০৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সৌন্দর্য আর মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ক্যাসিয়া জাভানিকা

গ্রীষ্মের তীব্র খরতাপে যখন চারপাশ কিছুটা ক্লান্ত ও নির্জীব হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে প্রকৃতিতে প্রাণের সঞ্চার করেছে দৃষ্টিনন্দন ক্যাসিয়া জাভানিকা। ‘লাল সোনাইল’ নামে পরিচিত এই শোভাবর্ধনকারী গাছটি তার গোলাপি ও গাঢ় লাল ফুলে শহরের পরিবেশে এনে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।
শহরের কলেজ রোডে অনলাইন পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। দূর থেকেই নজর কাড়ে এর ছাতার মতো বিস্তৃত ডালপালা এবং ঝরনার মতো নেমে আসা ফুলের সারি। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী এমনকি পর্যটকরাও এ পথে চলাচলের সময় কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ান। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা নিঃশব্দে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

ক্যাসিয়া জাভানিকা মূলত ফ্যাবাসি পরিবারের একটি শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটেছে। গ্রীষ্মকালই এর ফুল ফোটার প্রধান সময়, আর তখনই গাছটি তার পূর্ণ সৌন্দর্যে ধরা দেয়।
স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনাইল’ ছাড়াও গাছটি জাভা ক্যাসিয়া, পিঙ্ক শাওয়ার ট্রি, আপেল ব্লসম ট্রি বা রেইনবো শাওয়ার ট্রি নামেও পরিচিত। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই গাছটি বড় হয়ে চারদিকে ডালপালা ছড়িয়ে প্রাকৃতিক ছাউনি তৈরি করেছে। বর্তমানে পাতার চেয়ে ফুলের আধিক্যই বেশি চোখে পড়ে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো সৃষ্টি করছে এক মনোরম পরিবেশ, যা পথচারীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, শহরের কংক্রিটের ভিড়ে এমন একটি গাছ যেন এক টুকরো স্বর্গ। এটি শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, বরং মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নিচ্ছে। অনেকেই গাছটির নিচে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি শেয়ার করে অন্যদেরও আকৃষ্ট করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের শোভাবর্ধনকারী গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো যেমন পরিবেশকে মনোরম করে তোলে, তেমনি মানুষের মানসিক প্রশান্তিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডের এই ক্যাসিয়া জাভানিকা এখন শুধু একটি গাছ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্য, মুগ্ধতা ও প্রকৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। গ্রীষ্মের দাবদাহে এটি যেন শহরবাসীর জন্য এক টুকরো ছায়া ও শান্তির ঠিকানা।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেবিদ্বারের বারুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

সৌন্দর্য আর মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ক্যাসিয়া জাভানিকা

প্রকাশিত : ০৫:১৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

গ্রীষ্মের তীব্র খরতাপে যখন চারপাশ কিছুটা ক্লান্ত ও নির্জীব হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে প্রকৃতিতে প্রাণের সঞ্চার করেছে দৃষ্টিনন্দন ক্যাসিয়া জাভানিকা। ‘লাল সোনাইল’ নামে পরিচিত এই শোভাবর্ধনকারী গাছটি তার গোলাপি ও গাঢ় লাল ফুলে শহরের পরিবেশে এনে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য।
শহরের কলেজ রোডে অনলাইন পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। দূর থেকেই নজর কাড়ে এর ছাতার মতো বিস্তৃত ডালপালা এবং ঝরনার মতো নেমে আসা ফুলের সারি। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী এমনকি পর্যটকরাও এ পথে চলাচলের সময় কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়ান। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা নিঃশব্দে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

ক্যাসিয়া জাভানিকা মূলত ফ্যাবাসি পরিবারের একটি শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটেছে। গ্রীষ্মকালই এর ফুল ফোটার প্রধান সময়, আর তখনই গাছটি তার পূর্ণ সৌন্দর্যে ধরা দেয়।
স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনাইল’ ছাড়াও গাছটি জাভা ক্যাসিয়া, পিঙ্ক শাওয়ার ট্রি, আপেল ব্লসম ট্রি বা রেইনবো শাওয়ার ট্রি নামেও পরিচিত। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই গাছটি বড় হয়ে চারদিকে ডালপালা ছড়িয়ে প্রাকৃতিক ছাউনি তৈরি করেছে। বর্তমানে পাতার চেয়ে ফুলের আধিক্যই বেশি চোখে পড়ে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো সৃষ্টি করছে এক মনোরম পরিবেশ, যা পথচারীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, শহরের কংক্রিটের ভিড়ে এমন একটি গাছ যেন এক টুকরো স্বর্গ। এটি শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, বরং মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নিচ্ছে। অনেকেই গাছটির নিচে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি শেয়ার করে অন্যদেরও আকৃষ্ট করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের শোভাবর্ধনকারী গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো যেমন পরিবেশকে মনোরম করে তোলে, তেমনি মানুষের মানসিক প্রশান্তিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সব মিলিয়ে, শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডের এই ক্যাসিয়া জাভানিকা এখন শুধু একটি গাছ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্য, মুগ্ধতা ও প্রকৃতির এক জীবন্ত প্রতীক। গ্রীষ্মের দাবদাহে এটি যেন শহরবাসীর জন্য এক টুকরো ছায়া ও শান্তির ঠিকানা।

ডিএস./