নওগাঁয় বিভিন্ন হাটে মাছ ধরার গ্রাম বাংলার সহজ লভ্য প্রাচীনতম উপকরণ বাঁশের তৈরি চাঁই বা খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে। উপজেলার হাটবাজারগুলোতে প্রতিদিন শত শত খলশানি বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব উপকরণ দিয়ে মাঠে দেশী ছোট জাতের মাছ ধরা হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আত্রাই, রাণীনগর, মান্দা, মহাদেবপুর, ধামইরহাটসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিন শতশত খলশানি বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার ঐতিহ্যবাহি আহসানগঞ্জ, শুক্রবার রাণীনগর উপজেলার লোহাচুড়া হাটের খলশানি পট্টিতে বেচা কেনার জন্য জনসাধারণের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া, রাণীনগর উপজেলার নিজামপুর, ঝিনা, খট্টেশ্বর, কৃষ্ণপুর-মালঞ্চিসহ বিভিন্ন গ্রামের ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের স্ত্রী, পূত্র, কন্যাসহ পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে এই অবসর মৌসুমে তাদের নিপুণ হাতের তৈরি করেন। এরপর তারা বাড়ি থেকে নিয়ে এসে উপজেলার আহসানগঞ্জ, কাশিয়াবাড়ি, সুটকিগাছা, পাইকরা, বজ্রপুর, বান্দাইখাড়া, মির্জাপুর-ভবানিপুর, মাজাজিহাট, চৌবাড়িয়া, মহাদেবপুরসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য পসরা খলশানি সাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
খলশানি তৈরীর কারিগররা জানান, বাঁশ কেটের খিল তৈরীর পর আগুনে তাপ দিতে হয়। এরপর সুতা এবং তাল গাছের আঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়। এসব খলশানি মানের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অঞ্চল ভেদে বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে মাছ শিকারীরা এখন থেকে পাইকারি মূল্যে তা নিয়ে যায়।
আত্রাই উপজেলার সিংসাড়া গ্রামের অনিত মহন্ত জানান, এ পেশায় জড়িত পরিবারগুলো বর্ষা মৌসুমে এর কদর বেশিও যথাযথ মূল্য পাওয়ায় মাত্র দুই তিন মাসেই খলসানি বিক্রি করেই তারা প্রায় বছরের খোরাক ঘরে তুলে নেয়। লাভ খুব বেশি না হলেও বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা থাকায় রাত দিন পরিশ্রমের মাধ্যমে খলশানি তৈরি করে তারা বেজাই খুশি। এক দিকে যেমন সময় কাটে অন্য দিকে লাভের আশায় বাড়ির সকল সদস্যরা মিলে খলশানি তৈরি কাজ করে অভাব অনঠনের কবল থেকে একটু সুখের নিশ্বাস ফেলে।
রাণীনগর উপজেলার ঝিনা গ্রামের বলাই কুমার জানান, এসব খলশানি তৈরিতে প্রকার ভেদে খরচ হয় ১শ’ টাকা থেকে ৩ শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে করে খুব বেশি লাভ না হলেও পৈত্রিক এ পেশা ছাড়তে পারেন না।
আধুনিকতার উৎকর্ষের তৈরি ছোট জাতের মাছ ধরার সুতি, ভাদায় ও কারেন্ট জালের দাপটের কারণে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি খলশানি সামগ্রী এমনিতেই টিকে থাকতে পারছে না। কিন্তু জীবনের তাগিদে তারা একেবারে কর্মহীন থাকতেও চায় না।
খলশানি তৈরীর কারিগর নমিতা রাণী, কতিবা রাণীসহ অন্যনার জানান, সরকারি বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা ও সহযোগীতা পেলে মৌসুমের আগে বেশি পরিমান খলশানি মজুত করা যেতো। এই মজুতকৃত খলশানিগুলো ভরা মৌসুমে বেশি দামে বিক্রি হলে লাভ ভালো হয়। খলশানি তৈরির সামগ্রীর দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাই আগের মতো আর লাভ হয় না। দীর্ঘ দিন থেকে বাপ দাদার সাথে এ ব্যবসায় জড়িত তাই ছাড়তেও পাড়ছি না। তারা আরও জানান, বর্ষা এবার আগাম শুরু হওয়ায় খলশানির কদরও বেড়েছে। হাট বাজারগুলোতেও পড়েছে বিক্রির ধুম।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















