০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: পুলিশের গুলিবর্ষণ

আজ শনিবার ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের নেতাসহ ১৮ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ২৬টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান ওরফে হামিদ মাতুব্বরের সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছিল।
হাবিবুর রহমান ও সেলিম মাতুব্বর সম্পর্কে তাওই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিবুর রহমানের কয়েক সমর্থক মাঝারদিয়া বাজারে গেলে সেলিম মাতুব্বরের এক সমর্থক একজনকে থাপ্পড় মারেন। এর জেরে সারা রাত ওই গ্রামে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। উত্তেজনার একপর্যায়ে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুই পক্ষের দুই হাজারের বেশি সমর্থক ঢাল, কাতরা, সড়কি, বল্লম, ইটসহ প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। পরে সালথা থানার পুলিশ শর্টগানের ২৬টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সংঘর্ষের সময় সেলিম মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় মাথায় কোঁচের কোপে সেলিম আহত হন। তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও ১৬ জন আহত হন। বেশির ভাগই ইটের আঘাতে আহত হন। আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সেলিম মাতুব্বর বলেন, ‘আমার সমর্থক ইউপি সদস্য (দুই নম্বর ওয়ার্ড) কবির মোল্লার সাথে ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি কবির চেয়ারম্যানের পক্ষে যোগ দেয়। এই সুযোগে চেয়ারম্যান আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে এ সংঘর্ষ বধায়।’

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার সমর্থকেরা মাঝারদিয়া বাজারে গেলে তাদের মারা হয় এবং বাজার থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ জন্য এ সংঘর্ষ হয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ২৬টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি আরও বলেন, ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি কিংবা কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: পুলিশের গুলিবর্ষণ

প্রকাশিত : ০৫:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭

আজ শনিবার ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের নেতাসহ ১৮ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ২৬টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান ওরফে হামিদ মাতুব্বরের সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছিল।
হাবিবুর রহমান ও সেলিম মাতুব্বর সম্পর্কে তাওই।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিবুর রহমানের কয়েক সমর্থক মাঝারদিয়া বাজারে গেলে সেলিম মাতুব্বরের এক সমর্থক একজনকে থাপ্পড় মারেন। এর জেরে সারা রাত ওই গ্রামে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। উত্তেজনার একপর্যায়ে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে দুই পক্ষের দুই হাজারের বেশি সমর্থক ঢাল, কাতরা, সড়কি, বল্লম, ইটসহ প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। পরে সালথা থানার পুলিশ শর্টগানের ২৬টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সংঘর্ষের সময় সেলিম মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় মাথায় কোঁচের কোপে সেলিম আহত হন। তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও ১৬ জন আহত হন। বেশির ভাগই ইটের আঘাতে আহত হন। আহত ব্যক্তিদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সেলিম মাতুব্বর বলেন, ‘আমার সমর্থক ইউপি সদস্য (দুই নম্বর ওয়ার্ড) কবির মোল্লার সাথে ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি কবির চেয়ারম্যানের পক্ষে যোগ দেয়। এই সুযোগে চেয়ারম্যান আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে এ সংঘর্ষ বধায়।’

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার সমর্থকেরা মাঝারদিয়া বাজারে গেলে তাদের মারা হয় এবং বাজার থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ জন্য এ সংঘর্ষ হয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ২৬টি গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি আরও বলেন, ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি কিংবা কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি।