা কোন সাড়া দিচ্ছে না। তাই নিরুপায় হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবী যেন আমাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ায়। বাসায় অভুক্ত স্ত্রী ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকালে খুব কষ্ট লাগে। সবাই আমাদের রক্ত চুষে খায় কিন্তু আমাদের দ:সময়ে কেউ পাশে নেই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানায়, লকডাউন হওয়ার পর থেকে মালিকরা শ্রমিকদের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না তাই শ্রমিকরা গতকালও কিছু সময়ের জন্য রাস্তা ব্যারিকেড দিয়েছিল।

পরে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছিল যে আজ সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে একটা রেজাল্ট দিবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন যোগাযোগ না করায় শ্রমিকরা বেতন-ভাতাসহ ত্রাণের দাবীতে সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছিল। খবর পেয়ে আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে এসে তাদের সাথে কথা বলে আশ^াস দিয়েছি যে আপনারা মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দেন।

আমি চেষ্টা করব আপনারা যাতে বেতনটা পান। এরআগেও আমি কিছু শ্রমিকদেরকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছিলাম, দেখি তাদের জন্য কিছু করতে পারি কিনা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ