সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের মাঠে মাঠে হাসছে সূর্যমুখী ফুল। চলতি মৌসুমে ব্যাপক হারে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক।ইতিমধ্যে গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে।বসন্ত বিলাসে চারদিকের সবুজ মাঠে এ ফুল হলুদ আভার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। সূর্যমুখী দর্শকদের হৃদয়ে দোল খেলে গেলেও এটি মূলত ফুল হিসেবে চাষ নয়। এর বীজ থেকে তৈল উৎপাদনের জন্য এ ফুলের চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি গো-খাদ্য হিসেবে খৈলও উৎপাদিত হয়।
উপজেলার বড় ধুনাইল ও বিন্যাদাইর গ্রামে কৃষকের পতিত জমিতে ফুটে আছে শত শত সূর্যমুখী ফুল।
জানা যায়,কৃষি অধিদপ্তরের তৈলবীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা নিয়ে জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে ফুলে ফুলে ভরে গেছে সূর্যমুখীর ক্ষেতটি। যা দেখে মুগ্ধ কৃষকসহ দর্শনার্থীরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফসলের মাঠে সবুজ গাছে হলুদ ফুল অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করেছে। সবুজ পাতার ভেতর থেকে বড় বড় হলুদ সূর্যমুখী ফুলগুলো মাথা উচুঁ করে প্রকৃতিতে নিজের সৌন্দর্য জানান দিচ্ছে। স্থানীয় দর্শনার্থীদের মাধ্যমে সূর্যমুখী ফুলের মাঠের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ দল বেঁধে আসতে শুরু করেছে ফুলের মাঠ দেখতে। অনেকেই মাঠের ভিতরে ঢুকে শখ করে ছবি তুলেন। এতে করে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে কৃষককে।
কৃষক আলমাছ আলী বলেন, ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীরা ক্ষেতে ঢুকে ছবি তুলতে গিয়ে অনেক সময় গাছ ভেঙ্গে ফেলে ও ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায়। এতে করে সূর্যমুখী ক্ষেতের ক্ষতি হয়ে যায়।
শাহজাদপুর শহর থেকে আসা কলেজ ছাত্র রুবেল হোসেন বলেন, সূর্যমুখী ফুলের নান্দনিকতা উপভোগ করতে বন্ধুদের সাথে এই জমিতে এসেছি। ছবি তুলছি, ভিডিও করছি। খুব ভালো লাগছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর শাহজাদপুর উপজেলায় ৬ হেক্টর জমিতে সূর্য মুখী চাষাবাদ হয়েছে।ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় সূর্যমুখী ফুল ফুটেছে।এটা যেমন তৈল উৎপাদনের জন্য অর্থ করি গুরুত্বপূর্ণ ফসল।অন্যদিকে পর্যটকের খ্যাত সৃষ্টি করেছে।এবং আমাদের উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা সৌন্দর্য দেখার জন্য ভীড় করছে।আমাদের মাঠ পর্যার উপ-সহকারি কৃষি অফিসার সার্বক্ষণিক সূর্যমুখীর চাষাবাদের সুপরামর্শ দিয়ে আসছে।আমরা প্রণোদনার মাধ্যমে ২০জন কৃষকের বীজ ও সার দিয়েছিলাম।যেহেতু এটার ফলন ও সবকিছু ভালো হচ্ছে আশা করি আগামী বছর এই সূর্য মুখী আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।
ডিএস./






















