০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি

গুরি গুরি বৃষ্টি পড়লেই রাঙ্গামাটিতে বেড়ে যায় পাহাড় ধসের আতঙ্ক। মানুষের হৃদয়ে সৃষ্টি হয় হাহাকার। একটু বৃষ্টি পড়লেই মনে পড়ে যায় ২০১৭ সালের ভয়াল পাহাড় ধস। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালের ১৩ জুনের পাহাড় ধসের এ সব এলাকায় প্রবল বর্ষণে যে কোনো মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি, মুসলিমপাড়া, শিমুলতলী, রাঙ্গাপানি, তবলছড়ি ও মহিলা কলেজ সংলগ্ন, টেলিভিশন সেন্টার এলাকা, রেডিও স্টেশন, যুব উন্নয়ন এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সাইনবোর্ড টাঙ্গানোসহ শহরে অনবরত মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে । জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি শহরসহ এর আনাচে-কানাচে ১০ হাজারের অধিক পরিবারের মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে ।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, জুন-জুলাই মাসে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়।ইতিমধ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বর্ষা শুরু হয়েছে। যেকোনো সময়ে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতি বছর প্রবল বর্ষণে যে সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাহাড় ধসে হয় সেসব এলাকায় বসবাস করার জন্য বসতি করেছে লোকজন। এমনকি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা না মেনে বার বার এ সব জায়গা কেনা-বেচা হচ্ছে। শহরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে জনবসতি।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ আরো বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও পাহাড় ধস মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে কেউ যদি আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে শহরে বসবাসরত ১০ হাজার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে বলা

প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটিতে ২০১৭ সালের ১৩ জুন সদরসহ জেলায় প্রবল বর্ষণে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানিসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭২০ পরিবার। এতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সাধন হয়েছিল। এর পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি

প্রকাশিত : ০৮:২৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

গুরি গুরি বৃষ্টি পড়লেই রাঙ্গামাটিতে বেড়ে যায় পাহাড় ধসের আতঙ্ক। মানুষের হৃদয়ে সৃষ্টি হয় হাহাকার। একটু বৃষ্টি পড়লেই মনে পড়ে যায় ২০১৭ সালের ভয়াল পাহাড় ধস। শুধু তাই নয়, ২০১৭ সালের ১৩ জুনের পাহাড় ধসের এ সব এলাকায় প্রবল বর্ষণে যে কোনো মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

রাঙ্গামাটি শহরের ভেদভেদি, মুসলিমপাড়া, শিমুলতলী, রাঙ্গাপানি, তবলছড়ি ও মহিলা কলেজ সংলগ্ন, টেলিভিশন সেন্টার এলাকা, রেডিও স্টেশন, যুব উন্নয়ন এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সাইনবোর্ড টাঙ্গানোসহ শহরে অনবরত মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে । জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি শহরসহ এর আনাচে-কানাচে ১০ হাজারের অধিক পরিবারের মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে ।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, জুন-জুলাই মাসে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়।ইতিমধ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত ও বর্ষা শুরু হয়েছে। যেকোনো সময়ে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়াতে লোকজনকে নিরাপদে সরে যেতে সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতি বছর প্রবল বর্ষণে যে সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাহাড় ধসে হয় সেসব এলাকায় বসবাস করার জন্য বসতি করেছে লোকজন। এমনকি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা না মেনে বার বার এ সব জায়গা কেনা-বেচা হচ্ছে। শহরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে উঠছে জনবসতি।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ আরো বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও পাহাড় ধস মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে কেউ যদি আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে শহরে বসবাসরত ১০ হাজার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে সরে যেতে বলা

প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটিতে ২০১৭ সালের ১৩ জুন সদরসহ জেলায় প্রবল বর্ষণে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানিসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭২০ পরিবার। এতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সাধন হয়েছিল। এর পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

বিজনেস বাংলাদেশ / ইমরান মাসুদ