০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

এখনও জমে উঠেনি ভালুকার ঈদ বাজার !

করোনা মহামারীতে অনিশ্চিত হয়ে গেছে ঈদের বাজার। ভেস্তে গেছে নববর্ষের যত আয়োজন। রমজান শুরুর আগে থেকেই ময়মনসিংহ ভালুকা উপজেলার পোশাকের বাজারে ক্রেতাদের চাপ সৃষ্টি হয়। বিক্রেতারাও ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে নানা ধরনের পোশাক তোলেন দোকানে। দেশি-বিদেশি সব ধরনের পোশাকের দেখা মিলে ঈদ বাজারে। এবারের ঈদের বাজারের চিত্র ভিন্ন। করোনায় লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা। পবিত্র মাহে রমজানের ২০তম রোজা অতিবাহিত হলো। কিছুদিন পরই এ বছরের মত ইতি ঘটবে পবিত্র রমজান মাসের। করোনাভাইরাসের আতঙ্ক নিয়েই মুসলিম বিশ্ব উদযাপন করবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে, এবছর ২৯ রোজা হলে ঈদ হবে আগামী ২৪ মে। আর ৩০ রোজা পূর্ন হলে ২৫ মে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সে হিসেবে হাতে গোনা ৯ থেকে ১০দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর চলে আসছে। কিন্তু ইসলাম ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবও যেন ম্লান করে দিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। দীর্ঘদিন মার্কেট বা পোশাকের দোকান বন্ধ থাকার পর ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০ই মে থেকে তা চালু করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এই অনুমতির ৫ম দিনেও তেমন জমে উঠেনি ভালুকার ঈদ বাজার। ফলে বুক ভরা আসা নিয়ে পোশাক ও জুতোর মালিকরা দোকান খুললেও সেই আসার ফাটল দেখা দিচ্ছে শুরু থেকেই। পেছনের ইতিহাস বলছে, প্রতি রমজানের এই সময়ে ঈদের আমেজ ফুটে উঠে সব শ্রেনির মানুষের মাঝে। ঈদের উৎসবকে ঘিরে কত আয়োজন থাকে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের। পছন্দের পোশাক কিনতে বিপনী বিতানে আসা যাওয়ার ধুম পড়ে যায়। প্রতিবছর নতুন নতুন কারুকার্যের পোশাকে ছেয়ে যায় মার্কেট গুলো। এসব পোশাক কেনার আনন্দে পূলকিত হয়ে উঠে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে, তরুণ-তরুণী যুবক-যুবতীদের মন। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। করোনা নামক এই ছোঁয়াছে রোগের প্রভাবে সেই আবেগ-আনন্দে যেন ভাটা পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ১০ মে থেকে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রত্যয়ে সারা দেশের ন্যায় ময়মনসিংহের ভালুকায় মার্কেট বা বিপনী বিতান খোলা হয়। পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় হাসি নেই দোকানিদের মুখে। যেসব ক্রেতারা আসছেন, দর কষাকষিতে তাদের সাথে বনিবনা হচ্ছে না। ভালুকা প্লাজা মার্কেটে অবস্থিত চীফ এন্ড বেস্ট নামক বিতানের মালিক সাইদুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন- বছরের বেশির ভাগ সময় আমাদের এখানে তেমন বেচা-কেনা হয় না। আমরা ঈদ, পূজা ও বৈশাখের দিকে চেয়ে থাকি। এই সিজন গুলোতে ব্যবসা ভালো হয়। তা দিয়ে বছরের ঘাটতি পূরন করে থাকি। কিন্তু এবছর আরো বড় ঘাটতিতে পরতে হবে। দোকান খোলার জন্য মাত্র ১২-১৩ দিন সময় পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, বেচা-কেনা ভালো না। দোকানে ৩জন কর্মচারী আছে, তাদের বেতন বোনাস দিতে হবে। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, আবার পার্টির বকেয়া বিলও পরিশোধ করতে হবে।যা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। ভালুকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারন সম্পাদক ফজলুল আমীন লিটন বলেন, ক্রেতাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আমরা সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছি । মার্কেটে যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হয়। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধির তালিকা তৈরী করে মার্কেটে লাগানো হয়েছে। জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিটি দোকানের সামনে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্হা করা হয়েছে।প্রতিটি মার্কেটের দোকান মালিক তার নিজ দায়িত্বে মার্কেটে আসা লোকদেরকে জীবানুনাশক স্প্রে করছে। কোথাও জটলা বাঁধলে তাদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতাদের মধ্যে একশ্রেনির মানুষ এখনও সচেতন হয়ে উঠেনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

লক্ষ্মীপুরে হামলা চালিয়ে সৌদি প্রবাসীকে রক্তাক্ত জখম, নারীসহ আহত ৩

এখনও জমে উঠেনি ভালুকার ঈদ বাজার !

প্রকাশিত : ১০:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০

করোনা মহামারীতে অনিশ্চিত হয়ে গেছে ঈদের বাজার। ভেস্তে গেছে নববর্ষের যত আয়োজন। রমজান শুরুর আগে থেকেই ময়মনসিংহ ভালুকা উপজেলার পোশাকের বাজারে ক্রেতাদের চাপ সৃষ্টি হয়। বিক্রেতারাও ক্রেতাদের চাহিদা অনুসারে নানা ধরনের পোশাক তোলেন দোকানে। দেশি-বিদেশি সব ধরনের পোশাকের দেখা মিলে ঈদ বাজারে। এবারের ঈদের বাজারের চিত্র ভিন্ন। করোনায় লোকসানের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা। পবিত্র মাহে রমজানের ২০তম রোজা অতিবাহিত হলো। কিছুদিন পরই এ বছরের মত ইতি ঘটবে পবিত্র রমজান মাসের। করোনাভাইরাসের আতঙ্ক নিয়েই মুসলিম বিশ্ব উদযাপন করবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে, এবছর ২৯ রোজা হলে ঈদ হবে আগামী ২৪ মে। আর ৩০ রোজা পূর্ন হলে ২৫ মে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সে হিসেবে হাতে গোনা ৯ থেকে ১০দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর চলে আসছে। কিন্তু ইসলাম ধর্মালম্বিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবও যেন ম্লান করে দিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। দীর্ঘদিন মার্কেট বা পোশাকের দোকান বন্ধ থাকার পর ঈদকে সামনে রেখে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১০ই মে থেকে তা চালু করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এই অনুমতির ৫ম দিনেও তেমন জমে উঠেনি ভালুকার ঈদ বাজার। ফলে বুক ভরা আসা নিয়ে পোশাক ও জুতোর মালিকরা দোকান খুললেও সেই আসার ফাটল দেখা দিচ্ছে শুরু থেকেই। পেছনের ইতিহাস বলছে, প্রতি রমজানের এই সময়ে ঈদের আমেজ ফুটে উঠে সব শ্রেনির মানুষের মাঝে। ঈদের উৎসবকে ঘিরে কত আয়োজন থাকে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীদের। পছন্দের পোশাক কিনতে বিপনী বিতানে আসা যাওয়ার ধুম পড়ে যায়। প্রতিবছর নতুন নতুন কারুকার্যের পোশাকে ছেয়ে যায় মার্কেট গুলো। এসব পোশাক কেনার আনন্দে পূলকিত হয়ে উঠে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে, তরুণ-তরুণী যুবক-যুবতীদের মন। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। করোনা নামক এই ছোঁয়াছে রোগের প্রভাবে সেই আবেগ-আনন্দে যেন ভাটা পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ১০ মে থেকে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রত্যয়ে সারা দেশের ন্যায় ময়মনসিংহের ভালুকায় মার্কেট বা বিপনী বিতান খোলা হয়। পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় হাসি নেই দোকানিদের মুখে। যেসব ক্রেতারা আসছেন, দর কষাকষিতে তাদের সাথে বনিবনা হচ্ছে না। ভালুকা প্লাজা মার্কেটে অবস্থিত চীফ এন্ড বেস্ট নামক বিতানের মালিক সাইদুর রহমান আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন- বছরের বেশির ভাগ সময় আমাদের এখানে তেমন বেচা-কেনা হয় না। আমরা ঈদ, পূজা ও বৈশাখের দিকে চেয়ে থাকি। এই সিজন গুলোতে ব্যবসা ভালো হয়। তা দিয়ে বছরের ঘাটতি পূরন করে থাকি। কিন্তু এবছর আরো বড় ঘাটতিতে পরতে হবে। দোকান খোলার জন্য মাত্র ১২-১৩ দিন সময় পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, বেচা-কেনা ভালো না। দোকানে ৩জন কর্মচারী আছে, তাদের বেতন বোনাস দিতে হবে। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, আবার পার্টির বকেয়া বিলও পরিশোধ করতে হবে।যা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। ভালুকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সাধারন সম্পাদক ফজলুল আমীন লিটন বলেন, ক্রেতাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আমরা সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছি । মার্কেটে যেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হয়। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিধির তালিকা তৈরী করে মার্কেটে লাগানো হয়েছে। জীবানুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রতিটি দোকানের সামনে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্হা করা হয়েছে।প্রতিটি মার্কেটের দোকান মালিক তার নিজ দায়িত্বে মার্কেটে আসা লোকদেরকে জীবানুনাশক স্প্রে করছে। কোথাও জটলা বাঁধলে তাদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতাদের মধ্যে একশ্রেনির মানুষ এখনও সচেতন হয়ে উঠেনি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ