ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানান হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত ৪০৪৬টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রসমূহে ইতোমধ্যে ৬০০০ লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।করোনা রোগী, আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে আলাদা আলাদা আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদা রুমে রাখা হবে। সিপিপির ৬৬৬০ ভলান্টিয়ার, রেডক্রিসেন্টের ৮০০০ ভলান্টিয়ার এবং স্কাউটস সদস্যরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এর মধ্যে ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ২ লক্ষ পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কাছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার পিচ পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট রয়েছে। ইতোমধ্যে সকল জাহাজ ও ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। চট্টগ্রামের কুমিরা ঘাট হতে সন্ধীপ ও হাতিয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তাদের উদ্ধার সরঞ্জাম ও নিজস্ব জনবলের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সকল টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভাগীয় তথ্য অফিস থেকে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক মাইকিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বেতার ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত বুলেটিন প্রচার করছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে যার নম্বর হল ৬১১৫৪৫ এবং ১০৭০০-৭১৬৬৯১। সিটি করপোরেশনও নিজস্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ও কন্ট্রোল রুম খুলেছে। এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান আজ বিকালে সচিবালয়ে অনলাইনে প্রেস ব্রিফিং করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম থেকে ৮১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ২৪৫ কিলোমিটার। আম্পান মোকাবিলায় আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। আজ রাতের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাসস্থানে বসবাসকারী সকল মানুষকে সরিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল সকাল ৬ টায় ঘূর্ণিঝড় মহাবিপদ সংকেত দেখানো হবে। ঘূর্ণিঝড়টি ২০ মে বিকাল থেকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।






















