১০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: আদেশ বুধবার

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে আদেশ একদিন পিছিয়ে বুধবার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মঙ্গলবার সকালে এ মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের একদিন সময়ের প্রয়োজন। বুধবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি রাখলাম। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালন উপলক্ষ্যে সোমবার ড.কামাল হোসেন, রফিক-উল হক, এম আমীর-উল ইসলাম, মইনুল হোসেন, এ এফ হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামাল এই বিবৃতি দেন।

যেখানে বলা হয়, ‘অধস্তন আদালতে বিচার বিভাগীয় পদে নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি প্রদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধান সংক্রান্ত বিষয় সংবিধানে দুটি অনুচ্ছেদ ১১৫ ও ১১৬ তে পৃথকভাবে বিচার বিভাগের অংশে প্রণীত আছে। তথাপি উক্ত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে অধস্তন বিচার বিভাগের বিচারকদের নির্বাহী বিভাগের অধস্তন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘনসহ মাসদার হোসেন মামলার রায়ের সাথেও সাংঘর্ষিক’।

এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

আর গত ১১ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আদেশের দিন প্রকাশিত গেজেট আদালতে উপস্থাপনের কথা ছিল।

অবশ্য গত বছরের ৫ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের করা চার সপ্তাহের সময়ের আবেদনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী বসতে চান।

পরে গত ১৬ নভেম্বর রাতে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাপারে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, মাসদার হোসেনের মামলায় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

আপিল বিভাগের এ নির্দেশনার পর ২০১৭ সালের ৭ মে একটি খসড়া শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়।

আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে গত বছরের ২৮ আগস্ট শুনানিকালে জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালাসংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালে সরকারি কর্মচারী বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

এরপর একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৬ জুলাই তখনকার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ-সংক্রান্ত গেজেট শিগগিরই প্রস্তুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী। তবে বরাবরই তা পেছাতেই আছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: আদেশ বুধবার

প্রকাশিত : ১১:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে আদেশ একদিন পিছিয়ে বুধবার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মঙ্গলবার সকালে এ মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের একদিন সময়ের প্রয়োজন। বুধবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিষয়টি রাখলাম। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালন উপলক্ষ্যে সোমবার ড.কামাল হোসেন, রফিক-উল হক, এম আমীর-উল ইসলাম, মইনুল হোসেন, এ এফ হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামাল এই বিবৃতি দেন।

যেখানে বলা হয়, ‘অধস্তন আদালতে বিচার বিভাগীয় পদে নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি প্রদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধান সংক্রান্ত বিষয় সংবিধানে দুটি অনুচ্ছেদ ১১৫ ও ১১৬ তে পৃথকভাবে বিচার বিভাগের অংশে প্রণীত আছে। তথাপি উক্ত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে অধস্তন বিচার বিভাগের বিচারকদের নির্বাহী বিভাগের অধস্তন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘনসহ মাসদার হোসেন মামলার রায়ের সাথেও সাংঘর্ষিক’।

এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

আর গত ১১ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধির গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আদেশের দিন প্রকাশিত গেজেট আদালতে উপস্থাপনের কথা ছিল।

অবশ্য গত বছরের ৫ নভেম্বর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের করা চার সপ্তাহের সময়ের আবেদনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী বসতে চান।

পরে গত ১৬ নভেম্বর রাতে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাপারে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, মাসদার হোসেনের মামলায় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

আপিল বিভাগের এ নির্দেশনার পর ২০১৭ সালের ৭ মে একটি খসড়া শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়।

আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে গত বছরের ২৮ আগস্ট শুনানিকালে জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালাসংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালে সরকারি কর্মচারী বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

এরপর একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৬ জুলাই তখনকার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ-সংক্রান্ত গেজেট শিগগিরই প্রস্তুত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী। তবে বরাবরই তা পেছাতেই আছে।