শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী খন্দকার কবির হোসেন (৪০) নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি।
কবির হোসেন চরশেরপুর দড়িপাড়া গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আগামী ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ওই ওয়ার্ডের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পায়নি। তবে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও কবির হোসেনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত নয়টার দিকে চরশেরপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিপক্ষ এক প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর(কবির) বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি চরশেরপুর দড়িপাড়া গ্রামে বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু ওই দিন রাত ১২টার দিকে মুঠোফোনে এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের লোকজন তাঁর সন্ধান পাননি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে কবিরের নিজ গ্রাম দড়িপাড়া ও দশকাহনিয়া গ্রামের মাঝামাঝি রাস্তার পাশে স্থানীয়রা তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনকে খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন মোটরসাইকেলের পাশে রক্তের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সদর থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। তবে এখন পর্যন্ত কবির হোসেনের কোনো সন্ধান পায়নি।
কবির হোসেনের শ্যালক মো. আবু শামা মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ভগ্নিপতিকে গুম করে থাকতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা জিডি করা হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং কবির হোসেনের সন্ধানে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় চরশেরপুর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে খন্দকার কবির হোসেনসহ চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ আলী, মো. আবদুল মান্নান মিয়া ও মো. মাসুদ রানা। গত ২ জুলাই ওই ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী খন্দকার কবির হোসেনের নিখোঁজের ঘটনায় নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো প্রভাব পড়বে না।




















