নগরীর চান্দগাঁও থানার বাহির সিগনাল এলাকার রাস্তার উপর দাড়িয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মানববন্ধন করেছে অটোটেম্পো চালক শ্রমিকরা।
আজ বেলা সাড়ে ১১টায় বাহির সিগনালস্থ আরকান সড়কের উপর দাড়িয়ে অটো টেম্পো ড্রাইভার শ্রমিক কল্যাণ সমিতির ব্যানারে প্রায় ২’শত পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন করতে দেখা যায়।
এসময় শ্রমিকদের “ভাত দে কাপড় দে, নইলে রাস্তা ছেড়ে দে” বলে শ্লোগান দিতে থাকতে দেখা যায়। এতে সড়কটির দুইদিক থেকে আসা আসা শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী রিক্সা ইজি বাইক সহ অবরুদ্ধ হয়ে পরে। এতে রোগী পরিবহন গাড়ি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
এসময় দায়ীত্বরত চান্দগাঁও থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাকির ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, আপনারা সকলের নাম ঠিকনা আমাদের কাছে জমা দেন আমরা আপনাদের জন্য ব্যবস্থা করব।
এবিষয়ে শ্রমিক নেতা মিঠু চক্রবর্তী, শিমুল নাথ এবং সুমন নাথ বলেন যে, আজ আমরা আড়াই মাস যাবৎ লকডাউনে অবরুদ্ধ হয়ে আছি। এর মধ্যে কেউ আমাদের খরব নিচ্ছে না। আমাদের শ্রমিকদের মধ্য বেশির ভাগই ভাড়াটিয়া।
এই আড়াই মাস যাবৎ আমাদের বউ বাচ্চাসহ সকলেই অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটিয়ে আসছি, আর সহ্য করতে পারছিনা। আমরা সরকারের সকল নিয়ম কানুন অবনত মস্তকে মেনে নিয়েছি। কিন্ত এভাবে আর কতদিন না খেয়ে মানুষ বাঁচতে পারে? ভাড়াঘরে থেকে বাড়িওয়ালাদের বিরক্ত, বউ বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছেনা। অল্প কষ্টে জীবন বাঁচার দাবি নিয়ে রাস্তায় আসিনি। এবিষয়ে উপ-পুলিশ পরিদর্শক জাকির এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি ওসি স্যারের সাথে শ্রমিকদের কষ্টের কথা বলেছি তিনি আবার ডিসি স্যারকে জানিয়েছেন।
এরপরে ওসি স্যারের উপর নির্ভর করে আমি শ্রমিকদের নাম ঠিকনা থানায় জমা দিয়ে আশ্বস্ত করি। এছাড়া শ্রমিকদের কষ্টকর জীবন কাহিনী শুনে এস,আই জাকির আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন যে আমার চার মাসের রেশন সামুগ্রী গরীবদের মাঝে দিয়ে দিয়েছি।
আমার স্ত্রী এবং বাচ্চরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এবছরের ঈদ খরচ তারা গ্রামের বাড়িতে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিব। পুলিশের বিনয়ী এবং মার্জিত ভাষায় কথা শুনে অভাবের কষ্ট ভুলে যার যার বাসায় ফিরে যান শ্রমিকরা।





















