ঢাকা বিকাল ৪:০৫, রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভ্যাকসিনের নিবন্ধন শুরু ২৬ জানুয়ারি

সংশয় ও বিতর্কের অবসান

করোনা ভ্যাকসিন সময়মতো দেশে আসা নিয়ে সংশয় ও বিতর্কের অবসান করলো সরকার। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামি ২৫ জানুয়ারির মধ্যেই দেশে করোনার টিকা আসছে। আর ২৬ জানুয়ারি থেকে জনসাধারণকে করোনা টিকা পেতে সরকারি অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। তবে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন করতে হবে না।

সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে আসবে। এর দুই দিন পর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওয়ার হাউস থেকে তা বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।

সোমবার দুপুরে একই তথ্য জানানো হয়েছে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জানুয়ারি মাসের শেষ নাগাদ সেরামের ভ্যাকসিন দেশে আসবে।

কয়েকদিন আগেই ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে, ভারত সরকার নিজেদের প্রয়োজন না মিটিয়ে টিকা রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই খবরে টিকা প্রাপ্তি নিয়ে সংশয় ও বিতর্ক তৈরি হয় দেশে। তবে খবরটি সকল কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়েই টিকা আসবে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মার সঙ্গে সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত একই সময় সেরামের টিকা পাবে। ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশেও জানুয়ারির শেষ নাগাদ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। সারাদেশে প্রতিটি জেলায় টিকা পৌঁছানো এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এছাড়া নিবন্ধনের জন্য অ্যাপও প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রথম চালানে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাবে বাংলাদেশ। এখান থেকে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা জনগোষ্ঠী টিকা পাবে। পরে প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ৬ মাসে সেরাম থেকে ৩ কোটি ডোজ টিকা আসবে বাংলাদেশে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকেও প্রায় ২ কোটি টিকা পাবে বাংলাদেশ।
সোমবারের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক জানান, ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার বাইরের সাধারণ মানুষকে নিবন্ধন করতে হবে। ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। এ নিবন্ধন করা যাবে অনলাইনেও। তবে অনলাইনটি এখনো সম্পন্ন হয়নি। জেলা-উপজেলায় ভ্যাকসিন সেন্টারেও এ নিবন্ধন করা যাবে।

নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র। তাছাড়া নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্ভব নয়। কারণ জাতীয় পরিচয়পত্র ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর বয়স যাচাই করা হবে। একইসঙ্গে ভাকসিন নেয়ার পর সনদ দেয়া হবে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য আলাদা টিম গঠন করা হচ্ছে। এছাড়াও কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ