ঢাকা দুপুর ১:৩০, বুধবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘সংগৃহীত গান নিজের নামে কপিরাইট করলেই নিজের হয়ে যায় না’

চঞ্চল চৌধুরী ও শাওনের গাওয়া ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ ‘আইপিডিসি আমাদের গান’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সংগীতায়োজনে প্রকাশ হয়েছে। গানটি প্রকাশের পরই ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গানটি নিয়ে উঠেছে বিতর্কও। এবার সে বিতর্ক ও গানটি সরিয়ে নেয়া নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা ও গায়ক চঞ্চল চৌধুরী।

আপনার আর শাওনের গাওয়া ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। গানটির কপিরাইট সরলপুর ব্যান্ডের তা কি আগে জানতেন?

গানটি প্রকাশের পর যে ঘটনা ঘটছে তাতে আমি খুবই অবাক হচ্ছি। ‘যুবতী রাধে’ গানটিকে আমরা সবাই প্রচলিত গান বলেই জানতাম। বহু বছর আগের গান এটা। কিছু কথা আর সুর পরিবর্তন হয়েছে। এর কথা, ভাব, সুর সেই প্রমাণ দেয়। তখনকার সাধকেরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে পালা-পুঁথি লিখতেন, নানা পদ রচনা করতেন। এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটা কেউ ভাবেনি। ইউটিউবেও এই গানের অনেকগুলো ভার্সন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতো।

তাহলে আপনি বলছেন গানটির আসল মালিক সরলপুর ব্যান্ড না?

শখ করে আমি মাঝে মাঝে গান করি। আগে আমার কণ্ঠে যে গানগুলো শুনেছেন সেগুলোর প্রায় সবই ফোক গান। গানের কথা একটু সেদিক করে নেন অনেকেই অনেক সময়। বকুল ফুল বকুল ফুল গানটি খুব জনপ্রিয় এখন। এটা কিন্তু সর্বপ্রথম আমার কণ্ঠেই রেকর্ড হয়েছে। এরপর জলের গান গেয়েছে, দিনাত জাহান মুন্নী গেয়েছেন। এখন আমি কি বলবো যে এই গান তারা আমার অনুমতি ছাড়া কেন গাইলো? আমি এই গানের মালিক? বা আমি এই গানের কপিরাইট আমার নামে করে নেবো? ‘মনপুরা’ সিনেমায় ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটির সবগুলো লাইনই ছিলো সংগৃহিত। কিন্তু শেষের অন্তরাটি গিয়াসউদ্দিন সেলিম লিখেছেন। তাই বলে গানটিকে কিন্তু তিনি তার দাবি করেননি। এটা সংগৃহিত গান হিসেবেই পরিচিত।’

তার মানে গানটি সংগৃহীত। সংগৃহীত গানটিই সরলপুর নিজেদের নামে কপিরাইট করেছে?

কোনো গানে কেউ খানিকটা এদিক সেদিক পরিবর্তন করে যদি সেটা তার নিজের বলে দাবি করে তখন তো আসলে বলার কিছু থাকে না। শুনছি সরলপুর ব্যান্ড দাবি করেছে তাদের নামে কপিরাইট আছে ‘যুবতী রাধে’ গানটি তাদের। যদি এমনটা হয় তাহলে আইন তাদের পক্ষে। সেটা মানতেই হবে। তবে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। সরলপুর ব্যান্ড তাদের বক্তব্যে বলছে গানটির ৩০ ভাগ তারা সংগ্রহ করেছেন আর ৭০ ভাগ তাদের লেখা। জানতেই চাই যে ৩০ ভাগ তারা সংগ্রহ করেছেন সেটা কার কার থেকে? তাদের কপিরাইটের বেলায় বিষয়টা কি হবে? আর যে ৭০ ভাগ তারা লিখেছেন সেখানে কোন কোন লাইনগুলো তাদের লেখা? কারণ বেশিরভাগই লাইন মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাইয়ের লেখা মৈমনসিংহ গীতিকার মহুয়া গানের পদের মতো। প্রায় হুবহু। জানিনা কপিরাইট আইনের ব্যাখ্যা বা নিয়মটা কেমন। সেটাই জানতে চাই তাদের কাছে। কীভাবে গানটি তাদের মালিকানায় এলো।

গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। গানটি ইউটিউবে আবার দেখা যাবে?

যে গানটি আমি ও শাওন গেয়েছি সেই গানের অনেক গুলো ভার্সন ইউটিউবে রয়েছে। সেগুলোর কপিরাইট কার? সেগুলো তো অনেকদিন ধরেই রয়েছে সেখানে। অনেক ভিউও আছে। তাহলে সেগুলো না সরিয়ে যখন আমরা গাইলাম এবং গানটি খুব সাড়া পেল তখন কেন সরানো হলো? তবে গানটি ইউটিউবে থাকবে না থাকবে এ বিষয়ে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া দাদা জানাতে পারবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ প্রান্ত

এ বিভাগের আরও সংবাদ