১২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

৭৬ জন এতিম শিশু পেলো ঈদের পোশাক

এতিম শিশু

ময়মনসিংহের রওযাতুল কুরআন এতিমখানার শিশুদের ঈদে পড়ার মতো নতুন জামা ছিলোনা। এই নিয়ে কর্তৃপক্ষও চিন্তিত ছিলেন। সবাই পড়বে নতুন জামা এতিম শিশুরা পড়বে পুরাতন এটা বিবেকে বাধে। সহায়তা সবাই করেনা, আর যারা সহায়তা করেন তাদেরকে বলতে পারলে খুশী মনে এগিয়ে আসেন অনেকে। যেকোনো মানবিক কাজে আলী ইউসুফ নামের ব্যক্তিতে বললে তিনি ব্যবস্থা করতে পারেন, অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবস্থা হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এ বিষয়টিও জানতে পারে আলী ইউসুফ। তখন তার যত শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন সবাইকে এতিম শিশুদের বিষয়টি খুলে বলেন। অবশেষে মানবিক কাজে অনেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে। ফলে এতিমখানার ৭৬ জন শিশুরা পেয়েছে ঈদের নতুন পোশাক।

ময়মনসিংহ সদরের রহমতপুরে অবস্থিত রওযাতুল কুরআন এতিমখানা। এই এতিমখানায় ফ্যান না থাকার কারনে গরমের সময় অনেক কষ্ট করে থাকতে হয় শিশুদের। কিন্তু কর্তৃপক্ষও আর্থিক সমস্যার কারণে ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও সব ঠিকঠাক মতো দিতে পারেনা। আর তাই পরিচালক মাঝে মাঝে বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কামরুল ইসলাম দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, এতিমখানাটি টিনের চাল, টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ করার ফলে তিব্র গরম অনুভূত হয়। বহু ভালো মানুষ আছে৷ তাই অনেকে অনেকভাবে এতিম শিশুদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এতিমখানায় ৭৬ জন শিশু আছে। তাদেরও ঈদে একটু আনন্দ করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ঈদে পড়ার মতো নতুন কোনো জামা ছিলোনা। শুনেছি ময়মসিংহের আলী ইউসুফকে বিভিন্ন অসুবিধা কিংবা যেকোনো সাহায্যের জন্য জানালে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে টাকা সংগ্রহ করে পাশে থাকে। আর তাই এই বিষয়টি তাকে অবগত করি এবং ৭৬ জন শিশুই নতুন জামা পরিধান করে। শিশুরাও নতুন জামা পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে। এছাড়াও এতিমখানায় ২টি ফ্যান দরকার ছিল। সেটাও তিনি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

রওযাতুল কুরআন এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ক্বারি শফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ যে এতটা মানবিক এতিমখানার উসিলায় তা নিজ চোখে দেখেছি। এতিম শিশুদের সবাই ভালোবাসে। আর তাই যখন কোনো সাহায্যের জন্য জানানো হয়, অনেকে নাম প্রকাশ না করে সহায়তা করেন। টাকা থাকলেই সাহায্য-সহযোগীতা সবাই করতে পারেনা। শুধু এতিম নয়, সকল অসহায়কেই মন থেকে বিত্তবানদের উচিত সহযোগিতা করা।

জানা যায়, এতিম ৭৬ জন শিশুদের পোশাকের মধ্যে ১৪ জনের পোশাক জোগাড় হচ্ছিলনা। যারা সহায়তার হাত বাড়ান এই বিষয়ে আলী ইউসুফ তার পরিচিতদের বলেন এবং তার ফেসবুকে একটি পোষ্টও করেন। তারপর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নাজমুল হুদা খোকন নামের এক ব্যাক্তি ইতিমধ্যেই ১৪ জন শিশুকে পোশাক দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী দুটো ফ্যান দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি ফ্যান দেয়ার আগেই ঢাকা থেকে আরেকজন ১৫০০ টাকা পাঠিয়েছেন এবং ময়মনসিংহের একজন আয়কর উপদেষ্টা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ফ্যান দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

মইনুল হক নামের একজন বলেন, শুনেছি ময়মসিংহের এই এতিমখানায় শিশুরা ফ্যানের অভাবে কষ্ট করছে। ঈদের জামাও নেই। বিত্তবানদের সহায়তায় এখন তা পেয়েছে। এগুলো বিষয় মনকে নাড়া দেয়। গরীব, অসহায়,দুস্ত,প্রতিবন্ধী, এতিমদের পাশে বিত্তবানরা দাড়ালেই সমাজে কেউ গরীব থাকবেনা।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ জাগো নিউজকে বলেন, এতিম শিশুরা নতুন জামা পড়ে খাবার গ্রহনের দৃশ্য কতটা আনন্দের তা বলে বুঝানো যাবেনা। শিশুরা কিছুক্ষণের জন্য বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন।

এতিমখানাটি টিনের চাল ও টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ করায় গরমের সময় শিশুদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এতিমখানার পারিচালক আবেদন রেখেছিলেন যদি কোন হৃদয়বান ব্যাক্তি এই এতিম শিশুদের জন্য দুটো স্ট্যান্ড ফ্যান উপহার দিতেন তাহলে ওদের ঘুমটা একটু ভালো হতো এবং ঈদের নতুন পোশাকও ওদের নেই। তখন মনের ভিতরে নাড়া দিলো। পরে মানবিক মানুষদের সাথে যোগাযোগ করে ৭৬ এতিম শিশুর জন্য ঈদের নতুন জামাসহ ফ্যান সংগ্রহ করি। সোওয়াবের আশায় দানশীল মানবিক ব্যক্তিরা তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :

যৌথ অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক, চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক স্বীকারোক্তি

৭৬ জন এতিম শিশু পেলো ঈদের পোশাক

প্রকাশিত : ০৪:৫৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০

ময়মনসিংহের রওযাতুল কুরআন এতিমখানার শিশুদের ঈদে পড়ার মতো নতুন জামা ছিলোনা। এই নিয়ে কর্তৃপক্ষও চিন্তিত ছিলেন। সবাই পড়বে নতুন জামা এতিম শিশুরা পড়বে পুরাতন এটা বিবেকে বাধে। সহায়তা সবাই করেনা, আর যারা সহায়তা করেন তাদেরকে বলতে পারলে খুশী মনে এগিয়ে আসেন অনেকে। যেকোনো মানবিক কাজে আলী ইউসুফ নামের ব্যক্তিতে বললে তিনি ব্যবস্থা করতে পারেন, অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবস্থা হয়ে যায়। ঠিক তেমনি এ বিষয়টিও জানতে পারে আলী ইউসুফ। তখন তার যত শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন সবাইকে এতিম শিশুদের বিষয়টি খুলে বলেন। অবশেষে মানবিক কাজে অনেকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে। ফলে এতিমখানার ৭৬ জন শিশুরা পেয়েছে ঈদের নতুন পোশাক।

ময়মনসিংহ সদরের রহমতপুরে অবস্থিত রওযাতুল কুরআন এতিমখানা। এই এতিমখানায় ফ্যান না থাকার কারনে গরমের সময় অনেক কষ্ট করে থাকতে হয় শিশুদের। কিন্তু কর্তৃপক্ষও আর্থিক সমস্যার কারণে ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও সব ঠিকঠাক মতো দিতে পারেনা। আর তাই পরিচালক মাঝে মাঝে বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কামরুল ইসলাম দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে জানান, এতিমখানাটি টিনের চাল, টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ করার ফলে তিব্র গরম অনুভূত হয়। বহু ভালো মানুষ আছে৷ তাই অনেকে অনেকভাবে এতিম শিশুদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এতিমখানায় ৭৬ জন শিশু আছে। তাদেরও ঈদে একটু আনন্দ করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ঈদে পড়ার মতো নতুন কোনো জামা ছিলোনা। শুনেছি ময়মসিংহের আলী ইউসুফকে বিভিন্ন অসুবিধা কিংবা যেকোনো সাহায্যের জন্য জানালে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে টাকা সংগ্রহ করে পাশে থাকে। আর তাই এই বিষয়টি তাকে অবগত করি এবং ৭৬ জন শিশুই নতুন জামা পরিধান করে। শিশুরাও নতুন জামা পেয়ে খুশিতে মেতে উঠে। এছাড়াও এতিমখানায় ২টি ফ্যান দরকার ছিল। সেটাও তিনি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

রওযাতুল কুরআন এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ক্বারি শফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষ যে এতটা মানবিক এতিমখানার উসিলায় তা নিজ চোখে দেখেছি। এতিম শিশুদের সবাই ভালোবাসে। আর তাই যখন কোনো সাহায্যের জন্য জানানো হয়, অনেকে নাম প্রকাশ না করে সহায়তা করেন। টাকা থাকলেই সাহায্য-সহযোগীতা সবাই করতে পারেনা। শুধু এতিম নয়, সকল অসহায়কেই মন থেকে বিত্তবানদের উচিত সহযোগিতা করা।

জানা যায়, এতিম ৭৬ জন শিশুদের পোশাকের মধ্যে ১৪ জনের পোশাক জোগাড় হচ্ছিলনা। যারা সহায়তার হাত বাড়ান এই বিষয়ে আলী ইউসুফ তার পরিচিতদের বলেন এবং তার ফেসবুকে একটি পোষ্টও করেন। তারপর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নাজমুল হুদা খোকন নামের এক ব্যাক্তি ইতিমধ্যেই ১৪ জন শিশুকে পোশাক দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিউ ইয়র্ক প্রবাসী দুটো ফ্যান দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি ফ্যান দেয়ার আগেই ঢাকা থেকে আরেকজন ১৫০০ টাকা পাঠিয়েছেন এবং ময়মনসিংহের একজন আয়কর উপদেষ্টা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ফ্যান দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

মইনুল হক নামের একজন বলেন, শুনেছি ময়মসিংহের এই এতিমখানায় শিশুরা ফ্যানের অভাবে কষ্ট করছে। ঈদের জামাও নেই। বিত্তবানদের সহায়তায় এখন তা পেয়েছে। এগুলো বিষয় মনকে নাড়া দেয়। গরীব, অসহায়,দুস্ত,প্রতিবন্ধী, এতিমদের পাশে বিত্তবানরা দাড়ালেই সমাজে কেউ গরীব থাকবেনা।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহ জেলার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ জাগো নিউজকে বলেন, এতিম শিশুরা নতুন জামা পড়ে খাবার গ্রহনের দৃশ্য কতটা আনন্দের তা বলে বুঝানো যাবেনা। শিশুরা কিছুক্ষণের জন্য বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন।

এতিমখানাটি টিনের চাল ও টিনের বেড়া দিয়ে নির্মাণ করায় গরমের সময় শিশুদের অনেক কষ্ট করতে হয়। এতিমখানার পারিচালক আবেদন রেখেছিলেন যদি কোন হৃদয়বান ব্যাক্তি এই এতিম শিশুদের জন্য দুটো স্ট্যান্ড ফ্যান উপহার দিতেন তাহলে ওদের ঘুমটা একটু ভালো হতো এবং ঈদের নতুন পোশাকও ওদের নেই। তখন মনের ভিতরে নাড়া দিলো। পরে মানবিক মানুষদের সাথে যোগাযোগ করে ৭৬ এতিম শিশুর জন্য ঈদের নতুন জামাসহ ফ্যান সংগ্রহ করি। সোওয়াবের আশায় দানশীল মানবিক ব্যক্তিরা তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ