০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

নওগাঁয় এনজিও ব‍্যাবস্থাপকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর মান্দায় আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখার ব‍্যাবস্থাপক জুয়েল সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক স্কুল শিক্ষিকার কাছ থেকে জোরপূর্বক ঋনের কিস্তি আদায় এবং কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী মান্দা উপজেলার ভেবড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে তিনি জেলা প্রসাশক বরাবর একটি লিখিতি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা যায়। শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে । নারীলিপ্সা,লম্পট ম্যানেজার এবং তার সহযোগীদের এমন ন্যাক্কারজনক আচরণে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভূক্তভোগীসহ স্থানীয়রা তাদের অপসারণ দাবি করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখা থেকে গত ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ৫লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করার পর থেকে অদ্যবধি ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছিলেন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে (ঈদুল ফিতরের আগে অর্থাৎ ২০মে/২০২০) তার কাছ থেকে আগের কিস্তিগুলো চাপ প্রয়োগ করে আদায় করে নেয়া হয়।
ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষিকা জানান, তিনি সবসময় তাদের এনজিও’র সকলপ্রকার নিয়ম-কানুন মেনে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তার সাংসারিক অবস্থা খুব শোচনীয়। আর তাই তিনি বাধ্য হয়ে তার নিজের ব্যবহৃত স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে এবং ও অন্যান্য জিনিসপত্র বন্ধক রেখে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এমতাবস্থায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে আগের কিস্তিগুলো নিয়মিত দ্রুত পরিশোধ করলে আবারো ঋণ দেয়া হবে। আর এজন্য তারা আমার কাছ থেকে ঋণের কিস্তিগুলো আদায়ের জন্য বেশ পিড়াপিড়ি করছিলেন। এরপর অনেক সমস্যার মধ্যেও তিনি এনজিও কর্তৃপক্ষকে এক লক্ষ ৭২ হাজার ৫’শ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদেরকে টাকা দিতে বিলম্ব করায় আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখার ম্যানেজার জুয়েল, মাঠকর্মী মোজাম্মেল হোসেন, এরিয়া ম্যানেজার শওকত আলী এবং আরিফ হোসেন কু-প্রস্তাব দেয়। এরপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন ২০২০ ইং তারিখে নওগাঁ জেলা প্রসাশক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন। সেইসাথে তিনি ওই লম্পট ম্যানেজারসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।

অভিযুক্ত আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখার ম্যানেজার জুয়েলের কাছে মোবাইল ফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ফোনটি কেটে দেন। এ ব্যাপারে নওগাঁর জেলা প্রসাশক হারুন-অর- রশিদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

নওগাঁয় এনজিও ব‍্যাবস্থাপকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৭:০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০

নওগাঁর মান্দায় আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখার ব‍্যাবস্থাপক জুয়েল সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এক স্কুল শিক্ষিকার কাছ থেকে জোরপূর্বক ঋনের কিস্তি আদায় এবং কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী মান্দা উপজেলার ভেবড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা।

এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে তিনি জেলা প্রসাশক বরাবর একটি লিখিতি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা যায়। শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে । নারীলিপ্সা,লম্পট ম্যানেজার এবং তার সহযোগীদের এমন ন্যাক্কারজনক আচরণে স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভূক্তভোগীসহ স্থানীয়রা তাদের অপসারণ দাবি করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখা থেকে গত ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ৫লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করার পর থেকে অদ্যবধি ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছিলেন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে (ঈদুল ফিতরের আগে অর্থাৎ ২০মে/২০২০) তার কাছ থেকে আগের কিস্তিগুলো চাপ প্রয়োগ করে আদায় করে নেয়া হয়।
ভুক্তভোগী ওই স্কুল শিক্ষিকা জানান, তিনি সবসময় তাদের এনজিও’র সকলপ্রকার নিয়ম-কানুন মেনে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তার সাংসারিক অবস্থা খুব শোচনীয়। আর তাই তিনি বাধ্য হয়ে তার নিজের ব্যবহৃত স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে এবং ও অন্যান্য জিনিসপত্র বন্ধক রেখে ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এমতাবস্থায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে আগের কিস্তিগুলো নিয়মিত দ্রুত পরিশোধ করলে আবারো ঋণ দেয়া হবে। আর এজন্য তারা আমার কাছ থেকে ঋণের কিস্তিগুলো আদায়ের জন্য বেশ পিড়াপিড়ি করছিলেন। এরপর অনেক সমস্যার মধ্যেও তিনি এনজিও কর্তৃপক্ষকে এক লক্ষ ৭২ হাজার ৫’শ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদেরকে টাকা দিতে বিলম্ব করায় আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখার ম্যানেজার জুয়েল, মাঠকর্মী মোজাম্মেল হোসেন, এরিয়া ম্যানেজার শওকত আলী এবং আরিফ হোসেন কু-প্রস্তাব দেয়। এরপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন ২০২০ ইং তারিখে নওগাঁ জেলা প্রসাশক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন। সেইসাথে তিনি ওই লম্পট ম্যানেজারসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।

অভিযুক্ত আশ্রয় এনজিও সতিহাট শাখার ম্যানেজার জুয়েলের কাছে মোবাইল ফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ফোনটি কেটে দেন। এ ব্যাপারে নওগাঁর জেলা প্রসাশক হারুন-অর- রশিদ বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ