নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নগরীর কোতোয়ালি থানা। এখন সিএমপির অন্য থানাগুলোর রোল মডেল বলা যায়।‘বাঘে ছুঁলে আঠেরো ঘা, আর পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা!’ পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণাকে বদলে দিচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার অনন্য পুলিশিং সেবা
ওসি মোহাম্মদ মহসীন যোগ দেয়ার পর থেকে এই থানাকে গড়ে তুলেছেন একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে। নিয়িমিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নগরবাসীকে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে পুলিশি সেবা।
নানা মানবিক সেবা নিয়ে পৌঁছে গেছে মানুষের দোর গোঁড়ায় । নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ বিতরণ, হাসপাতালে রোগী পৌঁছে দেয়া, বাসায় বাজার পৌঁছে দেয়া, রাতে বাসায় তৈরি খাবার পৌঁছে দেয়া, অসহায় মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা, করোনা রোগীকে হোম কোয়ারান্টাইন পালনে উৎসাহ দিতে বাসায় ফল নিয়ে যাওয়া, নগরবাসীকে নিরাপদে ঘরে রাখতে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ওসি মহসিনের নেতৃত্বে টিম কোতোয়ালী। সব কিছুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ওসি মহসিন ও টিম কোতোয়ালী। মোট কথা পুলিশ সম্পর্কে মানুষের ধারনাটাই বদলে দিয়েছে।
আজ সিএমপির সকল থানা তথা বাংলাদেশের কম বেশি সকল থানা পুলিশ এক কাতারে এসে সামিল হয়েছে। সেবাই পুলিশের ধর্ম । পুলিশ জনগনের বন্ধু। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ তা করে দেখিয়েছে। মোট কথা জাতির ত্রাণ কর্তার ভুমিকা পালন করছে পুলিশ। জনগনের প্রকৃত বন্ধু আজ পুলিশ। কর্তব্য পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ বাহিনীর বেশ কয়েকজন প্রাণ দিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজারের বেশী। তবুও করোনার ভয়কে জয় করে সিএমপি তথা পুরো পুলিশ বাহিনী মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
করোনা পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দেশে গত ২৬ মার্চ শুরু হয়েছে রোজা এ যেন অন্য রকম রমজান। প্রতিবছর দেখা এমন দিনে দুপুর থেকেই ফুটপাতে ইফতারের পসরা সাজিয়ে শুরু হয় বেচা কেনা। এবার সেই চিরচেনা ইফতারের কোন আয়োজন নেই। করোনার কারনে এ বছর সরকারি নির্দেশনা মেনে ইফতারির বাজার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসছে। কোন অবস্থায় নির্দিষ্ট দোকান ছাড়া ফুটপাতে ইফতারির বাজার বসতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে ফুটপাতগুলোতে নেই ইফতারের দোকান।
ইতিমধ্যে বেশ কিছু লোক মারা গেছে আর সংক্রমনের সংখ্যা বেড়েই চলছে ক্রমাগত। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশবাসীকে ঘরে থাকার যে নির্দেশ সরকার দিয়েছে, এটাকে সফল করতে রমজানে ফুটপাতে বা দোকানে ইফতার সামগ্রী বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে কোথাও ইফতার সামগ্রী নিয়ে রাস্তায়, ফুটপাতে বা দোকানে বসতে দেখা যায়নি কাউকে।
ফলে অনেকটাই বেকাদায় পড়েছে কম আয়ের ছিন্নমুল অসহায় মানুষ গুলো যারা ফুটপাত থেকে ইফতার কিনে রোজা সাড়ে। কিন্তু ফুটপাতে দোকান না বসাতে ও কর্মহীন হয়ে পড়ার কারনে অসহায় মানুষ গুলোর রোজা রাখা ও ইফতার করাটা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল । আর এই অসহায় মানুষ গুলোর কথা চিন্তা করে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন হাতে নিয়েছেন আরেকটি মানবিক কাজ। চালু করলেন ব্যতিক্রমি ভ্রাম্যমাণ ইফতার পার্টি। প্রতিদিন ইফতার নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই অসহায় মানুষ গুলোর পাশে। যা মানবিকতার এক অনন্য নজির।
ছবিটি দেখে মনে হবে এটা কোন হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্ট এর চিত্র। বিপণনের জন্য খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। না এটি কোতোয়ালী থানার রান্নাঘর! সিএমপির কোতোয়ালি থানায় প্রতিদিনই এভাবে তৈরি হচ্ছে ১০০ জনের জন্য ইফতার। আর সে ইফতার নিয়ে টিম কোতোয়ালী হাজির হচ্ছে অসহায়দের মাঝে। টিম কোতোয়ালীর নিজস্ব অর্থায়নে নিজেরাই প্রস্তুত করে ইফতার নগরীর রাস্তায় রাস্তায়, অলিতে গলিতে অসহায়দের মাঝে বিতরণ করছে। আর এই আয়োজনের নাম দিয়েছে ‘ভ্রাম্যমাণ ইফতার পার্টি ।এটাকে ব্যতিক্রমী ইফতার পার্টি বলা চলে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, প্রতিবছরই আমরা কোতোয়ালী থানার উদ্ধেগে ইফতার পার্টি করে থাকি। এবারও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে তবে আয়োজনে এসেছে ভিন্নতা। অতিথি তালিকায় নেই কোন ভিএইপি, নেই কোন ব্যবসায়ী নেতা বা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউ। এবার আমরা ইফতার পার্টি করছি পথে পথে, অলিতে গলিতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে! নাম দিয়েছি ভ্রাম্যমান ইফতার পার্টি । পথই যাদের ঠিকানা মুলত তাদের জন্যই নিজেরা তৈরি করে ইফতার নিয়ে হাজির হচ্ছি অসহায় মানুষগুলোর পাশে।আমরাও তাদের সাথে ইফতার করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ ইফতারের গাড়ি নিয়ে রোজাদার অতিথিদের খুঁজে নিবে টিম কোতোয়ালি। পৌঁছে দিবে তাদের হাতে ইফতার সামগ্রী। পুরো রমজান মাস জুড়ে ধারাবাহিকভাবে চলবে এই আয়োজন। রোজার প্রথম দিন থেকে এই সব অতিথির মাঝে ইফতার বিতরন করা হচ্ছে। পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মানুষের জন্য কিছু করা এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই আমাদের বড় পাওনা।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান



















