বেআইনিভাবে সহায়তা ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মো. মোতালেব হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (প্রেষণে) উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন এবং লেকহেড গ্রামার স্কুলের পরিচালক খালেক হাসান মতিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।
তিনি জানান, ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে রাজধানীর লেকহেড স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে মোতালেব ও নাসির লেকহেড স্কুলের মালিক মতিনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে স্কুল খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল।
তিনি আরো জানান, আজ তাদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।
এই তিনজনের বিরুদ্ধে সোমবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটের সময় বনানী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এসআই মনিরুল ইসলাম মৃদা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে বলে জানিয়েছেন বনানী থানার ডিউটি অফিসার এসআই রফিক।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি বলেন, মামলা নং ৩৬। ১৬১, ১৬২, ১৬৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের একটি দল রাজধানীর গুলশান ও বসিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেছে।
ওই দিন সকাল সাড়ে ৮টায় নাসিরকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ গুলশান এলাকা হতে আটক করা হয়। পরে তার সাথে যোগাযোগের সূত্র ধরে মোতালেবকে আটক করা হয়। অপর এক অভিযানে মতিনকে গুলশান এলাকা থেকে আটক করা হয়েছিল।
এই তিনজনের মধ্যে মোতালেব ও মতিনকে শনিবার বিকালে বছিলা ও গুলশান থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায় বলে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার বনানীর একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেখান থেকে বেরোনোর পর দুপুর থেকে নাসিরের খোঁজ মিলছিল না বলে তার পরিবার জানিয়েছিল।
এদিকে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, অভিযুক্ত যে কেউ হউক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আটকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

























