ঢাকা দুপুর ১২:৪২, মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

করোনায় টালমাটাল প্রাথমিক শিক্ষা, ঝুঁকি বাড়ছে শিক্ষকদের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষা। এখন পর্যন্ত প্রাথমিকের ৩১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন প্রাথমিকের পাঁচ শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৪৮ জন শিক্ষক করনোভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে প্রতিদিনই প্রাথমিকের ১৫ থেকে ২০ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে গত ২২ জুন মারা গেছেন দুজন শিক্ষক।

ডিপিইর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রাথমিকের ২৭ জন শিক্ষক, ৩৬ জন কর্মকর্তা, ২২ জন কর্মচারী ও ১৩ জন শিক্ষার্থী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে মনে করছেন অনেকে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, শিক্ষক-কর্মকর্তারা যেমন আক্রান্ত হচ্ছেন, আক্রান্ত হচ্ছে তাদের পরিবারের সদস্যরাও। এদের বেশিরভাগই অর্থসংকটের কারণে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। চিকিৎসা করতে হচ্ছে ঘরোয়া পদ্ধতিতে।

তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু সম্ভব খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাদেরকে সরকারিভাবে সহায়তা না করা হলে আরো অনেক শিক্ষক আক্রান্ত হবেন। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে পারে। যা পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের বেতন হচ্ছে নিয়মিত তবে বেতন দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। এজন্য সবসময়ই চাকরির পাশাপাশি কিছু একটা করতে হত আমাদেরকে। লক ডাউনের কারণে সেটি বন্ধ। যে কারণে করোনা আক্রান্ত অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিজেদের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

তিনি বলেন, করোনার কারণে এতদিন ধরে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেখা যাবে অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা মারা গেছেন, তখন স্কুল খোলা থাকলেও ক্লাস চলবে না! সরকারের কাছে অনুরোধ এমন পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিন। প্রাথমিকের শিক্ষকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

এ ব্যাপারে ডিপিই’র মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবার খোঁজ নেয়া হচ্ছে। কেউ আক্রান্ত হলে তার তথ্য সংগ্রহ করে আমরা প্রকাশ করছি। প্রাথমিক পরিবারের সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ও সহায়তা দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/এসএম

এ বিভাগের আরও সংবাদ