বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ
করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের উপসর্গ নিয়ে মৃত বাবার লাশ বিশ্ব বিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তান স্পর্শ করতে রাজি না হলেও নিজ হাতে সেই লাশের সৎকার করে সাহসিতকা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন নড়াইলের কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদা। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন বিশ^জিৎ রায় চৌধুরী (৫০)। গত ৭মে তিনি জ্বর শ্¦াসকষ্ট ও গলাব্যথা নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চোরখালি উত্তরপাড়া গ্রামে স্বজনদের কাছে চলে আসেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্বজনরা তাকে বাড়ির অদুরে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে আটকে রাখালে শনিবার (৯মে) রাতে তিনি সকলের অজানতেই মারা যান। ঢাকায় চাকুরীরত এক আত্মীয় তার অসুস্থ্যতা খবর পেয়ে রোববার সকালে বিশ্বজিতকে একাধিকবার ফোন দিলেও সে ফোন রিসিভ না করায় ওই আত্মীয় ঘটনাটি কালিয়ার ইউএনও মো. নাজমুল হুদাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পৌছে বদ্ধ ঘরের দুয়ার খুলে বিশ্বজিতের লাশটি উদ্ধার করলেও বিশ্ব বিদ্যালয় পড়–য়া তার একমাত্র সন্তান প্রদীপ রায় চৌধুরীসহ পরিবারের কেউই তার মরদেহের কাছে আসাতো দুরের কথা সৎকারের জন্যও এগিয়ে আসেনি। অবশেষে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সহযোগিতায় ইউএনও ভ্যানে তুলে নিজেই ওই লাশ বহন করে শ্মশানে নিয়ে সৎকার করেছেন। এই প্রথম কালিয়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিকে নিজ দায়িত্বে সৎকার করে ইউএনও যে সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন তা এখন উপজেলা জুড়ে আলোচনার খোরাকে পরিনত হয়েছে।
কালিয়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও দৈনিক খবরের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি শেখ ফসিয়ার রহমান বলেছেন, মৃত বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা পোষাক পিপিই দেয়া হলেও তারা কেউ লাশের সৎকার তো দুরের কথা মুখ দেখতেও রাজি হননি। এমনকি বিশ্বজিতের একমাত্র সন্তান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র প্রদীপ রায়কেও অনুরোধ করে রাজি করানো যায়নি। অবশেষে ইউএনও নাজমুল হুদা ও ফসিয়ার রহমান পরিত্যক্ত বদ্ধঘর থেকে বিশ্বজিতের মরদেহ বের করে চোরখালি শ্বশানে নিয়ে গেলেও প্রদীপ মৃত বাবার মুখে আগুন দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। ইউএনও নাজমুল হুদার অনুরোধ বাব বার উপেক্ষার পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহনের হুমকি দিলে প্রদীপ দূর থেকে লম্বা পাটকাঠি দিয়ে বাবার মুখে অগ্নি সংযোগ করে চলে যায়। তারপর ভ্যানচালক, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কয়েক জনকে নিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করেন ইউএনও। স্থানীয়রা ইউএনও মো. নাজমুল হুদার সাহসী ওই ভ’মিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে পড়েছেন। বিশ্বজিতের করুন মৃত্যু ও সৎাকারে ইউএনওর ভ’মিকার ঘটনাটি এখন উপজেলার সকল মহলে আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তুতে পরিনত হয়েছে।
কালিয়া উপজেলার ইউএনও নাজমুল হুদা বলেন, এমন অবস্থায় পড়তে হবে কখনো ভাবিনি। করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে লাশটি সৎকারে কেউ সহযোগিতা করেননি। এমনকি বিশ্বজিতের ভাই ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছেলেও এগিয়ে আসেনি। হিন্দু ধর্মের প্রথা পালনের জন্য অনেক অনুরোধে কাজ না হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের ভয় দেখিয়ে ছেলে প্রদীপকে দিয়ে লম্বা পাটকাঠির মাধ্যমে দুর থেকে শুধুমাত্র মূখাগ্নিটা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। মরদেহ ঘর থেকে বের করা ও চিতায় তোলাসহ সব কাজই তিনি নিজের হাতে করেছেন বলে জানিয়েছেন। আতংকিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেছেন তিনি।



















