চট্টগ্রামে একদিনে নমুনা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ১৩ জন পুলিশ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে নগরীর সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রয়েছে। এ নিয়ে সিএমপিতে কর্মরত সহকারী কমিশনার-ওসিসহ ৪৪ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেন।
এছাড়া বুধবার রাতে চট্টগ্রামের তিনটি করোনা শনাক্তের ল্যাব থেকে দেয়া প্রতিবেদনে ওই ১৩ পুলিশ সদস্যসহ ১১৪জন করোনা শনাক্তের কথা জানিয়েছেন। বুধবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় এই পুলিশ সদস্যের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে ১০ জন সদরঘাট থানার। বাকি তিন জন সিএমপির এসএএফ শাখার সদস্য। তারা দামপাড়া পুলিশ লাইনের ব্যারাকে বসবাস করেন। সদরঘাট থানায় আক্রান্তদের মধ্যে থানার ওসি ফজলুর রহমান ফারুকী, দুই জন এএসআই এবং সাত জন কনস্টেবল। আক্রান্ত কনস্টেবলদের একজন ওসি’র দেহরক্ষী, আরেকজন গাড়িচালক।
সিএমপির কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা বলেন, ‘আক্রান্তদের কারও শরীরেই তেমন কোনো উপসর্গ নেই। কারও কারও হালকা জ্বর আছে। সদরঘাট থানায় এর আগেও তিন জন কনস্টেবল করোনায় আক্রান্ত হন। এ নিয়ে ওই থানার ১৩ জন আক্রান্ত হলেন।
এদিকে চট্টগ্রামে একদিনে নমুনা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ১১৪ জন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বুধবার চট্টগ্রামের তিনটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনার এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম জেলারই ৯৫ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলাতেও এটিই একদিনে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার রেকর্ড। এরমধ্যে বিআইটিআইডি ল্যাবে ২৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ল্যাবে ৯০টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে ৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৫১৫ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮০ জন। মারা গেছেন ২৬ জন ।



















