দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও তাতে মানুষের মৃত্যু অব্যাহত থাকলেও স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম অনুষঙ্গ মাস্কের চাহিদা কমে গেছে বিপুলভাবে। বর্তমানে যা কিছু চাহিদা তা সার্জিক্যাল মাস্কের। একসময় ৩০ টাকা বিকোনো এই মাস্ক এখন ৩ টাকায় হাঁকডাক করে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে পাঁচ টাকার প্রচলিত সাধারণ মাস্ক ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। পরে নানা ব্রান্ডের মাস্ক বাজারে এলেও তার দাম ছিল আকাশ ছোঁয়া। লকডাউনের পর সীমিত পরিসরে সবকিছু চালু হলে মাস্কের বিপুল চাহিদার কারণে ফুটপাত, বাজার, ফার্মেসি, মুদি দোকান ও অনলাইনে সয়লাব হয়ে যায় নানা ধরনের মাস্কে। যেকোনো দামে দেদার বিকিয়েছে সার্জিক্যাল, এন-৯৫, কেএন-৯৫ মাস্ক। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠে মাস্ক তৈরির কারখানা।
মাস্কের চাহিদা যখন তুঙ্গে তখন হাসপাতালে ব্যবহৃত পুরনো মাস্ক ধুয়ে তা পুনরায় বিক্রির নজির আছে। এ ধরনের এক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। এছাড়া নকল মাস্ক তৈরির একাধিক কারখানাও পাওয়া গেছে রাজধানীতে। অবৈধভাবে মানহীন মাস্ক উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি হয়েছে দেদার।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক ব্যবহারের আগ্রহ আশংকাজনকভাবে কমেছে। এন-৯৫ বা কেএন-৯৫ মাস্কের চাহিদা বর্তমানে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে জানান বিক্রেতারা। সার্জিক্যাল মাস্কের দাম সুলভ হলেও এর চাহিদাও কমছে দিন দিন। ফলে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন কারখানা মালিকরা। দোকানিরা এখন আর বাড়তি মাস্ক মজুদ রাখেন না।
ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশেই বসেছে মাস্ক বিক্রির দোকান। অস্থায়ী এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনের মাস্ক। সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকায়। অথচ করোনা কালের শুরুর দিকে দেশে মাস্ক নিয়ে যখন যাচ্ছেতাই অবস্থা, তখন গত ১১ মার্চ সার্জিক্যাল মাস্কের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। তিন স্তর বিশিষ্ট একেকটি সার্জিক্যাল মাস্কের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। এরপর তা ২০ টাকা, ১৫ টাকা এবং ১০ টাকায় নেমে আসে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মাস্ক তৈরির কারখানা গড়ে ওঠায় দাম কমে আসে সার্জিক্যাল মাস্কের। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতিটি সার্জিক্যাল মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে ২ থেকে ৩ টাকায় মিলছে প্রতিটি মাস্ক।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

























