“মানুষ মানুষের জন্য,সেবাই ধর্ম” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার সদরের হাজী মোঃ আবদুল খালেকের ছেলে ও ‘মা- বাবা ফাউন্ডেশন’এর প্রতিষ্ঠাতা ফ্রান্স প্রবাসী মোঃ তাওসীফ আহমেদ জীবন এর ব্যাক্তিগত উদ্যোগে রমজানের প্রথম দিন থেকে প্রতি রাতে ৪শত থেকে ৫শত অসহায়দের মাঝে সেহরী বিতরণ করে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। ২৭ রমজান(২১মে ২০২০)বৃহস্পতিবার বিকেলে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনার বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আবু ছালেক মো: সেলিম রেজা সৌরভ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো: মাসুদ পারভেজ। ফ্রান্স প্রবাসী মো: তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে অনেক দোকানপাট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকার কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেক অসহায় মানুষের সেহরী খাওয়া হয় না। আবার অনেকের আয় রোজগার বন্ধ। তাই রমজান মাসের উপলক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন হাট বাজার , স্কুল, মাদ্রাসার নাইট গার্ড,পথশিশু,এতিম ও অনেক অসহায় মানুষের জন্য নিজ হাতে রান্না করে নিজেই খাবার বিতরণ করি। করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ অসহায় হওয়াতে এবং তাদের পাশে থেকে মানবিক দৃষ্টিতে সাহায্য করাটাই আমার মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান। মোঃ তাওসীফ আহমেদ জীবন ২০১৬ সালে “মা-বাবা ফাউন্ডেশন” নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। যার মূল স্লোগান “মানুষ মানুষের জন্য -সেবাই ধর্ম ” তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন মা- বাবার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় আমি নিজেকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করতে চাই।প্রতি রাতে খাবার রান্না করে পরিবারে সকল সদস্যদের নিয়ে খাবার প্যাকেট করে রাত ২ টা থেকে নিজেই গাড়ি দিয়ে বুড়িচং থেকে শুরু করে কুমিল্লা জেলার সদর ও সদর দক্ষিণ এলাকায় অসহায় মানুষের মাঝে সেহরী বিতরণ করি। তিনি ২০১৬ সাল থেকে চারটি হাফিজিয়া এতিম খানার খরচ বহন করে আসছেন। তার বাবা হাজী মোঃ আব্দুল খালেক বলেন গত ৪১ বছর ধরে বি-বাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জেটুয়ামোড়া গ্রাম থেকে চাকুরীর করার কারণে বুড়িচং বসবাস করে আসছি ।বুড়িচং বাসীর সাথে মনের মিল হয়ে যাওয়া চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর আর নিজের এলাকায় যাইনি।বুড়িচংয়ে জায়গায় জমি ক্রয় করে এখানে স্হায়ী বাসিন্দা হয়েছি। তার ধর্মীয় গুরু কাজী আমজাদ হোসেন নুরী বলেন-তাওসীফ আহমেদ জীবন সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তার কাজে উৎসাহ প্রদান করে আসছি এবং তার জন্য দোয়া করি-সে যেন মানুষের কল্যাণে আগামী দিনগুলোতে আরো অবদান রাখতে পারে।সমাজ সেবক মোঃ সাইফুল ইসলাম রমজান বলেন, আমার প্রতিবেশী তাওসীফ আহমেদ জীবন ক্ষুর্ধাত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সমাজের অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি রয়েছে যারা এই ধরণে উদ্যোগ নিতে সাহস করেনি। কিন্তু তাওসীফ রোজদার মানুষের সেহরীর ব্যবস্থা করেছে। তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন পুরো রমজান মাসে তার এ সেহরী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। কোনো অর্থ নয় সকলের দোয়া কামনা করেন তাওসীফ আহমেদ। তার এ মহৎ কাজকে সমাজের সকল পর্যায়ের লোকজন সাধুবাদ জানান। এ দিকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ বলেন,’মা-বাবা ফাউন্ডেশন’নামে অসহায় মানুষের জন্য সেহেরী বিতরণ করে সাহসী ভূমিকা রেখে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতিমধ্যে সকল অসহায়দের মনের মাঝে’মানবতার সেবক জীবন’ নাম লিখে রাখলেন। আমি তার ভালো উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং তার দির্ঘায়ু কামনা করি সবসময় যেনো মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারে। পাশাপাশি তার গর্বিত বাবা-মাকে শ্রদ্ধা জানাই।
বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান






















