১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফুটবলের নিয়তি নির্ধারণের ভোট আজ

ফুটবল আবার পাঁচতারা হোটেলে। চার বছর পর পর তার এমন সমাদর পাওয়ার সুযোগ হয়। তার গ্লানিভরা অতীত নিয়ে সবাই মুখর হয়ে ওঠে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় কর্মকর্তারা এমন গদগদ হয়ে ওঠেন, সামনের চার বছর যেন তার ভাগ্যোন্নয়ন না হয়ে পারে না! এবারও যথারীতি সেই আবহে দেশের ফুটবলের ভাগ্যগণনায় বসছেন ১৩৯ জন ভোটার। তাঁদের ভোটেই আজ ফুটবলের নিয়তি নির্ধারণ হবে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের কমিটির হাতে উঠবে ফুটবল। এক যুগ ধরে এই কমিটির সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সঙ্গী আরো ২০ জন থাকলেও ফুটবলের ভালো-মন্দের সব দায় চাপছে এই কিংবদন্তির ঘাড়ে। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের ব্যবচ্ছেদ হচ্ছে। আসলে তাঁর কাছে মানুষের ছিল পাহাড়সম প্রত্যাশা, সেটা ছুঁতে পারেননি বলেই যত আক্ষেপ। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে ফুটবলের আনন্দভুবন তৈরি করাও কঠিন কাজ। এর পরও ‘কঠিনেরে ভালোবেসে’ তিনি আরো এক মেয়াদে থাকতে চান ফুটবলের শিরোমণি হয়ে।

১৫টি সদস্য পদেও ৩৪ জন প্রার্থী। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ছিটকে যেতে পারেন বর্তমান কমিটির অনেক নামিদামি সংগঠক। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগের তরফ থেকে একাট্টা হাওয়ার হাওয়া উঠেছে। নানা গঞ্জনা-বঞ্চনার পর ফুটবল ফেডারেশনে নিজেদের অবস্থান পাকা করতে মরিয়া তাঁরা। ভোটে তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, সুবাদে তাঁদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। সমন্বয় পরিষদকে বলা হচ্ছে তাদের প্যানেল, জেলা-বিভাগের সংগঠকদের পাশাপাশি ক্লাবের প্রার্থীদের নিয়ে এটা ভারসাম্যপূর্ণ প্যানেল। এই পক্ষের অলিখিত নেতা তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন নির্বাচনে না থাকলেও থেকে যাচ্ছে প্রভাব। তাই নানা হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণে ফুটবলের এই নির্বাচন মোটেও সহজ নয়।

নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইশতেহারে ভেসে গেছে ফুটবল। এক পক্ষের ২৪ দফা তো আরেক পক্ষের ৩৬ দফা উন্নয়ন কর্মসূচি। বিশ্বকাপের মোহ কেটে গেলেও এবার অলিম্পিকে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন জায়গা পেয়েছে মানিকের ইশতেহারে। প্রার্থীদের মুখে উন্নয়নের খই ফুটছে। প্রতিশ্রুতির এমন বাঁধভাঙা জোয়ারের দেশ বিশ্ব ফুটবলে দ্বিতীয়টি আছে কি না, কে জানে। প্রাণ থাকলে ফুটবলও হয়তো বিস্ময়ে বলে উঠত, ‘এত ভালোবাসা তো কোথাও পাইনি!’ তার প্রাণ নেই, এটাই সুবিধা। তাকে সামনে রেখে অনেক হাওয়াই-মিঠাই গল্প দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া যায়। এরপর গৌণ হয়ে যায় ফুটবলের ভালোবাসা। এটাই হয়েছে বারবার। কর্মকর্তারা জিতেছে, কিন্তু ফুটবল হেরেছে। তাই নির্বাচনকে ঘিরে পাঁচতারা হোটেলে ব্যানার-ফেস্টুনের অমন সাজসজ্জা দেখে খুব ভ্রম হয়। সংশয় জাগে ভোটারদের জামাই আদর দেখে। সব মোহ কাটিয়ে তাঁরা কি ফুটবলের পক্ষে থাকবেন! ফুটবল কি জিতবে!

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

ফুটবলের নিয়তি নির্ধারণের ভোট আজ

প্রকাশিত : ১২:০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২০

ফুটবল আবার পাঁচতারা হোটেলে। চার বছর পর পর তার এমন সমাদর পাওয়ার সুযোগ হয়। তার গ্লানিভরা অতীত নিয়ে সবাই মুখর হয়ে ওঠে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসায় কর্মকর্তারা এমন গদগদ হয়ে ওঠেন, সামনের চার বছর যেন তার ভাগ্যোন্নয়ন না হয়ে পারে না! এবারও যথারীতি সেই আবহে দেশের ফুটবলের ভাগ্যগণনায় বসছেন ১৩৯ জন ভোটার। তাঁদের ভোটেই আজ ফুটবলের নিয়তি নির্ধারণ হবে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৪৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের কমিটির হাতে উঠবে ফুটবল। এক যুগ ধরে এই কমিটির সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সঙ্গী আরো ২০ জন থাকলেও ফুটবলের ভালো-মন্দের সব দায় চাপছে এই কিংবদন্তির ঘাড়ে। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের ব্যবচ্ছেদ হচ্ছে। আসলে তাঁর কাছে মানুষের ছিল পাহাড়সম প্রত্যাশা, সেটা ছুঁতে পারেননি বলেই যত আক্ষেপ। অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে ফুটবলের আনন্দভুবন তৈরি করাও কঠিন কাজ। এর পরও ‘কঠিনেরে ভালোবেসে’ তিনি আরো এক মেয়াদে থাকতে চান ফুটবলের শিরোমণি হয়ে।

১৫টি সদস্য পদেও ৩৪ জন প্রার্থী। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ছিটকে যেতে পারেন বর্তমান কমিটির অনেক নামিদামি সংগঠক। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগের তরফ থেকে একাট্টা হাওয়ার হাওয়া উঠেছে। নানা গঞ্জনা-বঞ্চনার পর ফুটবল ফেডারেশনে নিজেদের অবস্থান পাকা করতে মরিয়া তাঁরা। ভোটে তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, সুবাদে তাঁদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। সমন্বয় পরিষদকে বলা হচ্ছে তাদের প্যানেল, জেলা-বিভাগের সংগঠকদের পাশাপাশি ক্লাবের প্রার্থীদের নিয়ে এটা ভারসাম্যপূর্ণ প্যানেল। এই পক্ষের অলিখিত নেতা তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন নির্বাচনে না থাকলেও থেকে যাচ্ছে প্রভাব। তাই নানা হিসাব-নিকাশ ও মেরুকরণে ফুটবলের এই নির্বাচন মোটেও সহজ নয়।

নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইশতেহারে ভেসে গেছে ফুটবল। এক পক্ষের ২৪ দফা তো আরেক পক্ষের ৩৬ দফা উন্নয়ন কর্মসূচি। বিশ্বকাপের মোহ কেটে গেলেও এবার অলিম্পিকে যাওয়ার নতুন স্বপ্ন জায়গা পেয়েছে মানিকের ইশতেহারে। প্রার্থীদের মুখে উন্নয়নের খই ফুটছে। প্রতিশ্রুতির এমন বাঁধভাঙা জোয়ারের দেশ বিশ্ব ফুটবলে দ্বিতীয়টি আছে কি না, কে জানে। প্রাণ থাকলে ফুটবলও হয়তো বিস্ময়ে বলে উঠত, ‘এত ভালোবাসা তো কোথাও পাইনি!’ তার প্রাণ নেই, এটাই সুবিধা। তাকে সামনে রেখে অনেক হাওয়াই-মিঠাই গল্প দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়া যায়। এরপর গৌণ হয়ে যায় ফুটবলের ভালোবাসা। এটাই হয়েছে বারবার। কর্মকর্তারা জিতেছে, কিন্তু ফুটবল হেরেছে। তাই নির্বাচনকে ঘিরে পাঁচতারা হোটেলে ব্যানার-ফেস্টুনের অমন সাজসজ্জা দেখে খুব ভ্রম হয়। সংশয় জাগে ভোটারদের জামাই আদর দেখে। সব মোহ কাটিয়ে তাঁরা কি ফুটবলের পক্ষে থাকবেন! ফুটবল কি জিতবে!

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর