সেকায়েপ প্রকল্
এসিটিদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু “করোনা:বিপর্যস্ত শিক্ষা ও পুনর্গঠনে করণীয়,” শীর্ষক এক অনলাইন টকশোতে অালোচক হিসেবে এ কথা বলেন।
টকশোটি বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক আকতারুজ্জামানের সঞ্চালনায় ২৩ মে শনিবার বিকাল চারটায় শিক্ষা টিভিতে অনুষ্ঠিত হয়।
টকশোতে অপর আলোচক হিসেবে ছিলেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া।
সঞ্চালক আকতারুজ্জামান শিক্ষাটিভির পেজে এসিটি মাহিউদ্দীন মাহী ও রাফিউল ইসলাম রাফির কমেন্টকে কেন্দ্র করে অালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বলেন,”আমরা জানি অতিরিক্ত শ্রেণী শিক্ষকেরা বিগত দুই বছর ধরে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন,অবস্থান কর্মসুচি ও স্মারকলিপি প্রদান করে আসছে।
তাদেরকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার মডেল শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের অধিকাংশই খুব ভালো রেজাল্টধারী। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তাদেরকে অন্য একটি প্রকল্প বা রাজস্বখাতে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল বলে তারা জানিয়েছেন।
কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার তাদের বিষয়ে কোন ইতিবাচক সিদ্বান্ত নেয় নি।”
এ বিষয়ে শাহজাহান আলম সাজুর কাছে জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, “আমরা তাদের দাবির সাথে একমত। তাদের নেতৃবৃন্দ আমাদের কাছে এসেছিলেন।তাদেরকে আমরা পরামর্শ দিয়েছি।আমরাও বলতে চাই , যেহেতু তারা দীর্ঘদিন চাকুরি করে একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।তাদের সেই অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষার জন্য প্রয়োজন।
যেহেতু তারা দীর্ঘদিন কাজ করেছে এবং বেতনও পেয়েছে। মাঝ পথে এসে তাদের প্রজেক্ট শেষ হওয়ায় তাদেরকে নবায়ন করা হয় নি।আমার বক্তব্য থাকবে, আমরা তাদের দাবির সাথে একমত। তাদের সমস্যাটাকে সমাধান করতে হবে।
শিক্ষা টিভির পেজে অসংখ্য এসিটি টকশো চলাকালীন সময় কমেন্টের মাধ্যমে তাদের চাকুরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষককের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষাবান্ধব সরকার সেকায়েপ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৫২০০ জন মেধাবী স্নাতক ও স্নাতকত্তোরধারীদের বিষয়ভিত্তিক (ইংরেজি,গণিত ও বিজ্ঞান) অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষক (এসিটি) হিসেবে ৩ বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন যাদের মডেল শিক্ষক বলা হয়। নিয়োগটি চুক্তিভিত্তিক হলেও এসিটি ম্যানুয়াল অনুযায়ী ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাশের হার বৃদ্ধি ও বিষয়ভিত্তিক মান বৃদ্ধির সাথে ঝড়ে পড়া রোধ, নিয়মিত ক্লাসের বাইরে ৩ বিষয়ে ৩৭,২০,০৯৪ টি অতিরিক্ত ক্লাস (সূত্র: ব্যানবেইস-২০১৮) নেয়ার ফলে কোচিং বাণিজ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য চাকরি স্থায়ীকরণ হওয়ার কথা। গত ২৯ মাসে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বিধায় অধিকাংশ এসিটির সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষ। এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষে এসিটি কর্তৃক নিয়মিত পাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস না হওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেকায়েপভুক্ত প্রতিষ্ঠান তথা দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উপর। এসিটিদের দাবি, এসিটি ম্যানুয়ালের ৩৬ নং ধারা, অভিজ্ঞতা, বয়স ও মানবিক দিক বিবেচনা করে ২৯ মাসের বকেয়া বেতন প্রদান সহ দ্রুত চাকরি স্থায়ীকরণ বা বিনাশর্তে এসইডিপি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্তির জন্য এই মুজিববর্ষে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।






















