০৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

পেঁয়াজের দাম কমে ৮০ টাকা

রাজধানীসহ সব জায়গাতে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজ বাজার আসতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হয়েছে। নতুন দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। ভারত থেকে আনা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৫০ থেকে ৫২ টাকা এবং রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

কোনো কোনো পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে নেমে গেছে ৪৮ টাকায়। খুচরা বাজারে তিন দিন আগে দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। সোমবার ক্ষেত্রবিশেষে ৫৫ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান রবিবার বলেন, পণ্যের দাম কোনো সময় কমতে পারে আবার বাড়তেও পারে। যখন কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, তখনই জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। তাই এটা দূর করতে সরকারকেই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে চাহিদা নিরূপণ করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পণ্যের দাম কমতে বাধ্য।

এদিকে সোমবার সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো সংকট দেখা যায়নি। বাজারে পাইকারি আড়তে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের বস্তা দেখা গেছে। আর খুচরা বাজারেও কোনো ধরনের সংকট লক্ষ করা যায়নি।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের পেঁয়াজের বাজার ভারত থেকে আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়েছে, তাই দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিও কমে গেছে। এ কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু বাড়তি ছিলো। দেশের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দেশি পেঁয়াজ আছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, তাই দাম একটু বাড়তির দিকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টন, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবমতে, গেল অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন বেশি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে পেঁয়াজের জোগান এসেছে ২৯ লাখ টন। দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন বলে ধারণা করা হয়।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, যখনই দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে, তখনই ভারতীয়রা পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দিয়েছে, যাতে আমাদের দেশের কৃষক ভালো দাম না পান। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা ১১ মাস ব্যবসা করেছেন, এক মাস লোকসান দিলে তাদের তেমন একটা ক্ষতি হয় না। তাই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই এক মাস পেঁয়াজের দাম কম রাখবেন। আবার যখন বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সংকট দেখা দেবে, তখন দাম বাড়িয়ে দেবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

পেঁয়াজের দাম কমে ৮০ টাকা

প্রকাশিত : ০৯:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭

রাজধানীসহ সব জায়গাতে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজ বাজার আসতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু হয়েছে। নতুন দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৫৬ টাকা দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। ভারত থেকে আনা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৫০ থেকে ৫২ টাকা এবং রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।

কোনো কোনো পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে নেমে গেছে ৪৮ টাকায়। খুচরা বাজারে তিন দিন আগে দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। সোমবার ক্ষেত্রবিশেষে ৫৫ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্যাবের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান রবিবার বলেন, পণ্যের দাম কোনো সময় কমতে পারে আবার বাড়তেও পারে। যখন কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, তখনই জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। তাই এটা দূর করতে সরকারকেই অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে চাহিদা নিরূপণ করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে পণ্যের দাম কমতে বাধ্য।

এদিকে সোমবার সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো সংকট দেখা যায়নি। বাজারে পাইকারি আড়তে পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজের বস্তা দেখা গেছে। আর খুচরা বাজারেও কোনো ধরনের সংকট লক্ষ করা যায়নি।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের পেঁয়াজের বাজার ভারত থেকে আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়েছে, তাই দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিও কমে গেছে। এ কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু বাড়তি ছিলো। দেশের পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দেশি পেঁয়াজ আছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, তাই দাম একটু বাড়তির দিকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টন, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবমতে, গেল অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন বেশি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে পেঁয়াজের জোগান এসেছে ২৯ লাখ টন। দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ লাখ টন বলে ধারণা করা হয়।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, যখনই দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে, তখনই ভারতীয়রা পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দিয়েছে, যাতে আমাদের দেশের কৃষক ভালো দাম না পান। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা ১১ মাস ব্যবসা করেছেন, এক মাস লোকসান দিলে তাদের তেমন একটা ক্ষতি হয় না। তাই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই এক মাস পেঁয়াজের দাম কম রাখবেন। আবার যখন বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সংকট দেখা দেবে, তখন দাম বাড়িয়ে দেবে।