০৬:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

ভালুকায় সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে এনজিওর কিস্তি আদায়

করোনার বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশেই চলছে লকডাউন। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। সেকারণে সরকার দেশের সবধরণের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে সারাদেশের ন্যায় ভালুকায়ও সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত খুলতে শুরু করেছে। এর সুযোগে সরকারের নিষেজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন এনজিও’র মাঠকর্মীরা এলাকায় কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছে কোমড় বেঁধে। ফলে এখনও কাজে যোগদান করতে না পারা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা দিনমজুর পরিবার পড়েছে চরম বিপাকে। এ নিয়ে উপজেলার সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রমতে, সরকার আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এনজিও ঋণ শ্রেণিকরণ কার্যকর হবে না বলে নির্দেশনা জারি করে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময় শেষে কোন প্রকার জরিমানা ছাড়াই বকেয়া কিস্তি গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ভালুকায় অধিকাংশ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত এনজিওগুলো এ নির্দেশনা না মেনে মাঠকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঋণ গ্রহীতাদের কাছে কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরজমিনে ভালুকা উপজেলার কয়েকটি এনজিও অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, অফিসগুলোতে পুর্বের ন্যায় কার্যক্রম চলছে। অফিস সহকারীরা অফিস পাহারা দিচ্ছেন আর কর্মিরা মাঠে গিয়েছেন কিস্তি আদায় করতে। করোনায় চলমান ক্রান্তিলগ্নে অধিকাংশ এনজিও’র পক্ষ থেকে ঋণ গ্রহীতাদের কোন ধরনের সহযোগিতার খবর পাওয়া যায়নি। ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুকিছু এনজিও কর্মিরা ঈদের পর থেকেই কিস্তি আদায়ের জন্য মোবাইলে সদস্যদের চাপ দিতে শুরু করেছে। কিন্তু লকডাউন সিথিল হওয়ার পর থেকে পুরো দমে কিস্তি আদায় করতে শুরু করেছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঋন গ্রহিতা কয়েকজন বলেন, এনজিও কর্মিদেরকে ঋনের কিস্তি নিয়মিত না দিলে পরবর্তিতে আর ঋণ দিবেননা বলে হুমকি দিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই তারা ঋনের কিস্তি নিয়মিত দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি এনজিও কর্মিদের কথা শুনতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এর বিনিয়োগ কর্মকর্তা আকাতারুজ্জামান বলেন, ‘উপরের নির্দেশে কিস্তি আদায় শুরু করেছি। তবে, ঋণ আদায়ে কাউকেউ কোন চাপ দেয়া হচ্ছেনা।’ দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজার আব্দুস ছালাম ফোনে বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ কে বলেন ‘অফিসে আসেন স্বাক্ষাতে কথা বলবো।’ শিক্ষক ও সমাজকর্মী হাবিব জেহাদী বলেন, ‘করোনার প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এর মাঝে আবার ঋণের চাপ বিষয়টা খুবই অমানবিক। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার জন্য অনোরুধ করছি।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল বলেন, ‘ সরকার আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এনজিও এবং ক্ষুদ্র ঋণ স্থগিত করে নির্দেশনা জারি করেছেন। কেউ যদি এ নির্দেশ অমান্য করে তহালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

ভালুকায় সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে এনজিওর কিস্তি আদায়

প্রকাশিত : ০৪:০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২০

করোনার বিস্তার ঠেকাতে সারাদেশেই চলছে লকডাউন। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। সেকারণে সরকার দেশের সবধরণের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে সারাদেশের ন্যায় ভালুকায়ও সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত খুলতে শুরু করেছে। এর সুযোগে সরকারের নিষেজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন এনজিও’র মাঠকর্মীরা এলাকায় কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছে কোমড় বেঁধে। ফলে এখনও কাজে যোগদান করতে না পারা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা দিনমজুর পরিবার পড়েছে চরম বিপাকে। এ নিয়ে উপজেলার সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রমতে, সরকার আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এনজিও ঋণ শ্রেণিকরণ কার্যকর হবে না বলে নির্দেশনা জারি করে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময় শেষে কোন প্রকার জরিমানা ছাড়াই বকেয়া কিস্তি গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ভালুকায় অধিকাংশ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত এনজিওগুলো এ নির্দেশনা না মেনে মাঠকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঋণ গ্রহীতাদের কাছে কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সরজমিনে ভালুকা উপজেলার কয়েকটি এনজিও অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, অফিসগুলোতে পুর্বের ন্যায় কার্যক্রম চলছে। অফিস সহকারীরা অফিস পাহারা দিচ্ছেন আর কর্মিরা মাঠে গিয়েছেন কিস্তি আদায় করতে। করোনায় চলমান ক্রান্তিলগ্নে অধিকাংশ এনজিও’র পক্ষ থেকে ঋণ গ্রহীতাদের কোন ধরনের সহযোগিতার খবর পাওয়া যায়নি। ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছুকিছু এনজিও কর্মিরা ঈদের পর থেকেই কিস্তি আদায়ের জন্য মোবাইলে সদস্যদের চাপ দিতে শুরু করেছে। কিন্তু লকডাউন সিথিল হওয়ার পর থেকে পুরো দমে কিস্তি আদায় করতে শুরু করেছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঋন গ্রহিতা কয়েকজন বলেন, এনজিও কর্মিদেরকে ঋনের কিস্তি নিয়মিত না দিলে পরবর্তিতে আর ঋণ দিবেননা বলে হুমকি দিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই তারা ঋনের কিস্তি নিয়মিত দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি এনজিও কর্মিদের কথা শুনতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এর বিনিয়োগ কর্মকর্তা আকাতারুজ্জামান বলেন, ‘উপরের নির্দেশে কিস্তি আদায় শুরু করেছি। তবে, ঋণ আদায়ে কাউকেউ কোন চাপ দেয়া হচ্ছেনা।’ দি ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এর ম্যানেজার আব্দুস ছালাম ফোনে বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করে আজকের বিজনেস বাংলাদেশ কে বলেন ‘অফিসে আসেন স্বাক্ষাতে কথা বলবো।’ শিক্ষক ও সমাজকর্মী হাবিব জেহাদী বলেন, ‘করোনার প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এর মাঝে আবার ঋণের চাপ বিষয়টা খুবই অমানবিক। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার জন্য অনোরুধ করছি।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল বলেন, ‘ সরকার আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এনজিও এবং ক্ষুদ্র ঋণ স্থগিত করে নির্দেশনা জারি করেছেন। কেউ যদি এ নির্দেশ অমান্য করে তহালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ