তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মত নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হবার ফলে তা একদিকে যেমন দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরকে স্বনির্ভর করেছে অন্যদিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিয়েছে।
আমাদের দেশে দৃষ্টিমান ও দৃষ্টি- প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে যে ব্যবধান ছিল প্রযুক্তিই পেরেছে সেই ব্যবধানটুকু কমিয়ে আনতে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অ্যাক্সেসিবল ই- লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
২০১৯ সালের ৭ই জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইপসা এবং একে খাঁন ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এটি স্থাপিত হয়। যেখানে রয়েছে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, অ্যাক্সেসিবল ডিকশানারী,দুই শতাধিক ডিজিটাল টকিং বুক,তিনশটি ই-বুক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০০ জনের অধিক দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ই-লার্নিং সেন্টারে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধীরা প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিকে কিভাবে গ্রহণ করছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে ই-লার্নিং সেন্টারের প্রশিক্ষক রাশেদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি নিজেও একজন দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী।
এই ই-লার্নিং সেন্টারে প্রযুক্তির সহায়তায় নিয়মিত ১১০জন দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে
অংশগ্রহণ করছেন। এখানে প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বাসিত প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়ে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে পেরে আমার ভালো লাগার ব্যাপারটা অন্যরকম। ইসলামের ইতিহাস বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী হামিদা আক্তার নিশার কাছে ই- লার্নিং সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, ‘ই-লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে আমরা আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারছি। এই সেন্টারটা যদি না হতো আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতাম।
এই সেন্টারের একজন সদস্য হতে পেরে আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করছি। এ টু আই ,ইপসা এবং একে খাঁন ফাউন্ডেশনকে মন থেকে ধন্যবাদ আমাদেরকে প্রযুক্তিগত ভাবে পড়াশোনায় সহযোগিতা করার জন্য।’ বিশ্বনাথ রায় একরাশ স্বপ্ন নিয়ে চবিতে ভর্তি হন । চবিতে অ্যাক্সেসিবল ই-লার্নিং সেন্টার হওয়াতে স্বপ্ন পূরণে কয়েকধাপ এগিয়ে আছেন বিশ্বনাথের মতো অনেক দৃষ্টিশক্তিহীন শিক্ষার্থীরা।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সাহায্য এই ই-লার্নিং সেন্টারে আমরা ইন্টারনেটে যেকোন তথ্য,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,শিক্ষা কার্যক্রম অনায়সে করতে পারছি স্ক্রীন রিডারের মাধ্যমে। আমাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সুদৃষ্টি ধন্যবাদ যোগ্য।





















