০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, ১৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা সক্রিয় একটি ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে নওগাঁর পোরশা থানার সরাইগাছি থেকে খাট্টাপাড়া গামী সড়কের ফকিরের মোড়ের পূর্বে একটি ব্রিজের উপর পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা রাস্তার দুই পাশে রশি টানিয়ে একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তিন আরোহীকে জিম্মি করে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেল একইভাবে থামিয়ে আরও তিনজনকে আটক করে তারা।

পরে ভিকটিমদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরপরই পোরশা থানায় মামলা দায়ের করা হলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পাল এবং ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে গঠিত দলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও AI বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার ক্লু শনাক্ত করে। এরপর টানা ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাটসহ নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারজন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার গোলাম মোস্তফা ওরফে শ্যামল (৫৫), সাপাহার উপজেলার আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩) এবং মহাদেবপুর উপজেলার মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬)।

ডিবি পুলিশের অভিযানে নওগাঁ সদর এলাকার একটি বিলের টং ঘর থেকে মূলহোতা শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হাসুয়া, ধারালো ছুরি, হাতুড়ি, প্লাস, টর্চলাইট, কাঁচি, দা, নাইলনের রশি, ব্যারিকেড তৈরির মোটা রশি, ভিকটিমের গলার মালা, ব্যবহৃত পোশাক ও কালো মাস্ক উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে সাপাহারের আবু তাহের ও তার ছেলে কামাল হোসেনকে নওগাঁ সদরের একটি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন এবং দুটি কালো মাস্ক উদ্ধার করা হয়।

মহাদেবপুরের শিবরামপুর এলাকা থেকে মোস্তাক আহমেদ জাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তিনি পূর্বেও ডাকাতির মামলায় পাঁচ বছর কারাভোগ করেছেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শ্যামলের বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে ২টি, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ ৫টি, কামালের বিরুদ্ধে ৩টি চুরির মামলা এবং জাহিদুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারী’কে গ্রেফতার করেছে: সিটিটিসি

নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, ১৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত : ০৩:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে আন্তঃজেলা সক্রিয় একটি ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে নওগাঁর পোরশা থানার সরাইগাছি থেকে খাট্টাপাড়া গামী সড়কের ফকিরের মোড়ের পূর্বে একটি ব্রিজের উপর পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা রাস্তার দুই পাশে রশি টানিয়ে একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তিন আরোহীকে জিম্মি করে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেল একইভাবে থামিয়ে আরও তিনজনকে আটক করে তারা।

পরে ভিকটিমদের পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাতরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরপরই পোরশা থানায় মামলা দায়ের করা হলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পাল এবং ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে গঠিত দলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও AI বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার ক্লু শনাক্ত করে। এরপর টানা ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাটসহ নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চারজন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার গোলাম মোস্তফা ওরফে শ্যামল (৫৫), সাপাহার উপজেলার আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩) এবং মহাদেবপুর উপজেলার মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬)।

ডিবি পুলিশের অভিযানে নওগাঁ সদর এলাকার একটি বিলের টং ঘর থেকে মূলহোতা শ্যামলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হাসুয়া, ধারালো ছুরি, হাতুড়ি, প্লাস, টর্চলাইট, কাঁচি, দা, নাইলনের রশি, ব্যারিকেড তৈরির মোটা রশি, ভিকটিমের গলার মালা, ব্যবহৃত পোশাক ও কালো মাস্ক উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে সাপাহারের আবু তাহের ও তার ছেলে কামাল হোসেনকে নওগাঁ সদরের একটি আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত একটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন এবং দুটি কালো মাস্ক উদ্ধার করা হয়।

মহাদেবপুরের শিবরামপুর এলাকা থেকে মোস্তাক আহমেদ জাহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, তিনি পূর্বেও ডাকাতির মামলায় পাঁচ বছর কারাভোগ করেছেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শ্যামলের বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে ২টি, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ ৫টি, কামালের বিরুদ্ধে ৩টি চুরির মামলা এবং জাহিদুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ডাকাত চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিএস./