রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহর ছেলে অনিক আজিজের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এতে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। রবিবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিকেলের প্রধান ডাক্তার অধ্যাপক আ ম সেলিম রেজা জানান, অনিক আজিজ গলায় ইন্টারনেটের তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তার শরীরের আর কোনো জায়গায় চিহ্ন বা আঘাত পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে আত্মহত্যার যে সন্দেহের কথা বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তেও আমরা সে রকম লক্ষণ পেয়েছি।
এদিকে ময়নাতদন্তের সময় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, তার মেয়ে অদৃতা স্মৃতি উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনিকের বোন অদৃতা জানান, অনিকের লাশ হেলিকপ্টারে তাকে সাতক্ষীরায় নেয়া হবে। সেখানে তার মা নাসরীন খান লিপি রয়েছেন।
এর আগে রবিবার সকালে ন্যাম ভবন থেকে অনিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার রাতের যেকোনো সময় আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গনেশ গোপাল বিশ্বাস।
তিনি বলেছিলেন, রবিবার সকালে খবর পেয়ে তারা ৫ নম্বর ভবনের ৬০৪ নম্বর কক্ষে অনিকের ঝুলন্ত লাশ পান। ২৬ বছর বয়সী অনিক ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। ঠিক কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।
এদিকে অনিক কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে সেটা তার স্বজনরাও বলতে পারছেন না। অনিকের চাচা শরিফুল্লাহ কাইসার সুমন বলেন, কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন সেটি এখনো জানা যায়নি।
তিনি জানান, অনিকের বাবা লুৎফুল্লাহর রবিবার সংসদে অধিবেশনে যোগ দিতে সকালে ঢাকাতে পৌঁছে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। এরপর দরজা না খুললে এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে মরদেহটি দেখতে পান তিনি।
শেরে বাংলা নগর থানার এসআই শফিকুর জানান, রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তার গলায় পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। এছাড়া শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পরিবারের লোকজনও মৃত্যুর কারণ বলতে পারছেন না।
এদিকে ঘটনা শোনার পর সাতক্ষীরায় এমপির স্থানীয় বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় করছেন। এলাকাসহ সমগ্র সাতক্ষীরায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন না।

























