০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে তরুণরা

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঝুঁকছেন পটুয়াখালীর দুমকির বেকার তরুণরা। বাড়ির উঠান, বাসার ছাদ বা পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করে স্বল্পপরিসরে, অল্প পুঁজিতে কমপক্ষে তিনগুণ বেশি মাছ উৎপাদনের আধুনিক এ চাষ পদ্ধতি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

এতে লাভবান হচ্ছেন প্রকল্প গ্রহণকারীরা। ফলে একের সাফল্যে অন্যরা পদ্ধতিটি গ্রহণ করায় উপজেলায় বাড়ছে এর পরিধি। এতে করে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ অধিক লাভ এবং বেকারত্ব দূরীকরণে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছচাষি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তরুণ যুবক মো. হাসিব, উপজেলা যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জসিম উদ্দিন ও মো. রেজাউল করিম জানান, এ পদ্ধতিতে মাছের চাষ করে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ করা যায়। এতে যে কেউ লাভবান হতে পারেন।

এখানে যেহেতু মাছের বর্জ্য থেকে আবার খাবার তৈরি হয়, তাই ২৫ শতাংশ খাদ্যে শতভাগ মাছ উৎপাদন করা যায়। তাদের মতে, প্রথম অবস্থায় এক লাখ টাকা খরচ করে কেউ ১০ হাজার লিটার পানির দুটি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে তাদের ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ হবে।

পরে তার মাছ ও খাবার ছাড়া অন্য বিনিয়োগ না হওয়ায় লাভের অঙ্কটা আরও বেশি হয়। এই হিসাবে যিনি যত বড় পানির আধার তৈরি করবেন, তার তত বেশি লাভ হবে।  মাছের উৎপাদনের পরিমাণও বেশি হবে।

তারা আরও জানান, পুকুরে মাছ চাষ করলে কিছু না কিছু ওষুধ দিতে হয়। এতে করে মাছের প্রাকৃতিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ন হয়ে অনিরাপদ হয়ে ওঠে। কিন্তু বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ করতে হয় না বলে এটি থাকে অত্যন্ত নিরাপদ ও প্রাকৃতিক।

চাকরির পেছনে না ছুটে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এ পদ্ধতি গ্রহণ করে বেকারত্ব দূর করাসহ লাভবান হতে পারেন বলে অভিমত তাদের।

এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে মাছের চাষ প্রকল্প গ্রহণ করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারেন অবদান। তাদের অভিমত, সরকারি সহায়তায় দিয়ে দুমকি উপজেলাসহ সারা দেশে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের চাষ ছড়িয়ে দেয়া যায়। তবে মাছ উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্থান থেকে বাংলাদেশ প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে এখানকার তরুণ যুবকসহ চাষিরা লাভবান হতে পারেন। এ পদ্ধতিতে একভাগ খাদ্য দিয়ে তিনগুণ মাছ পাওয়া যায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইমরান বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের চাষ একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করায় অর্থদণ্ড

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে তরুণরা

প্রকাশিত : ০৩:২৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ঝুঁকছেন পটুয়াখালীর দুমকির বেকার তরুণরা। বাড়ির উঠান, বাসার ছাদ বা পরিত্যক্ত জমি ব্যবহার করে স্বল্পপরিসরে, অল্প পুঁজিতে কমপক্ষে তিনগুণ বেশি মাছ উৎপাদনের আধুনিক এ চাষ পদ্ধতি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে।

এতে লাভবান হচ্ছেন প্রকল্প গ্রহণকারীরা। ফলে একের সাফল্যে অন্যরা পদ্ধতিটি গ্রহণ করায় উপজেলায় বাড়ছে এর পরিধি। এতে করে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ অধিক লাভ এবং বেকারত্ব দূরীকরণে উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছচাষি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তরুণ যুবক মো. হাসিব, উপজেলা যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম, মো. জসিম উদ্দিন ও মো. রেজাউল করিম জানান, এ পদ্ধতিতে মাছের চাষ করে অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ করা যায়। এতে যে কেউ লাভবান হতে পারেন।

এখানে যেহেতু মাছের বর্জ্য থেকে আবার খাবার তৈরি হয়, তাই ২৫ শতাংশ খাদ্যে শতভাগ মাছ উৎপাদন করা যায়। তাদের মতে, প্রথম অবস্থায় এক লাখ টাকা খরচ করে কেউ ১০ হাজার লিটার পানির দুটি বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে তাদের ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ হবে।

পরে তার মাছ ও খাবার ছাড়া অন্য বিনিয়োগ না হওয়ায় লাভের অঙ্কটা আরও বেশি হয়। এই হিসাবে যিনি যত বড় পানির আধার তৈরি করবেন, তার তত বেশি লাভ হবে।  মাছের উৎপাদনের পরিমাণও বেশি হবে।

তারা আরও জানান, পুকুরে মাছ চাষ করলে কিছু না কিছু ওষুধ দিতে হয়। এতে করে মাছের প্রাকৃতিক গুণাগুণ অক্ষুণ্ন হয়ে অনিরাপদ হয়ে ওঠে। কিন্তু বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ করতে হয় না বলে এটি থাকে অত্যন্ত নিরাপদ ও প্রাকৃতিক।

চাকরির পেছনে না ছুটে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এ পদ্ধতি গ্রহণ করে বেকারত্ব দূর করাসহ লাভবান হতে পারেন বলে অভিমত তাদের।

এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে মাছের চাষ প্রকল্প গ্রহণ করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ দেশের অর্থনীতিতে রাখতে পারেন অবদান। তাদের অভিমত, সরকারি সহায়তায় দিয়ে দুমকি উপজেলাসহ সারা দেশে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের চাষ ছড়িয়ে দেয়া যায়। তবে মাছ উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ স্থান থেকে বাংলাদেশ প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে এখানকার তরুণ যুবকসহ চাষিরা লাভবান হতে পারেন। এ পদ্ধতিতে একভাগ খাদ্য দিয়ে তিনগুণ মাছ পাওয়া যায়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইমরান বলেন, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছের চাষ একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান