করোনাভাইরাসের কারনে গৃহবন্দি থাকা বাংলাদেশ অটো রিকশা হালকাজান পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল বিকেলে নগরীর দেওয়ানহাট মোড়, একে খান মোড়, বাদুরতলা বড় গেরেজ ও জিইসি রুটে চলাচলরত এসব হালকা অটো রিকশা পরিবহন শ্রমিকদের এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মোরশেদ আলম, জহুরুল আলম জসিম, শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ অটো রিকশা হালকাজান পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি শাহ আলম হাওলাদার, নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ সোলাইমান, ইয়াছিন মিয়াজী, মোহাম্মদ মনির প্রমুখ। এসময় মেয়র বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে পরিবহন শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছেন।
পাশাপাশি অনেক পরিবহন মালিকও অভাব অনটনে রয়েছেন। এসব পরিবারগুলোর কথা বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার দিনে আনি দিনে খাই এমন শ্রমিকদের জন্য নগদ অর্থ প্রদান সহায়তা সেবা চালু করেছেন যা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় ২ হাজার লোক এই সেবার আওতায় আসবে।
মেয়র সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে বলেন, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সামান্য উপেক্ষা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই সকর্ত থাকার কোন বিকল্প নেই। অবস্থাদৃস্টে মনে হচ্ছে করোনার সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। এই রোগের সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কার্যকর ব্যবস্থা। সাধারণ ছুটি কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করার পর স্বাস্থ্য বিধি সামাজিক দূরত্ব ও শারিরিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার আহবান উপেক্ষিত হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, বিগত ৩-৪ দিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিগত ০৫ দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রামে আশঙ্খাজনকভাবে করোনা শনাক্ত হচ্ছে। এ আশাঙ্কাজনক সংক্রমণ ব্যবস্থাপনার জন্য যে পরিমাণ চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবলসহ সরঞ্জামাদির প্রয়োজন, বর্তমানে চট্টগ্রামে তা হতাশাজনকভাবে অপ্রতুল বলা যায়। ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি কোভিড রোগী সনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রামে। বর্তমানে কোভিড টেস্টের জন্য প্রার্থিত গড়ে ১০০০ রোগীর বিপরীতে মাত্র ৩০০-৪০০ জন রোগীর কোভিড টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে।
রোগীর স্যাম্পল কালেকশনের ৩/৪ দিন পর ফলাফল জানানো হচ্ছে। এত করে স্যাম্পলের গুণাগুণ বজায় থাকা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়ে যাচ্ছে এবং স্যাম্পল কালেকশন ও ফলাফল প্রকাশের মধ্যবর্তী সময়ে অনেক রোগী মারাও যাচ্ছেন। এতে জনমনে হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, টেস্ট বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টির জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ অতীব জরুরি মনে করে আমি ইতোমধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে যাই হোক আপাতত আমাদের সরকার নির্দেশিত বিধিনিষেধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মানা জরুরী।



















