০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বেনাপোল পৌরসভার বাজেট ঘোষনা

চলতি ২০২০-২০২১ অর্খবছরের জন্য ৫৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৬ টাকার বাজেট প্রনয়ণ করেছে, যশোর বেনাপোল পৌরসভা।

পৌরভবন মিলনায়তনে পৌর এলাকায় বসবাসকারী অধিবাসীদের সকল শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে বেনাপোল পৌরসভার সন্মানিত মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এই বাজেট ঘোষনা করেন।

এ বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের বিদায়ী কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কাস্টমস যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম,কাস্টমস উপ-কমিশনার পারভেজ রেজা চৌধুরী, বেনাপোল স্থল বন্দর-এর সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম, প্রবীন শিক্ষাবিধ আহসান উল্লাহ মাস্টার,বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সাহিদা রহমান সেতু প্রমুখ।

ভয়ঙ্কর মহামারির সঙ্গে লড়ছে বাংলাদেশ এবং লড়ছি বেনাপোলবাসীরাও। এই করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সারা পৃথিবীর মত বাংলাদেশও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এবার বেনাপোল পৌরসভার বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বাজেট বরাদ্দের ১৬ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের জন্য। এই টাকা দিয়ে বেনাপোলের তালশারিতে অবস্থিত ১০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ

২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল এই অর্থ বছরে নির্মান পূর্ণাঙ্গভাবে সু-সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে বেনাপোলের অধিবাসিদের আর যশোর শহরের হাসপাতালের দিকে ছুটতে হবে না। একই সাথে অতিদ্রুত এই মা ও শিশু হাসপাতালেই করোনা রোগ-এর উপসর্গ পরীক্ষা করনের প্রকল্পটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল পৌরসভায় মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বাজেট সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসইন চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘ দু’বছর ৭ মাস এই কর্মস্থলে থেকে আমার রাজস্ব আদায়ে আমার দেশের একজন শিক্ষিত নাগরিক হিসাবে যে দায়িত্ব পালন করেছি তার অন্যতম একটি হলো বেনাপোলে রেল আইসিডি টার্মিনাল নির্মানে সিদ্ধান্ত চূড়ান্তকরণ। মোট ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বেনাপোলে এই রেল আইসিডি নির্মানের কাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু হয়ে যাবে। তিনি বলেন মেয়র আাশরাফুল আলম লিটন একজন নান্দনিক লোক। তার সহযোগিতায় বেনাপোল এর দিঘিরপাড় থেকে শুরু হয়ে ভারত সীমানার চেকপোষ্ট পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই কিলোমাটার দূরত্বের বাইপাস সড়কটি দিয়ে ৭০ ভাগ পন্যবাহী যানবাহন যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে বেনাপোলের নাগরিক এলাকার সড়কগুলোতে আগের মত দুঃসহ যানজট আর নেই।

বাজেট অধিবেশনে সভাপতির ব্ক্তব্যে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন,আমরা একই আকাশের নীচে সকলেই বসবাস করি। আমাদের অনেকেই উন্নয়ন বলতেই বোঝেন রাস্তা,কালভা,ড্রেন ইত্যাদির উন্নয়ন। কিন্তু আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন হলো আমাদের আত্বিক উন্নয়ন। অর্থাৎ অন্তরের উদারতা তথা প্রসরতার উন্নয়ন। আর এই অর্জনটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে বেনাপোলকে একটি নান্দনীক জনপদে পরিনত করতে আমরা সক্ষম হবো। তার বক্তব্যর এক পর্যায়ে তিনি বিদায়ী কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে এই বেনাপোল পৌর নাগরিক এলকায় বসবাসের জন্য এক খন্ড জমি উপহার দেওয়ার ঘোষনা দেন।

মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বেনাপোল পৌর এলাকার যত ট্রান্সপোর্ট মালিক ব্যবসা করছেন তাদের প্রত্যেককেই ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন বাধ্যতামূলক করার কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সাথে সিএনএন্ডএফ ব্যবসায়ীসহ অন্যান্যদেরও ট্রেড লাইসেন্স যথাযথ ভাবে গ্রহণের আহবান জানান।

বাজেট বৈঠকের শুরুতেই প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের উত্তরীয় পড়িয়ে মেয়র মহোদয় সকলকেই সাদরে বরণ করে নেন।

উল্লেখ্য ২০১১ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মাত্র ৩ কোটি টাকা বাজেট থেকে তিনি এই পৌরসভার উন্নয়নে এখন তা ৫৪ কোটিতে উন্নীত করেছেন। তিনি এই পৌরসভার অসংখ্য ড্রেন, কালভার্ট, পানি নিস্কাশন ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, হেলথ, স্যানিটেশন এর উন্নয়ন করেছেন। সেই সাথে তিনি বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য বেনাপোল পৌর আইটি কর্নার, হস্তশিল্প এবং নারী কর্নার করেছেন।

এছাড়া দেশের প্রথম পৌরসভা যেখানে প্রথম ষাটোর্ধ বয়স্ক মানুষের দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন বেনাপোল পৌর মেয়র লিটন। এছাড়া তিনি পথ শিশুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন “সুযোগ পেলে মানুষ হবো” নামে একটি স্কুল। মাদক থেকে দুরে রাখার জন্য তিনি বেনাপোল পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে গড়ে তুলেছেন ১৮ টি ক্লাব। সেখানে তিনি পৌরসভা থেকে খেলার সকল ধরনের উপকরন সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়া মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি বেনাপোল বলফিল্ডে মৌসুমি সকল ধরনের খেলাধুলার চর্চা করেন এলাকার কিশোরদের সাথে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

বেনাপোল পৌরসভার বাজেট ঘোষনা

প্রকাশিত : ০৩:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০

চলতি ২০২০-২০২১ অর্খবছরের জন্য ৫৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৬ টাকার বাজেট প্রনয়ণ করেছে, যশোর বেনাপোল পৌরসভা।

পৌরভবন মিলনায়তনে পৌর এলাকায় বসবাসকারী অধিবাসীদের সকল শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে বেনাপোল পৌরসভার সন্মানিত মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এই বাজেট ঘোষনা করেন।

এ বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের বিদায়ী কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কাস্টমস যুগ্ম কমিশনার শহিদুল ইসলাম,কাস্টমস উপ-কমিশনার পারভেজ রেজা চৌধুরী, বেনাপোল স্থল বন্দর-এর সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম, প্রবীন শিক্ষাবিধ আহসান উল্লাহ মাস্টার,বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা সাহিদা রহমান সেতু প্রমুখ।

ভয়ঙ্কর মহামারির সঙ্গে লড়ছে বাংলাদেশ এবং লড়ছি বেনাপোলবাসীরাও। এই করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সারা পৃথিবীর মত বাংলাদেশও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এবার বেনাপোল পৌরসভার বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বাজেট বরাদ্দের ১৬ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের জন্য। এই টাকা দিয়ে বেনাপোলের তালশারিতে অবস্থিত ১০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ

২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল এই অর্থ বছরে নির্মান পূর্ণাঙ্গভাবে সু-সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে বেনাপোলের অধিবাসিদের আর যশোর শহরের হাসপাতালের দিকে ছুটতে হবে না। একই সাথে অতিদ্রুত এই মা ও শিশু হাসপাতালেই করোনা রোগ-এর উপসর্গ পরীক্ষা করনের প্রকল্পটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেনাপোল পৌরসভায় মেয়র আশরাফুল আলম লিটন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বাজেট সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসইন চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘ দু’বছর ৭ মাস এই কর্মস্থলে থেকে আমার রাজস্ব আদায়ে আমার দেশের একজন শিক্ষিত নাগরিক হিসাবে যে দায়িত্ব পালন করেছি তার অন্যতম একটি হলো বেনাপোলে রেল আইসিডি টার্মিনাল নির্মানে সিদ্ধান্ত চূড়ান্তকরণ। মোট ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে

ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বেনাপোলে এই রেল আইসিডি নির্মানের কাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু হয়ে যাবে। তিনি বলেন মেয়র আাশরাফুল আলম লিটন একজন নান্দনিক লোক। তার সহযোগিতায় বেনাপোল এর দিঘিরপাড় থেকে শুরু হয়ে ভারত সীমানার চেকপোষ্ট পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই কিলোমাটার দূরত্বের বাইপাস সড়কটি দিয়ে ৭০ ভাগ পন্যবাহী যানবাহন যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে বেনাপোলের নাগরিক এলাকার সড়কগুলোতে আগের মত দুঃসহ যানজট আর নেই।

বাজেট অধিবেশনে সভাপতির ব্ক্তব্যে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন,আমরা একই আকাশের নীচে সকলেই বসবাস করি। আমাদের অনেকেই উন্নয়ন বলতেই বোঝেন রাস্তা,কালভা,ড্রেন ইত্যাদির উন্নয়ন। কিন্তু আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন হলো আমাদের আত্বিক উন্নয়ন। অর্থাৎ অন্তরের উদারতা তথা প্রসরতার উন্নয়ন। আর এই অর্জনটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে বেনাপোলকে একটি নান্দনীক জনপদে পরিনত করতে আমরা সক্ষম হবো। তার বক্তব্যর এক পর্যায়ে তিনি বিদায়ী কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে এই বেনাপোল পৌর নাগরিক এলকায় বসবাসের জন্য এক খন্ড জমি উপহার দেওয়ার ঘোষনা দেন।

মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বেনাপোল পৌর এলাকার যত ট্রান্সপোর্ট মালিক ব্যবসা করছেন তাদের প্রত্যেককেই ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন বাধ্যতামূলক করার কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সাথে সিএনএন্ডএফ ব্যবসায়ীসহ অন্যান্যদেরও ট্রেড লাইসেন্স যথাযথ ভাবে গ্রহণের আহবান জানান।

বাজেট বৈঠকের শুরুতেই প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের উত্তরীয় পড়িয়ে মেয়র মহোদয় সকলকেই সাদরে বরণ করে নেন।

উল্লেখ্য ২০১১ সালে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মাত্র ৩ কোটি টাকা বাজেট থেকে তিনি এই পৌরসভার উন্নয়নে এখন তা ৫৪ কোটিতে উন্নীত করেছেন। তিনি এই পৌরসভার অসংখ্য ড্রেন, কালভার্ট, পানি নিস্কাশন ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, হেলথ, স্যানিটেশন এর উন্নয়ন করেছেন। সেই সাথে তিনি বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য বেনাপোল পৌর আইটি কর্নার, হস্তশিল্প এবং নারী কর্নার করেছেন।

এছাড়া দেশের প্রথম পৌরসভা যেখানে প্রথম ষাটোর্ধ বয়স্ক মানুষের দায়িত্ব নিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন বেনাপোল পৌর মেয়র লিটন। এছাড়া তিনি পথ শিশুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন “সুযোগ পেলে মানুষ হবো” নামে একটি স্কুল। মাদক থেকে দুরে রাখার জন্য তিনি বেনাপোল পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে গড়ে তুলেছেন ১৮ টি ক্লাব। সেখানে তিনি পৌরসভা থেকে খেলার সকল ধরনের উপকরন সরবরাহ করে থাকেন। এছাড়া মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি বেনাপোল বলফিল্ডে মৌসুমি সকল ধরনের খেলাধুলার চর্চা করেন এলাকার কিশোরদের সাথে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর