বাংলাদেশের সঙ্গে দুলকার সালমানের একটা যোগ আছে। বিষাদগ্রস্ত এক তরুণ একবার তাঁর সিনেমা দেখে ফিরে এসেছিলেন স্বাভাবিক জীবনে। ভালোবেসে ওই ভক্ত নিজের সন্তানের নাম রাখেন প্রিয় নায়ক দুলকার সালমানের নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর পৌঁছে যায় কেরালার মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির তারকা সালমানের কাছে। কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি শুধু সেই ভক্ত নয়, বাংলাদেশি সব ভক্তকে জানিয়েছিলেন ভালোবাসার উষ্ণ বার্তা—‘অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশের সবাইকে ভালোবাসা। কলেজে আমার অনেক বাংলাদেশি বন্ধু ছিল।’ বাংলাদেশি ভক্তদের সঙ্গে এই সম্পর্ক দিনে দিনে বেড়েছে; দুলকারের সিনেমা দেখে, অভিনয়ের প্রেমে পড়ে।
১৯৮৬ সাল। মালয়ালম সিনেমার মহাতারকা ম্যামোট্টির সংসারে বয়ে গেল খুশির বন্যা। ম্যামোট্টির স্ত্রী সুলফাতের কোলজুড়ে যে ছেলেটি এল, তাঁর নাম রাখা হলো দুলকার সালমান। বাবার আঙুল ধরে মলিউডে ঘুরে বেড়িয়েছেন ছোট্ট দুলকার। কে জানত, দিন দিন তিনি হয়ে উঠবেন মালয়ালম সিনেমার ‘রাজকুমার’। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পড়া শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। পড়ালেখা করে পাকা ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য খুললেন গাড়ি ব্যবসার ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মন তো তাঁর উড়ু উড়ু। মালয়ালম সিনেমাতে একদিন যিনি বোহেমিয়ান ‘চার্লি’ হবেন, তাঁকে কি ব্যবসায়ী হিসেবে মানায়? সব ফেলে সিনেমার রুপালি পর্দায় হাজির হলেন ম্যামোট্টির ছেলে।
২০১২ সাল। মালয়ালম ছবি ‘সেকেন্ড শো’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন দুলকার সালমান। তবে নিজেকে মেলে ধরলেন ওই বছরের আরেক ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’–এর ফাইজাল চরিত্রে। আট বছরের ব্যবধানে তাঁর অভিনীত সিনেমার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬। ২৯টিরও বেশি পুরস্কার বাগিয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার—কী নেই সেই তালিকায়! শুধু যে পুরস্কার, তা নয়, ভক্তদের হৃদয়েও আসন করে নিয়েছেন তিনি। বক্স অফিস ভরে গেছে তাঁর সুপারহিট সব ছবিতে। ‘উস্তাদ হোটেল’, ‘ভায়াই মোডি পেসাভুম’, ‘ব্যাঙ্গালোর ডেজ’, ‘হান্ড্রেড ডেজ অব লাভ’, ‘ও কাডাল কানমানি’, ‘চার্লি’, ‘কামাটিপাডাম’, ‘কমরেড ইন আমেরিকা’ কিংবা ‘মহন্তি’—দুলকার সালমান মাত করেছেন প্রায় ছবিতেই।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

























