চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে এক জন কোরআনের হাফেজ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তি উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ইলশা গ্রামের নেছার আহমদ এর পুত্র হাফেজ মাওলানা মু. খালেদ (২৫)। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একই এলাকার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ঝন্টু গ্রুপ ও মদিনা ব্রীকফিল্ড এর মালিক নুরুল আবছার গ্রুপের সাথে ব্রীক ফিল্ড ও সমাজের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে ১২ মে রাত সাড়ে ৯টার সময় নুরুল আবছার গ্রুপ ঝন্টু গ্রুফের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় নুরুল আবছার গ্রুপের গুলিতে হাফেজ মাওলানা মু.খালেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। উক্ত ঘটনায় আহতদের মধ্যে আরো এক জনকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। গুরুতর আহত মুহাম্মদ ইব্রাহিম (২৮) ওই এলাকার মুহাম্মদ আবু ছালেক এর পুত্র বলে জানা যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহারছড়া ইউপির পূর্ব ইলশা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ মিয়ার পুত্র ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন ঝুন্টুর সাথে সমাজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই এলাকার দলিলুর রহমানের পুত্র নুরুল আবছারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই জের ধরে গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তারাবিহ নামাযের পর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে অন্তত আরো ২ জন। ইলশা গ্রামে এর পূর্বেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। নুরুল আবছার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে স্থানীয়দের উপর জুলম, অত্যাচার করতো বলে স্থানীয়রা জানায় ।
মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অহেতুক ঘটনার সৃষ্টি করেন বলেও জানায় স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম মজুমদার পূর্ব ইলশা গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় এক যুবকের নিহতের বিষয় সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি । লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চমেকে প্রেরণ করেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য গতকাল সকালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দক্ষিণ সাধনপুরে এক ট্রাক চালক খুন হওয়ার একদিন পূর্ণ না হতেই বাহারছড়া ইলশা গ্রামে এই খুনের ঘটনা ঘটে। কোরআনের হাফেজে খুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে



















