১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

মাগুরার শ্রীপুরে শ্রমিক বাজারে মানুষের ঢল, করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি

bty

দেশে করোনা সংক্রমিত ব্যাক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চললেও তা নিয়ে যেন একেবারেই কোনপ্রকার মাথা ব্যাথা নেই খেটে খাওয়া মানুষের। ভোর হতে না হতেই প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরে প্রায় সহশ্রাধিক দিনমজুর জড়ো হন রোজগারের আশায়। জটলা পাকিয়ে ভীড় করে তারা গাদাগাদি অবস্থান করেন এখানে। এদের আবার অনেকের মুখেই নেই কোন মাস্ক। এ নিয়ে চিকিৎসকসহ এলাকার সচেতন মহল বলছেন, এতে করে করোনা ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সংক্রমন ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে বলে অনেকে মতামত প্রকাশ করেছেন।
পাঠক, এটি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরের ওয়াপদা নামক এলাকার চিত্র। এটা মূলত: শ্রমিক বিক্রির হাট। প্রতিদিন সকালে এখানে আসলেই ছবির এই চিত্রটি চোখে পড়বে।
খবর পেয়ে এ প্রতিনিধি আজ মঙ্গগলবার (১৯.০৫.২০২০) সকাল পৌনে ৬ টার দিকে হাজির হন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরের ওয়াপদা নামক এলাকায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সহশ্রাধিক মানুষ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে অবস্থান করছেন তদের শ্রম বিক্রির আশায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত এসব দিন মজুরেরা ক্ষেত-খামার সহ অন্যান্য কাজও করে থাকেন। ক্ষেত-খামারের মালিকেরা তাদের কিনতে আসেন এখানে। এখানে এসব শ্রমিকদের অবস্থানের চিত্র দেখে কোনভবেই বোঝার উপায় নেই যে দেশে এখন করোনা আছে। তাদের মাথায় এসব নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনা আছে বলেও তাদের সাথে কথা বলে মনে হয়নি।
এখানে আসা ষাটোর্ধ বৃদ্ধ চন্ডিখালী গ্রামের কওছার শেখ বলেন, কাজে না আসলে খাব কী? এভাবে না থাকলে কোন মালিক আমাদের টাকা-পয়সা ঠিকঠাক করে কাজে নিতে চায় না। কারণ কেউ কেউ একসাথে ৫/৬ জন লোক কেনেন। করোনার এই বিপর্যয়ে কোন ত্রান পেয়েছেন কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র ৫ কেজি চাল পেয়েছি।
নবগ্রাম এলাকা থেকে আসা লিটন মন্ডল বলেন, করোনার ভয়ে বড়িতে বসে থাকলি (থাকলে) তো আর আমাদের পেট চলবি (চলবে) নানে। মুখে মাস্ক নেই কেন?-জানতে চাওয়া হলে জোকা গ্রামের আজাদ বিশ্বাস বলেন, ভাই মাক্স বেশিক্ষন পরে থাকলি (থাকলে) নি:শ্বেস (নি:শ্বাস) বন্ধ হয়ে আসে। তাই পরি নেই।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (ইউ.এইচ.এফ.পি.ও) ডা: রইসুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে করোনা ভাইরাস-এর সংক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রতিরোধ মূলক ব্যাবস্থা হিসেবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিৎ।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইয়াসিন কবীর বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে ছিলো না। অবশ্যই এ বিষয়ে আমি ব্যাবস্থা গ্রহন করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মাটিরাঙ্গায় পৌর বিএনপির উদ্যােগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

মাগুরার শ্রীপুরে শ্রমিক বাজারে মানুষের ঢল, করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি

প্রকাশিত : ০৩:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০

দেশে করোনা সংক্রমিত ব্যাক্তির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধির সাথে সাথে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চললেও তা নিয়ে যেন একেবারেই কোনপ্রকার মাথা ব্যাথা নেই খেটে খাওয়া মানুষের। ভোর হতে না হতেই প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরে প্রায় সহশ্রাধিক দিনমজুর জড়ো হন রোজগারের আশায়। জটলা পাকিয়ে ভীড় করে তারা গাদাগাদি অবস্থান করেন এখানে। এদের আবার অনেকের মুখেই নেই কোন মাস্ক। এ নিয়ে চিকিৎসকসহ এলাকার সচেতন মহল বলছেন, এতে করে করোনা ঝুঁকি আরো বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সংক্রমন ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে বলে অনেকে মতামত প্রকাশ করেছেন।
পাঠক, এটি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরের ওয়াপদা নামক এলাকার চিত্র। এটা মূলত: শ্রমিক বিক্রির হাট। প্রতিদিন সকালে এখানে আসলেই ছবির এই চিত্রটি চোখে পড়বে।
খবর পেয়ে এ প্রতিনিধি আজ মঙ্গগলবার (১৯.০৫.২০২০) সকাল পৌনে ৬ টার দিকে হাজির হন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সদরের ওয়াপদা নামক এলাকায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সহশ্রাধিক মানুষ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে অবস্থান করছেন তদের শ্রম বিক্রির আশায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত এসব দিন মজুরেরা ক্ষেত-খামার সহ অন্যান্য কাজও করে থাকেন। ক্ষেত-খামারের মালিকেরা তাদের কিনতে আসেন এখানে। এখানে এসব শ্রমিকদের অবস্থানের চিত্র দেখে কোনভবেই বোঝার উপায় নেই যে দেশে এখন করোনা আছে। তাদের মাথায় এসব নিয়ে কোন চিন্তা-ভাবনা আছে বলেও তাদের সাথে কথা বলে মনে হয়নি।
এখানে আসা ষাটোর্ধ বৃদ্ধ চন্ডিখালী গ্রামের কওছার শেখ বলেন, কাজে না আসলে খাব কী? এভাবে না থাকলে কোন মালিক আমাদের টাকা-পয়সা ঠিকঠাক করে কাজে নিতে চায় না। কারণ কেউ কেউ একসাথে ৫/৬ জন লোক কেনেন। করোনার এই বিপর্যয়ে কোন ত্রান পেয়েছেন কি না?-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মাত্র ৫ কেজি চাল পেয়েছি।
নবগ্রাম এলাকা থেকে আসা লিটন মন্ডল বলেন, করোনার ভয়ে বড়িতে বসে থাকলি (থাকলে) তো আর আমাদের পেট চলবি (চলবে) নানে। মুখে মাস্ক নেই কেন?-জানতে চাওয়া হলে জোকা গ্রামের আজাদ বিশ্বাস বলেন, ভাই মাক্স বেশিক্ষন পরে থাকলি (থাকলে) নি:শ্বেস (নি:শ্বাস) বন্ধ হয়ে আসে। তাই পরি নেই।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (ইউ.এইচ.এফ.পি.ও) ডা: রইসুজ্জামান বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে করোনা ভাইরাস-এর সংক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রতিরোধ মূলক ব্যাবস্থা হিসেবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিৎ।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইয়াসিন কবীর বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে ছিলো না। অবশ্যই এ বিষয়ে আমি ব্যাবস্থা গ্রহন করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ