০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

সড়ক নির্মানের খবরে কৃষি জমিতে স্থাপনা তৈরীর হিড়িক

কৃষি জমিতে স্থাপনা

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে । ধরখার থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় ধরা হয়েছে। আর এমন খবরে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিন ও মোগড়া ইউনিয়নের সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। কিছু অর্থলোভী জমির মালিকেরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় তারা কৃষি জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বেশ কিছু দিন ধরে চলছে ওই নির্মানের কাজ। ইতিমধ্যে এ মহাসড়কে অন্ত:ত ২০-২৫টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেকে স্থাপনা তৈরীর কাজ করছেন।
জানাগেছে, আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে সরাইল-ধরখার হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়কে চার লেনে উন্নতি করছে সরকার। এই কাজে ৩ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যায় হবে। সড়কটি তিন ধাপে উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রথম ধাপে পড়েছে আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে সরাইল পর্যন্ত ১২ দশমিক ২১ কিলোমিটার, নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে সরাইল-ধরখার পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপে করা হবে ধরখার থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন। এই উন্নয়নের কাজে বাকী টাকা খরচ হবে।
এদিকে সড়ক উন্নয়নের খবরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে স্থানীয় একাধিক চক্র, যারা কৃষি ও পরিত্যক্ত জমিতে আধা কাঁচা-পাকা ঘর ও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অতিরিক্ত লাভর আশায় দিন রাত করছে স্থাপনা নির্মানের কাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , উপজেলার ধরখার থেকে শুরু করে মোগড়া, সাতপাড়া, আনন্দপুর, রহিমপুর,গাজির বাজার, দ্বিজয়পুর, বঙ্গের চর এলাকায় নতুন নতুন স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে। গ্রামের ভেতরে বেশী ভাগ ফসলি জমির উপর ইট, কাঠ ও টিন দিয়ে ওইসব স্থাপনা তোলা হচ্ছে। স্থাপনা তৈরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী ও। নিন্ম মানের কাজ হওয়ায় যেকোনো সময় ধসে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের ভিতর দিয়ে আর্ন্তজাতিক ৪ লেনের সড়ক হবে এটি শুনার পর অর্থলোভীরা তৎপর হয়ে উঠে। সড়ক নির্মান করতে তাদের কৃষি ও পরিত্যক্ত জমি যদি অধিগ্রহন হয় তাহলে জমির যে ক্ষতিপূরণ মূল্য নির্ধারিত হবে তার চেয়ে বসতভিটা থাকলে বেশি মূল্য পাবে এই আশায় তারা কাজ করছেন বলে জানায়।
তাই অনেকে নিজে আবার বিশেষ মহলের সহায়তায় জায়গা চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছেন। লাভের আশায় যে যে ভাবে পাড়ছে গড়ে তুলছে ওইসব স্থাপনা।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফালু মিয়া বলেন, অনেক টাকা খরচ করে তিনি একটি ঘর তৈরি করেছেন। প্রয়োজন হলে সেটিতে তিনি থাকতেও পারবেন। এক্ষেত্রে অধিগ্রহণ না হলেও বাড়িটি তার কাজে আসবে বলে জানায়।
বিল্লাল হোসেন বলেন, যে ঘর তৈরী হয়েছে সরকারের প্রয়োজন হলে তা দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। ঘর তৈরী করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন না হলে নিজে থাকবেন বলে জানায়। সরকারের প্রয়োজন দেওয়া হলে তাই তিনি ন্যায্য মূল্যের দাবি জানায়।
মো. মনির হোসেন বলেন, বাড়ি সংলগ্ন জায়গা একটি কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। তারা সেখানে বিশাল পাকা ঘর তৈরী করেছেন। তখন জানতাম না এখান দিয়ে সড়ক হবে। এখন দেখছি টাকার জন্য এসব করছে।
গাজীর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ভূঁইয়া লিটন বলেন, ‘একটি চক্র এলাকার লোকজনকে জমির দাম বেশি পাওয়ার লোভ দেখিয়ে জায়গা ভাড়া নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাবে।
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন যেভাবে স্থাপনা তৈরী করা হচ্ছে তাতে ঝুঁকিও রয়েছে। এ বিষয়ে আমি জায়গার তিনজন মালিককে নোটিশ দিলেও তাঁরা কর্ণপাত করছেন না। বাকিদেরও নোটিশ দেওয়া হবে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, নতুন করে যারা স্থাপনা করছে তারা ক্ষতিপুরণ পাবেনা। অনেক আগেই এই প্রকল্পের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই নতুন করে স্থাপনা করে ক্ষতিপুরণ পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, ধানি জমিতে যারা পাকা স্থাপনা তৈরী করেছে তাদেরকে এনে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি তারা জমিতে স্থাপনা তৈরী করার চেষ্টা করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তুলেছে কাস্টমস হাউস চট্রগ্রাম

সড়ক নির্মানের খবরে কৃষি জমিতে স্থাপনা তৈরীর হিড়িক

প্রকাশিত : ০৫:২৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০

ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে । ধরখার থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় ধরা হয়েছে। আর এমন খবরে আখাউড়া উপজেলার দক্ষিন ও মোগড়া ইউনিয়নের সড়কের দুই পাশের অধিকাংশ কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। কিছু অর্থলোভী জমির মালিকেরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় তারা কৃষি জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বেশ কিছু দিন ধরে চলছে ওই নির্মানের কাজ। ইতিমধ্যে এ মহাসড়কে অন্ত:ত ২০-২৫টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেকে স্থাপনা তৈরীর কাজ করছেন।
জানাগেছে, আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে সরাইল-ধরখার হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়কে চার লেনে উন্নতি করছে সরকার। এই কাজে ৩ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যায় হবে। সড়কটি তিন ধাপে উন্নয়ন কাজ চলছে। প্রথম ধাপে পড়েছে আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে সরাইল পর্যন্ত ১২ দশমিক ২১ কিলোমিটার, নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ধাপে সরাইল-ধরখার পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপে করা হবে ধরখার থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন। এই উন্নয়নের কাজে বাকী টাকা খরচ হবে।
এদিকে সড়ক উন্নয়নের খবরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে স্থানীয় একাধিক চক্র, যারা কৃষি ও পরিত্যক্ত জমিতে আধা কাঁচা-পাকা ঘর ও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অতিরিক্ত লাভর আশায় দিন রাত করছে স্থাপনা নির্মানের কাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , উপজেলার ধরখার থেকে শুরু করে মোগড়া, সাতপাড়া, আনন্দপুর, রহিমপুর,গাজির বাজার, দ্বিজয়পুর, বঙ্গের চর এলাকায় নতুন নতুন স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে। গ্রামের ভেতরে বেশী ভাগ ফসলি জমির উপর ইট, কাঠ ও টিন দিয়ে ওইসব স্থাপনা তোলা হচ্ছে। স্থাপনা তৈরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী ও। নিন্ম মানের কাজ হওয়ায় যেকোনো সময় ধসে পড়ার শঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের ভিতর দিয়ে আর্ন্তজাতিক ৪ লেনের সড়ক হবে এটি শুনার পর অর্থলোভীরা তৎপর হয়ে উঠে। সড়ক নির্মান করতে তাদের কৃষি ও পরিত্যক্ত জমি যদি অধিগ্রহন হয় তাহলে জমির যে ক্ষতিপূরণ মূল্য নির্ধারিত হবে তার চেয়ে বসতভিটা থাকলে বেশি মূল্য পাবে এই আশায় তারা কাজ করছেন বলে জানায়।
তাই অনেকে নিজে আবার বিশেষ মহলের সহায়তায় জায়গা চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছেন। লাভের আশায় যে যে ভাবে পাড়ছে গড়ে তুলছে ওইসব স্থাপনা।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফালু মিয়া বলেন, অনেক টাকা খরচ করে তিনি একটি ঘর তৈরি করেছেন। প্রয়োজন হলে সেটিতে তিনি থাকতেও পারবেন। এক্ষেত্রে অধিগ্রহণ না হলেও বাড়িটি তার কাজে আসবে বলে জানায়।
বিল্লাল হোসেন বলেন, যে ঘর তৈরী হয়েছে সরকারের প্রয়োজন হলে তা দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। ঘর তৈরী করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন না হলে নিজে থাকবেন বলে জানায়। সরকারের প্রয়োজন দেওয়া হলে তাই তিনি ন্যায্য মূল্যের দাবি জানায়।
মো. মনির হোসেন বলেন, বাড়ি সংলগ্ন জায়গা একটি কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। তারা সেখানে বিশাল পাকা ঘর তৈরী করেছেন। তখন জানতাম না এখান দিয়ে সড়ক হবে। এখন দেখছি টাকার জন্য এসব করছে।
গাজীর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ভূঁইয়া লিটন বলেন, ‘একটি চক্র এলাকার লোকজনকে জমির দাম বেশি পাওয়ার লোভ দেখিয়ে জায়গা ভাড়া নিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাবে।
আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন যেভাবে স্থাপনা তৈরী করা হচ্ছে তাতে ঝুঁকিও রয়েছে। এ বিষয়ে আমি জায়গার তিনজন মালিককে নোটিশ দিলেও তাঁরা কর্ণপাত করছেন না। বাকিদেরও নোটিশ দেওয়া হবে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, নতুন করে যারা স্থাপনা করছে তারা ক্ষতিপুরণ পাবেনা। অনেক আগেই এই প্রকল্পের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাই নতুন করে স্থাপনা করে ক্ষতিপুরণ পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, ধানি জমিতে যারা পাকা স্থাপনা তৈরী করেছে তাদেরকে এনে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি তারা জমিতে স্থাপনা তৈরী করার চেষ্টা করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ