০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটে মাঠের ধান ‘আম্ফানের’ আগেই ঘরে তুলতে সর্বাত্মক উদ্যোগ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আঘাতহানার আগেই উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মাঠে থাকা পাকা ধান কৃষকের ঘরে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোমবার সকাল পর্যন্ত এ জেলায় উৎপাদিত ধানের প্রায় ১৫ ভাগ মাঠে রয়েছে, যার প্রায় ৫ ভাগ এখনও পাকেনি। বাকী ধান ঘরে তুলতে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগে ধান কাটা চলছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ‘আম্ফানের’ আগেই মাঠে থাকা অবশিষ্ট পাকা ধান ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যে কোন অবস্থায় দ্রুত কেটে কৃষকের ঘরে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়,‘ ইতোমধ্যে (রবিবার পর্যন্ত) প্রায় ৮৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কিছু ধান এখনও পাকেনি।

তবে পাকা ১০ ভাগ ধান মাঠে আছে, যার অধিকাংশ ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলায়। এখানে ‘কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার’ ও ‘ম্যাকানাইজড রিপার’ ব্যবহার করা যাচ্ছেনা।

ফলে এই দুই উপজেলায় ধান হাতে কাটতে হচ্ছে। তবুও সমন্বিত উদ্যোগে আগামী ২ দিনের মধ্যে এ ধান কাটা শেষ হবে বলে আশাকরছি।”

এ জেলায় চলতি মৌসুমে ৫২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ১১০ মেট্রিকটন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জেলার ৩৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার উপযোগী পাকা ভবনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। মোংলা বন্দর র্কর্তপক্ষও ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে।

সোমবারও মোংলা বন্দরে পন্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সাগর ক্রমশ: উত্তাল হয়ে উঠায় গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা এবং ট্রলারসমূহকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

ঘুর্ণিঝড় ‘আমফান’ মোকাবেলায় বাগেরহাটে ‘জেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির’ জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এ সভায় সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সকলকে সতর্ক থেকে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্র সচল, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সিপিপির ইউনিট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

 

অতিদ্রুত মাঠের পাকা ধান ঘরে তোলার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য সম্পদ-সহ যানমালের সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মুহূর্তে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য চিড়া, গুড়, বিশুদ্ধ পানিসহ মোমবাতি ও দিয়াশলাই মজুদ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানান, সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। এবার করোনা দুর্যোগে কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোক রাখতে হবে। সেজন্য ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো এবার আশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভালুকায় বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ

বাগেরহাটে মাঠের ধান ‘আম্ফানের’ আগেই ঘরে তুলতে সর্বাত্মক উদ্যোগ

প্রকাশিত : ০৫:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২০

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ আঘাতহানার আগেই উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে মাঠে থাকা পাকা ধান কৃষকের ঘরে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

সোমবার সকাল পর্যন্ত এ জেলায় উৎপাদিত ধানের প্রায় ১৫ ভাগ মাঠে রয়েছে, যার প্রায় ৫ ভাগ এখনও পাকেনি। বাকী ধান ঘরে তুলতে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগে ধান কাটা চলছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ‘আম্ফানের’ আগেই মাঠে থাকা অবশিষ্ট পাকা ধান ৪৮ ঘন্টার মধ্যে যে কোন অবস্থায় দ্রুত কেটে কৃষকের ঘরে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়,‘ ইতোমধ্যে (রবিবার পর্যন্ত) প্রায় ৮৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। কিছু ধান এখনও পাকেনি।

তবে পাকা ১০ ভাগ ধান মাঠে আছে, যার অধিকাংশ ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলায়। এখানে ‘কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার’ ও ‘ম্যাকানাইজড রিপার’ ব্যবহার করা যাচ্ছেনা।

ফলে এই দুই উপজেলায় ধান হাতে কাটতে হচ্ছে। তবুও সমন্বিত উদ্যোগে আগামী ২ দিনের মধ্যে এ ধান কাটা শেষ হবে বলে আশাকরছি।”

এ জেলায় চলতি মৌসুমে ৫২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ১১০ মেট্রিকটন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জেলার ৩৪৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার উপযোগী পাকা ভবনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। মোংলা বন্দর র্কর্তপক্ষও ব্যপক প্রস্তুতি গ্রহন করেছে।

সোমবারও মোংলা বন্দরে পন্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সাগর ক্রমশ: উত্তাল হয়ে উঠায় গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা এবং ট্রলারসমূহকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

ঘুর্ণিঝড় ‘আমফান’ মোকাবেলায় বাগেরহাটে ‘জেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির’ জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়েছে। জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত এ সভায় সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সকলকে সতর্ক থেকে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতার অনুরোধ করা হয়।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা, আশ্রয়কেন্দ্র সচল, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সিপিপির ইউনিট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

 

অতিদ্রুত মাঠের পাকা ধান ঘরে তোলার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য সম্পদ-সহ যানমালের সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মুহূর্তে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য চিড়া, গুড়, বিশুদ্ধ পানিসহ মোমবাতি ও দিয়াশলাই মজুদ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানান, সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। এবার করোনা দুর্যোগে কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে লোক রাখতে হবে। সেজন্য ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো এবার আশ্রয় কেন্দ্রে হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

 

বিজনেস বাংলাদেশ / আতিক