গরুর অভাবে প্রায় দুই যুগ ধরে তেলের ঘানি টানছেন লালমনিরহাটের ছয়ফুল ইসলাম (৪৮) ও মোর্শেদা বেগম (৪১) দম্পতি। তারা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা তেলীপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে পলিথিন দিয়ে তৈরি এক চালা ঘরে গাছের গুড়ি দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে তেলের ঘানি। আঞ্চলিক ভাষায় সেটিকে বলা হয় তেলগাছ। চোখে পড়ে স্ত্রী-সন্তানের সহযোগিতায় জোঁয়াল কাধে ওই তেলের ঘানি টানছেন ছয়ফুল ইসলাম। উদ্দেশ্য সরিষা হতে তেল তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা আর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ যোগানো।
দেহের সমস্ত শক্তি দিয়ে তেলের ঘানি টানতে টানতে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে ছয়ফুলের পরিবার। এখন দেহে আগের মতো শক্তি নেই। সে এখন ক্লান্ত। তাতে কি, কাজতো করতেই হবে।
ছয়ফুল-মোর্শেদা জানান, এক সময়ে একটি গরু থাকলেও সেটি মারা যাওয়ায় পর গত ২০বছর থেকে সংসার চালাতে নিজেরাই টেনে চলছেন ওই তেলের ঘানি। সহায় সম্বল বলতে পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ৩ শতাংশ জমি। যেখানে দুইচালা টিনের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তারা বসবাস করে আসছেন।
প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ঘন্টা ঘানি টেনে যে তেল পান তা খৈলসহ বাজারে বিক্রি করে আয় হয় ২শত থেকে ২শত ৫০টাকা। যা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে দিনাতিপাত করছেন ছয়ফুলের পরিবারটি। কপালের ঘাম মুছতে মুছতে অনেকটা আক্ষেপের সুরে স্ত্রী মোর্শেদা বেগম জানান, ‘তেল ও খৈল বিক্রি করে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। গরু কিনবো কি দিয়া! টাকা জোগাড় হয় না, গরু কেনাও হয় না’।
বিজনেস বাংলাদেশ/ প্রান্ত




















