১১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

রাঙামাটিতে প্রথম শনাক্ত ৪ জন করোনামুক্ত

রাঙামাটিতে আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে প্রথম শনাক্ত ৪ জনকে করোনামুক্ত করেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতেহবে। এর মধ্যে সুস্থ থাকলেই মুক্তি মিলবে তাদের। প্রাথমিকভাবে করোনায় শনাক্ত হন তারা। পরবর্তী পরপর দু’দফা নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসায় তারা এখন করোনামুক্ত। তারা হলেন- শহরের হাসপাতাল এলাকার এক নার্স ও এক শ্রমিক, দেবাশীষ নগর এলাকার এক যুবক এবং রিজার্ভবাজারের পাথরঘাটা এলাকার ৯ মাস বয়েসী এক শিশু। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে পাঠানো ওই চার জনের নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় ৬ মে। রিপোর্টে জেলায় প্রথম করোনায় শনাক্ত হন তারা। পরবর্তী ৪ জনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিপোর্টে নেগেটিভ ফল এসেছে। শুক্রবার বিকালে তাদের তৃতীয় দফা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। সর্বশেষ রিপোর্টে নেগেটিভ ফল আসায় তাদেরকে এখন করোনামুক্ত বলতে পারি। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তবে ১৫ মে থেকে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। করোনা পরীক্ষায় রাঙামাটি থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পাঠানো হয় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেলস্ সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ফৌজদারহাট বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ’এ (বিআইটআইডি)’।
এদিকে মুক্ত চার জনসহ জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসা কর্মকর্তা ও সেবিকা। ৪ জন বাদে বাকি ২০ জনের দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স ও এক আয়া রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে জুরাছড়ি উপজেলার ৬ জন ও লংগদু উপজেলার ২ জন।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনুল আবেদীন জানান, করোনায় শনাক্ত লংগদুর দুইজন স্বামী-স্ত্রী। তারা ৪ নারায়নগঞ্জ থেকে লংগদু গেছেন। নারায়নগঞ্জে একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন তারা। লংগদু গেলে তাদেরকে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে। রিপোর্টে তাদের পজেটিভ পাওয়া যায়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, বুধবার করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২ চিকিৎসক ও ৪ নার্সসহ ৯ জন। তাদের মধ্যে ৫ জন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্স। অন্যদের মধ্যে বাইরের এক চিকিৎসক, বিলাইছড়ি উপজেলার ২ জন এবং রাজস্থলী উপজেলার একজন। ১২ মে শনাক্ত হয়েছেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আরেক স্টাফ নার্স।
সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, রাঙামাটিতে করোনা উৎসর্গ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমরা শনাক্ত হওয়া রোগীদের ইতিহাস অনুসরণ করছি। তবে সুখবর হচ্ছে- যারা শনাক্ত হয়েছেন,তারা সবাই সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তাদেরকে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ওইসব এলাকা লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী আরও দু’দফা নমুনা পরীক্ষায় তাদের বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

হরমুজে নতুন প্রকল্প ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

রাঙামাটিতে প্রথম শনাক্ত ৪ জন করোনামুক্ত

প্রকাশিত : ০৮:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

রাঙামাটিতে আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে প্রথম শনাক্ত ৪ জনকে করোনামুক্ত করেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতেহবে। এর মধ্যে সুস্থ থাকলেই মুক্তি মিলবে তাদের। প্রাথমিকভাবে করোনায় শনাক্ত হন তারা। পরবর্তী পরপর দু’দফা নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসায় তারা এখন করোনামুক্ত। তারা হলেন- শহরের হাসপাতাল এলাকার এক নার্স ও এক শ্রমিক, দেবাশীষ নগর এলাকার এক যুবক এবং রিজার্ভবাজারের পাথরঘাটা এলাকার ৯ মাস বয়েসী এক শিশু। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে পাঠানো ওই চার জনের নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় ৬ মে। রিপোর্টে জেলায় প্রথম করোনায় শনাক্ত হন তারা। পরবর্তী ৪ জনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা রিপোর্টে নেগেটিভ ফল এসেছে। শুক্রবার বিকালে তাদের তৃতীয় দফা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। সর্বশেষ রিপোর্টে নেগেটিভ ফল আসায় তাদেরকে এখন করোনামুক্ত বলতে পারি। তারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তবে ১৫ মে থেকে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। করোনা পরীক্ষায় রাঙামাটি থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পাঠানো হয় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেলস্ সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ফৌজদারহাট বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ’এ (বিআইটআইডি)’।
এদিকে মুক্ত চার জনসহ জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসা কর্মকর্তা ও সেবিকা। ৪ জন বাদে বাকি ২০ জনের দ্বিতীয় দফা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শনাক্ত হয়েছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স ও এক আয়া রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে জুরাছড়ি উপজেলার ৬ জন ও লংগদু উপজেলার ২ জন।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইনুল আবেদীন জানান, করোনায় শনাক্ত লংগদুর দুইজন স্বামী-স্ত্রী। তারা ৪ নারায়নগঞ্জ থেকে লংগদু গেছেন। নারায়নগঞ্জে একটি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন তারা। লংগদু গেলে তাদেরকে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে। রিপোর্টে তাদের পজেটিভ পাওয়া যায়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, বুধবার করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ২ চিকিৎসক ও ৪ নার্সসহ ৯ জন। তাদের মধ্যে ৫ জন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্স। অন্যদের মধ্যে বাইরের এক চিকিৎসক, বিলাইছড়ি উপজেলার ২ জন এবং রাজস্থলী উপজেলার একজন। ১২ মে শনাক্ত হয়েছেন, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত আরেক স্টাফ নার্স।
সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, রাঙামাটিতে করোনা উৎসর্গ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমরা শনাক্ত হওয়া রোগীদের ইতিহাস অনুসরণ করছি। তবে সুখবর হচ্ছে- যারা শনাক্ত হয়েছেন,তারা সবাই সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তাদেরকে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ওইসব এলাকা লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী আরও দু’দফা নমুনা পরীক্ষায় তাদের বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ