০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

চাঁদপু‌রে ক‌রোনা ছড়া‌নের কে‌ন্দ্রে প‌রিনত হ‌য়ে‌ছে কালিবাড়ি-পালবাজার এলাকা 

 চাঁদপুর জেলায় গত ২ মাসে করোনা সংক্রমণের মাত্রা  বেরেই চলছে।আর করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে চাঁদপুর শহরের শপথ চত্বর থথেকে পালবাজার নতুন বাজার পুরান বাজার ব্রিজ পর্যন্ত।স্বাস্থ্য বিভাগ পুরো পৌর এলাকাকে করোনার ঝুকি পূর্ন হিসেবে বিবেচনা করলেও অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কালিবাড়ি মোড় শপথ চত্বর  ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে।
কিন্তু এখানে লোকসমাগম কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না, নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। তাই এই এলাকায় আক্রান্ত আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি তা বেসামাল হয়ে পরেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের উপর যে ভাবে রিক্সা ভ্যান যোগে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয় তাতে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতারা যেন ঈদের কেনা কাটায় ব্যস্হ হয়ে পরেছে। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগন সেনা সদস্যদের নিয়ে শতর্কতা মুলক অভিযানের পাশা পাশি অনেক নারী পুরুষকে মোবাইল কোটের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করেছে লকডাউন না মানার কারণে।তবু জন সাধারন হুশিয়ার হচ্ছে না।
সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান মতে, চাঁদপুর জেলায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭জন। যা মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। আর চাঁদপুর শহরে এ যাবৎ শনাক্তকৃত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩২জন। যা সারা জেলায় মোট আক্রান্তের অর্ধেক।
করোনায় আক্রান্ত শহরের এলাকা গুলো হচ্ছে- চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও সংলগ্ন এলাকা, সাবেক স্ট্র্যান্ড রোড (বর্তমানে কবি নজরুল সড়ক), কালিবাড়ি মোড় থেকে পালবাজার, জোড়পুকুরপাড়, আদালতপাড়া, নতুনবাজার, চিত্রলেখা মোড় থেকে গুয়াখোলা মোড়, বড়স্টেশন এলাকা, মিশন রোড ও বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড। এই এলাকাগুলোতে এখন পর্যন্ত সিকি শতাধিক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশপাশে। হাসপাতাল সংলগ্ন চাঁদপুর মডেল থানায় এখন পর্যন্ত ৯জন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের পরিবারের আরো ২জন সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের একজন কুক (রান্নার বাবুর্চি) ও তার স্ত্রী, কম্পিউটার অপারেটর, সাবেক একজন ব্রাদারের স্ত্রীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সিভিল সার্জন অফিসের ৩জন কর্মচারীরও করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এছাড়া হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর আরো ৩জন ল্যাব টেকনিশিয়ান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ হাসপাতালের আশপাশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ২১জন।
এই এলাকায় করোনা সংক্রমণ সর্বাধিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো চিহ্নিত করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তথা করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখিত এলাকায় হকার উচ্ছেদ, সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রাখা, কাঁচাবাজার অন্যত্র স্থানান্তর করা এমনকি জনচলাচল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের দায়িত্বশীলরা।
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক  মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।আমরা হোম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে আরো কঠোর অভিযান পরিচালনা করবো।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় লকডাউন সবচেয়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার। বিশেষ করে আক্রান্ত ও তাদের সংস্পর্শে আসা সবার কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা জরুরী।
চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিন বলেন, চাঁদপুর জেলার মধ্যে এখন সর্বাধিক রোগী চাঁদপুর পৌর এলাকায়। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ি, সদর হাসপাতাল, স্ট্র্যান্ড রোড, কুমিল্লা রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। তাই এখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও সর্বাধিক। এই এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল সীমিত করে দেওয়া উচিৎ কিছুদিনের জন্য। নইলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে এই এলাকায় জনসমাগম কমাতে হবে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এক কথায় লকডাউন পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। নইলে পরিস্থিতি আগামীতে আরো অনেক খারাপ হতে পারে।এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ি এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে দিন দিন মানুষের সমাগম  বৃদ্ধিতে সচেতন মহল এ নিয়ে বেশ চিন্তিত।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ
ট্যাগ :

লক্ষ্মীপুরে হামলা চালিয়ে সৌদি প্রবাসীকে রক্তাক্ত জখম, নারীসহ আহত ৩

চাঁদপু‌রে ক‌রোনা ছড়া‌নের কে‌ন্দ্রে প‌রিনত হ‌য়ে‌ছে কালিবাড়ি-পালবাজার এলাকা 

প্রকাশিত : ০৪:১৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০
 চাঁদপুর জেলায় গত ২ মাসে করোনা সংক্রমণের মাত্রা  বেরেই চলছে।আর করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে চাঁদপুর শহরের শপথ চত্বর থথেকে পালবাজার নতুন বাজার পুরান বাজার ব্রিজ পর্যন্ত।স্বাস্থ্য বিভাগ পুরো পৌর এলাকাকে করোনার ঝুকি পূর্ন হিসেবে বিবেচনা করলেও অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কালিবাড়ি মোড় শপথ চত্বর  ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে।
কিন্তু এখানে লোকসমাগম কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না, নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। তাই এই এলাকায় আক্রান্ত আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি তা বেসামাল হয়ে পরেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের উপর যে ভাবে রিক্সা ভ্যান যোগে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করা হয় তাতে পুরুষ ক্রেতার চেয়ে নারী ক্রেতারা যেন ঈদের কেনা কাটায় ব্যস্হ হয়ে পরেছে। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগন সেনা সদস্যদের নিয়ে শতর্কতা মুলক অভিযানের পাশা পাশি অনেক নারী পুরুষকে মোবাইল কোটের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করেছে লকডাউন না মানার কারণে।তবু জন সাধারন হুশিয়ার হচ্ছে না।
সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান মতে, চাঁদপুর জেলায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র চাঁদপুর সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭জন। যা মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। আর চাঁদপুর শহরে এ যাবৎ শনাক্তকৃত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩২জন। যা সারা জেলায় মোট আক্রান্তের অর্ধেক।
করোনায় আক্রান্ত শহরের এলাকা গুলো হচ্ছে- চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও সংলগ্ন এলাকা, সাবেক স্ট্র্যান্ড রোড (বর্তমানে কবি নজরুল সড়ক), কালিবাড়ি মোড় থেকে পালবাজার, জোড়পুকুরপাড়, আদালতপাড়া, নতুনবাজার, চিত্রলেখা মোড় থেকে গুয়াখোলা মোড়, বড়স্টেশন এলাকা, মিশন রোড ও বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড। এই এলাকাগুলোতে এখন পর্যন্ত সিকি শতাধিক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আশপাশে। হাসপাতাল সংলগ্ন চাঁদপুর মডেল থানায় এখন পর্যন্ত ৯জন পুলিশ সদস্য ও পুলিশের পরিবারের আরো ২জন সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়েছে। চাঁদপুর সদর হাসপাতালের একজন কুক (রান্নার বাবুর্চি) ও তার স্ত্রী, কম্পিউটার অপারেটর, সাবেক একজন ব্রাদারের স্ত্রীর করোনা শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সিভিল সার্জন অফিসের ৩জন কর্মচারীরও করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। এছাড়া হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর আরো ৩জন ল্যাব টেকনিশিয়ান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ হাসপাতালের আশপাশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ২১জন।
এই এলাকায় করোনা সংক্রমণ সর্বাধিক হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো চিহ্নিত করেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তথা করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখিত এলাকায় হকার উচ্ছেদ, সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ রাখা, কাঁচাবাজার অন্যত্র স্থানান্তর করা এমনকি জনচলাচল পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের দায়িত্বশীলরা।
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক  মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।আমরা হোম কোয়ারেন্টাইন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে আরো কঠোর অভিযান পরিচালনা করবো।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় লকডাউন সবচেয়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার। বিশেষ করে আক্রান্ত ও তাদের সংস্পর্শে আসা সবার কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা জরুরী।
চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদা বেগম পলিন বলেন, চাঁদপুর জেলার মধ্যে এখন সর্বাধিক রোগী চাঁদপুর পৌর এলাকায়। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ি, সদর হাসপাতাল, স্ট্র্যান্ড রোড, কুমিল্লা রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। তাই এখান থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও সর্বাধিক। এই এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল সীমিত করে দেওয়া উচিৎ কিছুদিনের জন্য। নইলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে এই এলাকায় জনসমাগম কমাতে হবে, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এক কথায় লকডাউন পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে। নইলে পরিস্থিতি আগামীতে আরো অনেক খারাপ হতে পারে।এদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ি এলাকায় ঈদকে সামনে রেখে দিন দিন মানুষের সমাগম  বৃদ্ধিতে সচেতন মহল এ নিয়ে বেশ চিন্তিত।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ