‘কফি হাউস’ গানের আড্ডা ফেলে রেখে জীবনের আড্ডা থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মান্না দে। দেখতে দেখতে সে বিদায়ের আজ ৭ বছর পূর্ণ হলো। ৯৪ বছর বয়সে এই শিল্পী ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর ভোররাত তিনটা ৫০ মিনিটে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রায় সাত দশকের সংগীতজীবনে মান্না দে বাংলা ছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার গান গেয়েছেন। এর মধ্যে যেমন রয়েছে অসংখ্য সিনেমার গান, তেমনই রয়েছে ধ্রুপদী সংগীত, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত আর নজরুলগীতি।
তার বাবা পূর্ণচন্দ্র দে আর মা মহামায়া দে। ১৯১৯ সালের পয়লা মে জন্মগ্রহণ করেন মান্না দে। তার আসল নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। পড়াশোনা করেছেন তিনি কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ আর বিদ্যাসাগর কলেজে।
মান্না দে’র গানে হাতেখড়ি ছোটবেলা থেকেই। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তালিম নিতে শুরু করেন তারই কাকা ১৯২০ ও ৩০-এর দশকের বিখ্যাত গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। কৃষ্ণচন্দ্র দে ছিলেন অন্ধ এবং ভ্রাতুষ্পুত্র মান্না দে ছিলেন একাধারে তার শিষ্য ও সহকারী।
কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে’র সঙ্গে গান গাওয়ার জন্য মান্না দে মুম্বাইতে পাড়ি জমান ১৯৪২ সালে। কিছুকাল পরই সিনেমায় প্লেব্যাকের সুযোগ পেয়ে যান। ‘তামান্না’ ছবিতে সুরাইয়ার সাথে দ্বৈতকণ্ঠে ‘জাগো এয় ঊষা’ গানটি তার প্রথম প্লেব্যাক।
তবে হিন্দি সিনেমায় তার প্রথম একক হিট গান ১৯৪৩ সালে প্রকাশ হওয়া ‘উপর গগন বিশাল’।
উস্তাদ দবির খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে, যখন সিনেমায় প্লেব্যাক করতে শুরু করেন তখনও তিনি গান শিখেছেন উস্তাদ আমান আলি খান ও উস্তাদ রহমান খানের কাছে।
মান্না দে অনেক কালজয়ী গান পেয়েছেন শচীন দেব বর্মণের সঙ্গে। এছাড়াও কাজ করেছেন তার সমসাময়িক কিংবদন্তি সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে। ১৯৪০, ৫০ ও ৬০-এর দশকে প্রচুর কালজয়ী সিনেমায় কালজয়ী অনেক গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
১৯৫৩ সালে ‘কতদূরে আর নিয়ে যাবে বলো’ গানটি তার রেকর্ড করা প্রথম বাংলা গান। ১৯৬০-এর দশক থেকে বাংলা সিনেমায় প্লেব্যাকেও তিনি ছিলেন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কণ্ঠশিল্পী। বাংলা ভাষাতেও রয়েছে তার অনেক বিখ্যাত গান। তারমধ্যে অন্যতম ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’। আরও উল্লেখ করা যায় ‘এই কুলে আমি’, ‘সেই তো আবার কাছে এলে’, ‘ললিতা’, ‘ওকে আজ চলে যেতে বল না’, ‘আমার ভালবাসার রাজপ্রাসাদে’, ‘যখন কেউ আমাকে পাগল বলে’, ‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’, ‘কাহারবা নয় দাদরা বাজাও’, ‘শাওন রাতে যদি’, ‘আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না’, ‘আমি যে জলসাঘরে’ ইত্যাদি।
বাংলা আর হিন্দি ছাড়াও অসমীয়া, মারাঠি, মালয়ালম, কন্নড় প্রভৃতি ভাষাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন মান্না দে। আর সব ভাষাভাষী মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। তারই স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন দেশ বিদেশের অজস্র পুরস্কার।
ভারত সরকার তাকে সম্মানিত করেছে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার প্রদান করে। তিনি পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ সম্মাননাও পেয়েছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ প্রান্ত

























