দিনাজপুরসহ শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ। শৈত্য প্রবাহে ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনাজপুরে রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ বছরের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা এটি এবং গত দু’বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
গত পাঁচদিন শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ক্রমেই নেমে আসছে তাপমাত্রা, বাড়ছে শীতের তীব্রতা। শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বোরোর বীজতলা ও আলুসহ বিভিন্ন ফসল।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি এ বছরের সর্বনিম্ম তাপমাত্রা। ২০১৩ সালে তাপমাত্রা নেমেছিলো ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়ায়ে। শনিবার বিকেলে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় তাপমাত্রা শুক্রবার ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বৃহস্পতিবার ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।
শৈত্য প্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে কনকনে শীত। তীব্র শীতে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তীব্র শীতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। প্রচণ্ড শীতের কারণে সন্ধ্যা হলেই দিনাজপুর শহরসহ গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না মানুষ।
গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে অসহায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। এ অবস্থায় কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত চেষ্টা করছেন তারা। শিশু ও বৃদ্ধারা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। নিউমোনিয়া, আমাশয়, ডায়রিয়া ও শ্বাস কষ্টসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। কনকনে ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হলেও কাজ জোটাতে পারছেন না দিনমজুররা।
এদিকে শীতবস্ত্রের আশায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ চেয়ে আছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। দিনাজপুরসহ অন্যান্য এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শীতবস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসলে এসব ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে মনে করেন দিনাজপুরবাসী।
দিনের মাঝামাঝি সময় সূর্যের দেখা মিললেও কমছে না শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। এরপরেও ঘটছে দুর্ঘটনা।




















