০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

সামান্য বৃষ্টিতে বেহাল দশা রংপুর সিটির!! চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

একনা ঝড়ি হইলেই হামার এ্যটে আস্তা (রাস্তা) তলে যায়। হাঁটু পানিত হাটাহাটি করা নাগে। ড্রেন নাই দেকি এই দুর্ভোগ নাগি আছে। মেয়র মেম্বার সবায় জানে, কিন্তু কায়ো এই আস্তাত ড্রেন বানে (তৈরি) না দেয়। একদিকি করোনা, বর্ষা শুরুর আগেই আবার হাঁটু পানি। এভাবেই আক্ষেপ থেকে কথাগুলো বলছিলেন আকলিমা বেগম।

রংপুর নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকলিমা বেগম। রাতে বৃষ্টি হলে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে এক হাঁটু পানিতে নামতে হয় তাকে। উপায় নেই বলেই হাঁটু পানি পার হতে হয় তাকে। আকলিমা বেগমের মতো ওই এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন পানিতে ভিজে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু বৃষ্টির পানি নয়, আশপাশের বাসা-বাড়ির পানিও রাস্তায় জমে থাকে। ড্রেন না থাকায় দিন দিন দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে রাস্তার কোলঘেষা বাড়িতেও পানি জমে। বিষয়টি কয়েকবার স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবগত করার পরও কোনো অগ্রগতি নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী জিয়া মিয়া বলেন, মন চায় রাস্তায় নৌকা দিয়ে চলাচল করি। প্রায় সাত-আট বছর ধরে মানুষ এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একটা ড্রেনের জন্য এখানকার মানুষ কতবার আবেদন করেছে। শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজ হয় না। এভাবে বছরের বেশির ভাগ সময় হাঁটু পানিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় আঃ মজিদ, মুন্নি বেগম ও আল-আমিন বলেন, আমরা চরম বিপদে রয়েছি। ড্রেন না থাকার কারণে বৃষ্টি হলেই পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। এক রাতের বৃষ্টিতেই একেবারে বন্যার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যাশ। বাড়িতে যাওয়ার কোনও উপায় থাকে না।

এলাকার বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম জানান, মসজিদে যে নামাজ পড়তে যাবো, সেটাও পারি না। কারণ ময়লা পানি বেয়ে যেতে হয়। করোনাকালে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা বসাচ্ছে জলাবদ্ধতা, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাবুব মোর্শেদ শামীমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি ।

সিটি করপোরেশনের গোপন সূত্রে জানা গেছে রংপুর সিটির ১৮ টি ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো প্রকার ড্রেন তৈরি করা হয় নি।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন,হালকা বৃষ্টিতে নগরীর এ বেহাল দশা। বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হলে আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে জানান তিনি।পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অতি দ্রুত সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন তুষার কান্তি মন্ডল।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

জনপ্রিয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

সামান্য বৃষ্টিতে বেহাল দশা রংপুর সিটির!! চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

প্রকাশিত : ০৭:৩০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০

একনা ঝড়ি হইলেই হামার এ্যটে আস্তা (রাস্তা) তলে যায়। হাঁটু পানিত হাটাহাটি করা নাগে। ড্রেন নাই দেকি এই দুর্ভোগ নাগি আছে। মেয়র মেম্বার সবায় জানে, কিন্তু কায়ো এই আস্তাত ড্রেন বানে (তৈরি) না দেয়। একদিকি করোনা, বর্ষা শুরুর আগেই আবার হাঁটু পানি। এভাবেই আক্ষেপ থেকে কথাগুলো বলছিলেন আকলিমা বেগম।

রংপুর নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকলিমা বেগম। রাতে বৃষ্টি হলে সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে এক হাঁটু পানিতে নামতে হয় তাকে। উপায় নেই বলেই হাঁটু পানি পার হতে হয় তাকে। আকলিমা বেগমের মতো ওই এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ প্রতিদিন পানিতে ভিজে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু বৃষ্টির পানি নয়, আশপাশের বাসা-বাড়ির পানিও রাস্তায় জমে থাকে। ড্রেন না থাকায় দিন দিন দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে রাস্তার কোলঘেষা বাড়িতেও পানি জমে। বিষয়টি কয়েকবার স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবগত করার পরও কোনো অগ্রগতি নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী জিয়া মিয়া বলেন, মন চায় রাস্তায় নৌকা দিয়ে চলাচল করি। প্রায় সাত-আট বছর ধরে মানুষ এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একটা ড্রেনের জন্য এখানকার মানুষ কতবার আবেদন করেছে। শুধু আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজ হয় না। এভাবে বছরের বেশির ভাগ সময় হাঁটু পানিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় আঃ মজিদ, মুন্নি বেগম ও আল-আমিন বলেন, আমরা চরম বিপদে রয়েছি। ড্রেন না থাকার কারণে বৃষ্টি হলেই পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। এক রাতের বৃষ্টিতেই একেবারে বন্যার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যাশ। বাড়িতে যাওয়ার কোনও উপায় থাকে না।

এলাকার বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম জানান, মসজিদে যে নামাজ পড়তে যাবো, সেটাও পারি না। কারণ ময়লা পানি বেয়ে যেতে হয়। করোনাকালে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা বসাচ্ছে জলাবদ্ধতা, এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাবুব মোর্শেদ শামীমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি ।

সিটি করপোরেশনের গোপন সূত্রে জানা গেছে রংপুর সিটির ১৮ টি ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো প্রকার ড্রেন তৈরি করা হয় নি।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন,হালকা বৃষ্টিতে নগরীর এ বেহাল দশা। বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হলে আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে জানান তিনি।পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অতি দ্রুত সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে নেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন তুষার কান্তি মন্ডল।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর