০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিরলে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা থানায় অভিযোগ

দিনাজপুরে বিরল উপজেলার দক্ষিন বিষ্ণুপুর গ্রামে ভুয়া মালিক সেজে ভুমিদস্যুরা ফলজ বাগানের ভিতরে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি জবর-দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের দুধ কুমার, নিরঞ্জন ও প্রমথ সহ ৬/৭ জনের একটি চক্র ভুয়া মালিক সেজে ঘুঘুডাঙ্গা চৌধুরী পরিবারের সম্পত্তি জবর-দখলের উদ্দেশ্যে ইটের পাকা ভবন নির্মানের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে ভিত্তি প্রস্তরেরে কাজ শুরু করে। এই খবর পেয়ে চৌধুরী পরিবারের সন্তান আলহাজ্ব ডাঃ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী গত ১৩ মে অফিসার ইনচার্জ বিরল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এস আই নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে ১৭ মে বেলা প্রায় ১১টায় থানায় একটি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষকে নিয়ে এসএই নজরুল ইসলাম দক্ষিণ বিষ্ণপুর গ্রামে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পুলিশ ঠিকাদারকে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভবন নির্মান কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেন। ফলে নির্মানাধীন কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে অত্র ইউপি’র ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জয়নাল আবেদীন মুঠোফোনে বলেন, মনোরোমা দেবী উক্ত সম্পত্তির মালিক হিসেবে তার লোকজনকে পুর্ন সহযোগিতা করবে বলে তিনি কথা দিয়েছেন। কিন্তু জমির মালিকানা কাগজ দেখেছেন কিনা তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। দুধ কুমার, নিরোঞ্জন ও রাজকুমার সহ অনেকে জানায়, সম্পত্তির মালিক মনোরোমা দেবী বা দেবত্তর সম্পত্তি নয়। উক্ত সম্পত্তির মালিক ঘুঘুডাঙ্গা চৌধুরী পরিবার। আমরা চৌধুরী পরিবারের কাছে ১২ শতক জমি চকের দীঘি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নামে জমিটি অনুদান চেয়েছি। কিন্তু চৌধুরী পরিবার আমাদের অনুরোধে মৌখিকভাবে ৬ শতক জমি মৌখিকভাবে দান করেছেন। কিন্তু দলিল করে দেননি। মৌখিক ভাবে জমিটি দান করায় ইতিপূর্বে সরকারি ভাবে বরাদ্দ কৃত টাকা দিয়ে উক্ত জমিতে দু’কক্ষ বিশিষ্ট বারান্দা সম্বলিত একটি মন্দির নির্মান করে আমরা পূজা অর্চনা করে আসছি। আমাদের মধ্যে কতিপয় ব্যাক্তি গোপাল জিঁও ঠাকুর দেবোত্তর সম্পত্তি পূর্ব সেবাইত – মনোরোমা দেবী, বর্তমান সেবাইত শ্রী প্রমোথ চন্দ্র দাস, দিনাজপুর জেলার বিরল থানার দক্ষিন বিষ্ণুপুর মৌজা, জে এল নং-২৩১, দাগ নং- ৩২৮, পুকুরপাড়, দেবোত্তর সেবাইত মোনোরোমা দেবী লিখা একটি সাইনবোর্ড মন্দিরের কেচি গেটের উপরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই সম্পত্তি দেবত্তর সম্পত্তি হিসেবে তারা অপপ্রচার চালাতে থাকে। এই অপপ্রচার দিন দিন ভিন্ন রুপ ধারণ করতে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে বলেন, ঐ চক্রের লোকজন ৬ বা ১২ শতক তো দুরের কথা দেবোত্তর হিসেবে তারা পুকুর সহ পুরো সম্পত্তি গ্রাস করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে । এ নিয়ে এলাকায় যে কোনো সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা -হাঙ্গামা সৃষ্টি হতে পারে বলে এলাকার সচেতনবাসী আশংকা প্রকাশ করছেন।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

বিরলে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৯:২২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২০

দিনাজপুরে বিরল উপজেলার দক্ষিন বিষ্ণুপুর গ্রামে ভুয়া মালিক সেজে ভুমিদস্যুরা ফলজ বাগানের ভিতরে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি জবর-দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের দুধ কুমার, নিরঞ্জন ও প্রমথ সহ ৬/৭ জনের একটি চক্র ভুয়া মালিক সেজে ঘুঘুডাঙ্গা চৌধুরী পরিবারের সম্পত্তি জবর-দখলের উদ্দেশ্যে ইটের পাকা ভবন নির্মানের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে ভিত্তি প্রস্তরেরে কাজ শুরু করে। এই খবর পেয়ে চৌধুরী পরিবারের সন্তান আলহাজ্ব ডাঃ চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী গত ১৩ মে অফিসার ইনচার্জ বিরল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার এস আই নজরুল ইসলাম উভয় পক্ষকে ১৭ মে বেলা প্রায় ১১টায় থানায় একটি শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষকে নিয়ে এসএই নজরুল ইসলাম দক্ষিণ বিষ্ণপুর গ্রামে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পুলিশ ঠিকাদারকে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভবন নির্মান কাজ বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেন। ফলে নির্মানাধীন কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ব্যাপারে অত্র ইউপি’র ওয়ার্ড সদস্য মোঃ জয়নাল আবেদীন মুঠোফোনে বলেন, মনোরোমা দেবী উক্ত সম্পত্তির মালিক হিসেবে তার লোকজনকে পুর্ন সহযোগিতা করবে বলে তিনি কথা দিয়েছেন। কিন্তু জমির মালিকানা কাগজ দেখেছেন কিনা তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। দুধ কুমার, নিরোঞ্জন ও রাজকুমার সহ অনেকে জানায়, সম্পত্তির মালিক মনোরোমা দেবী বা দেবত্তর সম্পত্তি নয়। উক্ত সম্পত্তির মালিক ঘুঘুডাঙ্গা চৌধুরী পরিবার। আমরা চৌধুরী পরিবারের কাছে ১২ শতক জমি চকের দীঘি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নামে জমিটি অনুদান চেয়েছি। কিন্তু চৌধুরী পরিবার আমাদের অনুরোধে মৌখিকভাবে ৬ শতক জমি মৌখিকভাবে দান করেছেন। কিন্তু দলিল করে দেননি। মৌখিক ভাবে জমিটি দান করায় ইতিপূর্বে সরকারি ভাবে বরাদ্দ কৃত টাকা দিয়ে উক্ত জমিতে দু’কক্ষ বিশিষ্ট বারান্দা সম্বলিত একটি মন্দির নির্মান করে আমরা পূজা অর্চনা করে আসছি। আমাদের মধ্যে কতিপয় ব্যাক্তি গোপাল জিঁও ঠাকুর দেবোত্তর সম্পত্তি পূর্ব সেবাইত – মনোরোমা দেবী, বর্তমান সেবাইত শ্রী প্রমোথ চন্দ্র দাস, দিনাজপুর জেলার বিরল থানার দক্ষিন বিষ্ণুপুর মৌজা, জে এল নং-২৩১, দাগ নং- ৩২৮, পুকুরপাড়, দেবোত্তর সেবাইত মোনোরোমা দেবী লিখা একটি সাইনবোর্ড মন্দিরের কেচি গেটের উপরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই সম্পত্তি দেবত্তর সম্পত্তি হিসেবে তারা অপপ্রচার চালাতে থাকে। এই অপপ্রচার দিন দিন ভিন্ন রুপ ধারণ করতে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে বলেন, ঐ চক্রের লোকজন ৬ বা ১২ শতক তো দুরের কথা দেবোত্তর হিসেবে তারা পুকুর সহ পুরো সম্পত্তি গ্রাস করার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে । এ নিয়ে এলাকায় যে কোনো সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা -হাঙ্গামা সৃষ্টি হতে পারে বলে এলাকার সচেতনবাসী আশংকা প্রকাশ করছেন।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ