০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা অবয়ব শিল্পী বুলবুলের

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল তার নিপুণ হাতে সমাজের মুচি শ্রেণী থেকে ধনীওয়ালার চরিত্র ফুটিয়ে তুলেন একজন অভিনয় শিল্পীর মুখে।
যেকোন অভিনয়ের চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে তিনি দক্ষ কারিগর। ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমন কেউ নেই যে তাঁকে চিনে না। এছাড়াও ঢাকা, নীলফামারী, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জায়গার শিল্পীদের মাঝে এক পরিচিত মুখ বুলবুল। তাকে কেউ রুপকার,কেউ মেকআপম্যান আবার কেউ অবয়ব শিল্পী হিসেবেই চেনে। প্রায় ৩০ বছর যাবত এ পেশায় কাজ করেছেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ১ লা জানুয়ারি সিরাজুল ইসলাম বুলবুলের জন্ম। তাঁর পিতা মৃত আব্দুল লতিফ, মাতা মৃত শামসুন্নাহার। বসবাস করছেন স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের সাথে। তিনি বিবাহিত জীবনে তিন কন্যা ও দুই পুত্রের জনক। থাকেন ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা মেডিকেল গেইট সংলগ্ন এলাকায়।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল গত ২২ মে তিনি প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। তখন থেকেই তার ডান হাত আর ডান পা অবশ হয়ে যায়। নিজের যেই টাকাগুলো ছিলো সেগুলো দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার ৩ মেয়েও বিবাহিত। তারাও তার বাবাকে কিছুটা সহায়তা করেছে। তার বড় ছেলে আলামিন ফার্নিচারের কাজ করে। আর ছোট ছেলে মুস্তাকিম গাড়ী চালক। দুই ছেলেই ঢাকায় কাজ করেন। শুরু থেকেই দুই ছেলে যতটুকু সম্ভব তার বাবার চিকিৎসার খরচ দিয়েছে। আর তাই সিরাজুল ইসলামের ডান পা দিয়ে এখন একটু হাটতে পারে। তবে ডান হাত এখনো ভালো হয়নি। এখন করোনাকালীন সময়ে ছেলে-মেয়েরা তাদের সংসার চালাতেই পারছেনা। ফলে এখন চিকিৎসা বন্ধ সিরাজুলের।

জানা যায়, শিল্পী সিরাজুল ইসলাম ৩ মাস ধরে ময়মনসিংহের ২ নং স্টেশন গেইট সংলগ্ন ডা.ফয়েজের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাকে ডা. বলেছে নিয়মিত ডাক্তারি চিকিৎসা করতে। কিন্তু এখন তিনি টাকার অভাবে ডাক্তারি চিকিৎসা করাতে পারছেননা। ফলে কবিরাজি চিকিৎসার পিছনে ছুটছেন। তবে কবিরাজি চিকিৎসায় তার শরীর সুস্থ হচ্ছেনা।

সংস্কৃতিকর্মী বাবলী আকন্দ জানান, তিনি ভালোবেসে মনের মাধুরী মিশিয়ে অবয়ব শিল্পীতে মনোনিবেশ করেছিলেন। যদিও এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ কম ছিল। গুণী এই শিল্পী এখন অতিকষ্টে দিন যাপন করছে। তিনি বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছেন। দেশের এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতে তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসা ঠিক মত করতে পারলে আবার সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিতে পারতেন। আমরা এই শিল্পীকে হারাতে চায়না।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, জেদের বশে এ পেশাকে বেছে নিয়েছিলাম। বিশ বছর আগে এফডিসিতে একজন রুপকার/ অবয়ব শিল্পীর কাজ তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। সেই শিল্পী তাঁকে বারবার খোঁচা দিয়ে বলছিলেন, পারবি, পারবি? এটা এতো সহজ নয়। সবাই পারে না। এরপর তিনি আত্মবিশ্বাসের ভঙ্গীতে বলেছিলেন, অবশ্যই পারবো। মানুষের কাছে অসাধ্য কিছুই নয়। এফডিসিতে তখন তিনি ৩ মাস কাজ করেছেন। তখন তার উস্তাদ ছিল ফয়েজ। তারপর থেকেই ময়মনসিংহে স্থায়ীভাবে এ কাজে মনোনিবেশ করেন। গত তিন বছর আগে জাহাঙ্গীরের পরিচালনায় ময়মনসিংহের টেলিফিল্ম বীর বাঙ্গালী তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাব। তবে নিয়মিত ডা.দেখাতে হবে। আমার জমানো সব টাকা শেষ করে এখন সুস্থতার দিকে এগুচ্ছি। অনেকে আমাকে কিছু সাহায্য করেছে। আমাদের কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের জাগরনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাঝে মাঝে খোজ নিয়ে সামান্য কিছু সহায়তা করেছে। অসুস্থ হবার পর থেকে আমার কাজ করাও বন্ধ। তাই এখন আমার ভাত খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই। এই দুর্দিনে কেউ কেউ খাদ্য সামগ্রী নিয়েও বাসায় এসেছে।

কাদোঁ কাদোঁ কন্ঠে বুলবুল বলতে থাকেন, নিজে যদি সুস্থ হতে পারতাম তাহলে আবার কাজে যোগ দিতাম। আর মাত্র ৩০ হাজার টাকার মত লাগতে পারে। তাহলে চিকিৎসা করে ডান হাতটাও ভালো হয়ে যাবে। যদি কেউ চিকিৎসা জন্য কিছু কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেন আল্লাহ’র কাছে দু’হাত ভরে দোয়া করব।আমি এখন বড় অসহায়।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুলের সহধর্মিণী হোসনে আরা বেগম বলেন, টাকার অভাবে কবিরাজের কাছে স্বামীকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেছি। জানি ডাক্তারি চিকিৎসা ছাড়া ভালো করতে পারবনা। কিন্তু কিছুই করার নেই। মহৎ মানুষদের দিকে তাকিয়ে আছি। যদি কেউ সহায়তার হাত বাড়ায়, তাহলে আমার স্বামী আবারও কাজে যোগ দিয়ে আমাদের সংসারের হাল ধরবে।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল চোখের কোনে পানি নিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলেন, বৃত্তবান, শিল্পীসমাজ আমার জন্য কিছু করেন। আমি সুস্থ হয়ে আবারো আপনাদের মাঝে ফিরতে চাই। আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার বিকাশ নাম্বার ০১৭৩০৬০০৩৯৫

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

৩৭৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তুলেছে কাস্টমস হাউস চট্রগ্রাম

টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা অবয়ব শিল্পী বুলবুলের

প্রকাশিত : ০৫:১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল তার নিপুণ হাতে সমাজের মুচি শ্রেণী থেকে ধনীওয়ালার চরিত্র ফুটিয়ে তুলেন একজন অভিনয় শিল্পীর মুখে।
যেকোন অভিনয়ের চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তুলতে তিনি দক্ষ কারিগর। ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এমন কেউ নেই যে তাঁকে চিনে না। এছাড়াও ঢাকা, নীলফামারী, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জায়গার শিল্পীদের মাঝে এক পরিচিত মুখ বুলবুল। তাকে কেউ রুপকার,কেউ মেকআপম্যান আবার কেউ অবয়ব শিল্পী হিসেবেই চেনে। প্রায় ৩০ বছর যাবত এ পেশায় কাজ করেছেন তিনি।

১৯৫৮ সালের ১ লা জানুয়ারি সিরাজুল ইসলাম বুলবুলের জন্ম। তাঁর পিতা মৃত আব্দুল লতিফ, মাতা মৃত শামসুন্নাহার। বসবাস করছেন স্ত্রী হোসনে আরা বেগমের সাথে। তিনি বিবাহিত জীবনে তিন কন্যা ও দুই পুত্রের জনক। থাকেন ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা মেডিকেল গেইট সংলগ্ন এলাকায়।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল গত ২২ মে তিনি প্যারালাইজড হয়ে পড়েন। তখন থেকেই তার ডান হাত আর ডান পা অবশ হয়ে যায়। নিজের যেই টাকাগুলো ছিলো সেগুলো দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার ৩ মেয়েও বিবাহিত। তারাও তার বাবাকে কিছুটা সহায়তা করেছে। তার বড় ছেলে আলামিন ফার্নিচারের কাজ করে। আর ছোট ছেলে মুস্তাকিম গাড়ী চালক। দুই ছেলেই ঢাকায় কাজ করেন। শুরু থেকেই দুই ছেলে যতটুকু সম্ভব তার বাবার চিকিৎসার খরচ দিয়েছে। আর তাই সিরাজুল ইসলামের ডান পা দিয়ে এখন একটু হাটতে পারে। তবে ডান হাত এখনো ভালো হয়নি। এখন করোনাকালীন সময়ে ছেলে-মেয়েরা তাদের সংসার চালাতেই পারছেনা। ফলে এখন চিকিৎসা বন্ধ সিরাজুলের।

জানা যায়, শিল্পী সিরাজুল ইসলাম ৩ মাস ধরে ময়মনসিংহের ২ নং স্টেশন গেইট সংলগ্ন ডা.ফয়েজের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাকে ডা. বলেছে নিয়মিত ডাক্তারি চিকিৎসা করতে। কিন্তু এখন তিনি টাকার অভাবে ডাক্তারি চিকিৎসা করাতে পারছেননা। ফলে কবিরাজি চিকিৎসার পিছনে ছুটছেন। তবে কবিরাজি চিকিৎসায় তার শরীর সুস্থ হচ্ছেনা।

সংস্কৃতিকর্মী বাবলী আকন্দ জানান, তিনি ভালোবেসে মনের মাধুরী মিশিয়ে অবয়ব শিল্পীতে মনোনিবেশ করেছিলেন। যদিও এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ কম ছিল। গুণী এই শিল্পী এখন অতিকষ্টে দিন যাপন করছে। তিনি বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছেন। দেশের এই করোনাকালীন পরিস্থিতিতে তিনি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসা ঠিক মত করতে পারলে আবার সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিতে পারতেন। আমরা এই শিল্পীকে হারাতে চায়না।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, জেদের বশে এ পেশাকে বেছে নিয়েছিলাম। বিশ বছর আগে এফডিসিতে একজন রুপকার/ অবয়ব শিল্পীর কাজ তিনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। সেই শিল্পী তাঁকে বারবার খোঁচা দিয়ে বলছিলেন, পারবি, পারবি? এটা এতো সহজ নয়। সবাই পারে না। এরপর তিনি আত্মবিশ্বাসের ভঙ্গীতে বলেছিলেন, অবশ্যই পারবো। মানুষের কাছে অসাধ্য কিছুই নয়। এফডিসিতে তখন তিনি ৩ মাস কাজ করেছেন। তখন তার উস্তাদ ছিল ফয়েজ। তারপর থেকেই ময়মনসিংহে স্থায়ীভাবে এ কাজে মনোনিবেশ করেন। গত তিন বছর আগে জাহাঙ্গীরের পরিচালনায় ময়মনসিংহের টেলিফিল্ম বীর বাঙ্গালী তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ময়মনসিংহ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাব। তবে নিয়মিত ডা.দেখাতে হবে। আমার জমানো সব টাকা শেষ করে এখন সুস্থতার দিকে এগুচ্ছি। অনেকে আমাকে কিছু সাহায্য করেছে। আমাদের কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন সাহায্য করেছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের জাগরনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাঝে মাঝে খোজ নিয়ে সামান্য কিছু সহায়তা করেছে। অসুস্থ হবার পর থেকে আমার কাজ করাও বন্ধ। তাই এখন আমার ভাত খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই। এই দুর্দিনে কেউ কেউ খাদ্য সামগ্রী নিয়েও বাসায় এসেছে।

কাদোঁ কাদোঁ কন্ঠে বুলবুল বলতে থাকেন, নিজে যদি সুস্থ হতে পারতাম তাহলে আবার কাজে যোগ দিতাম। আর মাত্র ৩০ হাজার টাকার মত লাগতে পারে। তাহলে চিকিৎসা করে ডান হাতটাও ভালো হয়ে যাবে। যদি কেউ চিকিৎসা জন্য কিছু কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেন আল্লাহ’র কাছে দু’হাত ভরে দোয়া করব।আমি এখন বড় অসহায়।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুলের সহধর্মিণী হোসনে আরা বেগম বলেন, টাকার অভাবে কবিরাজের কাছে স্বামীকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতেছি। জানি ডাক্তারি চিকিৎসা ছাড়া ভালো করতে পারবনা। কিন্তু কিছুই করার নেই। মহৎ মানুষদের দিকে তাকিয়ে আছি। যদি কেউ সহায়তার হাত বাড়ায়, তাহলে আমার স্বামী আবারও কাজে যোগ দিয়ে আমাদের সংসারের হাল ধরবে।

সিরাজুল ইসলাম বুলবুল চোখের কোনে পানি নিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলেন, বৃত্তবান, শিল্পীসমাজ আমার জন্য কিছু করেন। আমি সুস্থ হয়ে আবারো আপনাদের মাঝে ফিরতে চাই। আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তার বিকাশ নাম্বার ০১৭৩০৬০০৩৯৫

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ